মত-বিশ্লেষণ

বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে পোশাক পণ্যে অতিনির্ভরতা উদ্বেগের নয় কি?

তৌহিদুর রহমান: বর্তমানে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে যেগুলোকে সবচেয়ে বড় হুমকি মনে করে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র, সেগুলোর মধ্যে ইরান শীর্ষস্থানীয়। এ কারণে ইরানকে দুর্বল করতে যুক্তরাষ্ট্র তার পুরোনো অস্ত্র ব্যবহার করছে দীর্ঘদিন ধরেই, তা হলো অর্থনৈতিক অবরোধ। তবে ২০১৫ সালে ছয় জাতির মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় ইরান পরমাণু চুক্তি। সে অনুযায়ী তাদের ওপর থেকে বেশকিছু অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। আর সেই সুযোগেই অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত তেল বিক্রির সুযোগ পায় ইরান। ফলে অর্থনীতিও চাঙা হতে শুরু করে, নানা ধরনের সংকটও কাটিয়ে উঠতে শুরু করে। তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোড়া হিসেবে খ্যাত ইসরাইল ও পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ভালো লাগেনি।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইসরাইলের চাপ ও প্রচেষ্টায় পরমাণু চুক্তি থেকে নিজেদের বের করে আনেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আবার ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। আর এই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্যবস্তু জ্বালানি তেল। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে এখন ব্যাপক চাপে ইরানের অর্থনীতি। দ্রব্যমূল্য, মূল্যস্ফীতি সব হু-হু করে বাড়ছে। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয় নিয়ে আলোচনায় ইরান প্রসঙ্গ আসছে কী কারণে? এর জবাব হলো, জ্বালানি তেলের মতো একক পণ্যে ইরানের অতিনির্ভরতা এবং বিপদে পড়ার কারণেই এ প্রসঙ্গের অবতারণা।
স্পষ্ট ভাষায় বলতে গেলে দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের অনেক দেশই এককভাবে জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল। ফলে কোনোভাবে এ পণ্যের ওপর চাপ এলে গোটা অর্থনীতিই সংকটে পড়ে যায়। ইরানও সে পরিস্থিতিই এখন মোকাবিলা করছে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধে পড়ে। অপরদিকে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশই আসে গার্মেন্ট পণ্য রফতানি থেকে। এ কথা সত্য, আমাদের দেশের ওপর অবরোধ কিংবা এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার শঙ্কা তেমন নেই। কিন্তু কোনো কারণে যদি এ খাত সংকটে পড়ে, তাহলে আমাদের দেশের অর্থনীতিতেও বড় সংকট তৈরি হওয়ার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে ভেনেজুয়েলার কথা বলা যায়। স্মরণকালের মধ্যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে দেশটি। বিভিন্ন সূত্রের তথ্যানুযায়ী, ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগই নির্ভর করে তেল বিক্রির ওপর। স্বর্ণ ও বক্সাইটের মতো মূল্যবান খনিজ সম্পদও তাদের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রেখেছে। একসময় ভেনেজুয়েলার জিডিপির ৫০ ভাগই নির্ভর করত তেলের ওপর; প্রতি ১০০ ডলারের মধ্যে ৯৭ ডলার আসত তেল থেকে। জ্বালানি তেলের ওপর এই অতিনির্ভরতাই কাল হয়েছে ভেনেজুয়েলার। যখন তেল উৎপাদন স্বাভাবিক ছিল তখন অর্থনীতিও চলেছে ভালোভাবে। কিন্তু যখনই যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা অবরোধের কারণে তেল রফতানি কমে গেছে, তখনই চরম মন্দার মধ্যে পড়ে গেছে দেশটির অর্থনীতি। একক পণ্যনির্ভরতা ও অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনতে না পারা, এর পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশটিকে গভীর সংকটে ফেলে দিয়েছে।
এই একক পণ্যনির্ভরতার ব্যাপারটি বিশ্বের আরও অনেক দেশেরই মাথাব্যথার কারণ, যে কারণে তারা অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার জন্য ব্যাপক সংস্কারকর্ম গ্রহণ করছে। এর অতি সাম্প্রতিক উদাহরণ সৌদি আরব। দীর্ঘদিন ধরেই তেলনির্ভরতা রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির। কিন্তু এই একক পণ্যের ওপর নির্ভরতার বিপদ বুঝতে পেরে অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সৌদি শাসকরা। এর অন্যতম লক্ষ্য করা হয়েছে পর্যটন খাতকে। দীর্ঘদিন ধরে এ খাতে ভিসা না দেওয়া হলেও এখন তা উš§ুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। বৈদেশিক বিনিয়োগ আনতেও নানা ধরনের ছাড় দিচ্ছে দেশটি।
প্রাকৃতিক গ্যাস ও জ্বালানি তেলনির্ভর মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কাতার। ছোট্ট দেশটির খনিজ সম্পদ ছাড়া বিকল্প আয়ের তেমন কোনো পথও ছিল না। তবে সে অবস্থায়ও বসে থাকেনি দেশটি। তেল-গ্যাস বিক্রির বিশাল অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন খাতে তারা ছড়িয়ে দিয়েছে। ফলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসরসহ উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের ওপর অবরোধ আরোপ করলেও তার প্রভাব তেমন পড়েনি কাতারের অর্থনীতিতে, কারণ একক পণ্যনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের অর্থনীতিতে ব্যাপক বৈচিত্র্য আনতে পেরেছে কাতার, যা কঠোর অবরোধ থেকে বেরিয়ে আসতে সহায়তা করেছে দেশটিকে, অর্থনীতিও বিপদের হাত থেকে বেঁচে গেছে।
