প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বেহাল রাস্তার কারণে বাড়ছে মালামাল পরিবহন ব্যয়

নাজমুল হুসাইন: হাজারীবাগে চামড়া পরিবহনের প্রধান বাহন ছিল ঠেলাগাড়ি। এতে খরচও ছিল কম। কিন্তু সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে ঠেলাগাড়ি অথবা ভ্যানে চামড়া পরিবহন করা যায় না। এক ট্যানারি থেকে অন্য ট্যানারিতে চামড়া নিতে হচ্ছে পিকআপ বা ট্রাকে করে। যাতে গুনতে হচ্ছে কয়েকগুণ ভাড়া।

শিল্পনগরীতে বেকার বসে থাকা ঠেলাগাড়ি চালকরা জানান, এখানে রাস্তাঘাট এতটাই বেহাল যে, ঠেলাগাড়িতে চামড়া পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় গর্তে পড়ে ঠেলাগাড়ি ভেঙে যায়। আবার ঠেলাগাড়ি বা ভ্যানগাড়ি থেকে চামড়া ও মালামাল পড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ারও ঘটনা ঘটেছে অনেকবার। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে এসব পরিবহন। এমনকি চলমান নির্মাণকাজের সব উপকরণ ও যন্ত্রাংশও আনা-নেওয়া করতে হচ্ছে ট্রাকের মতো বড় যানে।

সাভার শিল্পনগরীর ছোট-বড় খানা-খন্দসহ আধাপাকা রাস্তায় বৃষ্টি হলে দশা আরও বেহাল হয়ে পড়ে। সে সময় রাস্তায় জমে যায় হাঁটুপানি। এ পানিতে রয়েছে ট্যানারি বর্জ্যসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ। তা পরিণত হয় বিষে। বৃষ্টি শেষে সেই পানি নামে কয়েক দিন পর। সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে দুর্গন্ধ ও জš§ নেয় মশা। এর মধ্যেই চলে পরিবহন।

রাস্তাঘাটের এমন পরিস্থিতিকে ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দায়ী করে ট্যানারি মালিকরা জানিয়েছেন, প্রক্রিয়াকরণ কাজের জন্য এক ট্যানারি থেকে অন্য ট্যানারিতে মালামাল পরিবহনে কয়েকগুণ ভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে চামড়া প্রক্রিয়াকরণ খরচ বেড়ে যাচ্ছে। প্রভাব পড়ছে দামেও। বেহাল রাস্তায় এখানে ট্রাক বা পিকআপ ছাড়া অন্য যানবাহনে এখন চামড়া পরিবহন সম্ভব হয় না বলে জানান তারা।

জানতে চাইলে মদিনা ট্যানারির ম্যানেজার টিপু সুলতান বলেন, ‘আগে হাজারীবাগে প্রতি পিস চামড়া এক টাকা দরে এখান থেকে ওখানে ঠেলাগাড়িতে আনা-নেওয়া করা যেত। কিন্তু এখানে পিকআপে সেই খরচ হয় প্রায় প্রতি পিস চার টাকা। দূরত্ব বাড়ার সঙ্গে রাস্তাঘাটের এমন বেহাল অবস্থা আমাদের দারুণ বিপদে ফেলছে।’

সরেজমিন সাভার চামড়াশিল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শিল্পনগরীর মাঝে প্রধান দুটি সড়ক বেশি ভাঙাচোরা। এছাড়া পেছনের দিকে ও মাঝের অনেক সড়ক এখনও আধাপাকা। প্রধান সড়কসহ সব খানেই রাস্তার মধ্যে বড় খাদ তৈরি হয়েছে, যাতে একবার গাড়ির চাকা পড়লে আর ওঠানো সম্ভব হচ্ছে না। অন্য আরেক গাড়ির সহায়তায় সেই গাড়ি টেনে তুলতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় পানি জমে থাকায় সেসব খানাখন্দ দেখাও যায় না। এতে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে।

নগরীতে পানি নিষ্কাশনের ড্রেনের কাজ সম্পন্ন হলেও বিভিন্ন ট্যানারির নির্মাণসামগ্রী রেখে সেসবও বন্ধ হয়ে রয়েছে। ফলে বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি জমে যাচ্ছে রাস্তার ওপরই। এসব অবস্থার জন্য ট্যানারি মালিকরা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনকে (বিসিক) দায়ী করছেন।

এদিকে শিল্পনগরীতে বিসিকের একটি অফিস থাকলেও মন্তব্যের জন্য গত ১৩ জুলায় বৃহস্পতিবার সেখানে কাউকেই পাওয়া যায়নি। এরপর মুঠোফোনে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘সড়ক সবই একসময় ভালো ছিল। কিন্তু পুরো শিল্পনগরীজুড়ে এখন অবকাঠামো নির্মাণের কাজ হচ্ছে। এ কারণে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নির্মাণকাজ শেষ হলে আবার সেগুলো সংস্কার করা হবে।’

কিন্তু ট্যানারি মালিক ও শ্রমিকদের অভিযোগ, সাময়িকভাবেও এসব রাস্তাঘাট ইট-বালু দিয়ে সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে। তবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। বিসিক প্রকল্পের সব বিষয় নিয়েই গড়িমসি করছে।

সালমা ট্যানারির স্বত্বাধিকারী ও বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত উল্লাহ শেয়ার বিজকে বলেন, ‘রাস্তার কারণে চামড়া প্রক্রিয়াকরণের ব্যয় বাড়ছে। কারণ এখন আটটি ছাড়া কোনো ট্যানারির সম্পূর্ণভাবে প্রক্রিয়াকরণ শুরু করতে পারেনি। এতে যারা এখন কাজ করছেন তারা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মালামাল নিচ্ছেন। সে সময় রাস্তার কারণে অধিক ভাড়ায় পিকআপ বা ট্রাক নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। এতে আলাদা খরচ দিতে হচ্ছে লেবারদের।’