জ্বালানি তেল বা খনিজ সম্পদে বাংলাদেশ খুব বেশি সমৃদ্ধ বলা চলে না। তবে অন্য একটি পণ্যে এদেশ ব্যাপক অগ্রগতি লাভ করেছে। তা হলো তৈরি পোশাক। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গার্মেন্ট খাতের বিশাল ভূমিকার কথা কারও অজানা নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে ওঠা হাজারো গার্মেন্ট কারখানায় কর্মসংস্থান হয়েছে লাখ লাখ মানুষের। এর মধ্যে বিপুলসংখ্যকই নারী। গার্মেন্ট কাঁচামাল তৈরির কারখানার সংখ্যাও অনেক। সেখানেও অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, যার সুফল পাচ্ছে দেশের অর্থনীতি।
দেশের পোশাকের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রফতানিতে গার্মেন্ট খাতের অবদান সর্বোচ্চ। সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, মোট রফতানিতে এ খাতের অবদান ৮৪ শতাংশ। অবশ্য গার্মেন্ট খাতের মূল্য সংযোজন নিয়ে হতাশা ছিল দীর্ঘদিন। গার্মেন্ট কারখানায় তৈরি পোশাকের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের বিরাট অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। আশার কথা হলো গার্মেন্ট খাতে মূল্য সংযোজনের পরিমাণ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশেই এখন তৈরি পোশাকের কাঁচামালের বিরাট অংশ উৎপাদিত হচ্ছে। সাফল্যের এ ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এখন মূল্য সংযোজন শতভাগ করার লক্ষ্য পূরণে চেষ্টা করা প্রয়োজন।
গণমাধ্যমের খবর বলছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কাঁচামাল আমদানি বিবেচনায় তৈরি পোশাক রফতানিতে মূল্য সংযোজন হয়েছে ৬৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। অর্থাৎ রফতানি থেকে প্রাপ্ত তিন হাজার ৪১৩ কোটি ৩২ লাখ ডলারের মধ্যে এক হাজার ২১৭ কোটি ৮৩ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে কাঁচামাল আমদানিতে। আগের অর্থবছরে এ খাতে মূল্য সংযোজন ছিল ৬০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। গার্মেন্ট খাতের জন্য এটি দারুণ খবর নিঃসন্দেহে। এখন মূল্য সংযোজনের ঊর্ধ্বমুখী ধারা ধরে রাখাই মূল চ্যালেঞ্জ। অবশ্য সে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পথে ভালোভাবেই রয়েছে বাংলাদেশ।
তৈরি পোশাক খাত বৈদেশিক মুদ্রার বড় উৎস হলেও এর বড় অংশ চলে যায় কাঁচামাল আমদানিতে। কাঁচামাল দেশে উৎপাদনের মাধ্যমে এ খাতের মূল্য সংযোজন বাড়ানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরামর্শ দিয়ে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। সে অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে গার্মেন্ট খাতে সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজন আশাবাদী হওয়ার মতো খবর নিঃসন্দেহে। তবে এটাও মনে রাখতে হবে, মূল্য সংযোজনের ক্ষেত্রে এখনও ৩৫ শতাংশের বেশি ঘাটতি রয়েছে। এটি পূরণে আরও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে হবে। যেসব কাঁচামাল এখনও বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়, তা দেশেই উৎপাদনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। মূল্য সংযোজন শতভাগ করতে পারলেই গার্মেন্ট খাত সাফল্যের শিখরে পৌঁছাবে বলে মনে করি।
তবে এ খাত নিয়ে আলোচনার মূল কারণ হলো অন্যখানে। পোশাক রফতানির ওপর আমাদের অর্থনীতির বিশাল নির্ভরতা রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সিংহভাগই আসে এ খাত থেকে। উদ্বেগের জায়গাটা এখানেই। কারণ তৈরি পোশাকের বাইরে তেমন কোনো নির্ভরযোগ্য রফতানি পণ্য আমরা তৈরি করতে পারছি না। ফলে কোনো কারণে গার্মেন্ট খাত ব্যর্থ হলে তা বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। যদিও কম দাম ও শ্রমিক প্রাপ্যতার দিক থেকে আমরা বেশ এগিয়ে থাকার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে ভালো অবস্থানে আছি, কিন্তু তা আমাদের পুরোপুরি স্বস্তি দিতে পারছে না।
আমাদের মনে রাখতে হবে, বিশ্বজুড়ে তৈরি পোশাক খাতে শক্ত প্রতিযোগী ক্রমেই বাড়ছে। আমাদের দেশের গার্মেন্ট খাতের জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠছে ভিয়েতনাম। দেশটি যে গতিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে শিগগিরই বাংলাদেশকে তারা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পরিসংখ্যান বলছে, সাত-আট বছর আগেও রফতানি বাজারে ভিয়েতনামের দখল ছিল শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ। অথচ ২০১৮ সালে রফতানি আয়ে তাদের বাজার দখল ছিল পাঁচ দশমিক ৯ শতাংশ। বিপরীতে আট বছর আগে বিশ্ববাজারে পোশাক রফতানি আয়ে বাংলাদেশের দখল ছিল দুই দশমিক ছয় শতাংশ। এখন সে পরিমাণ বেড়ে হয়েছে মাত্র ছয় দশমিক পাঁচ শতাংশ। অর্থাৎ ভিয়েতনাম যে গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, সে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারলেই আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানিকারক দেশে পরিণত হবে। বাংলাদেশ চলে যাবে তৃতীয় স্থানে। প্রবৃদ্ধির এ ধারা চলতে থাকলে শিগগিরই ভিয়েতনাম বাংলাদেশকে টপকে যাবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সাম্প্রতিক একটি পরিসংখ্যানও।
তবে সে অবস্থানে থেকেও স্বস্তি নেই। চীনারা পোশাক রফতানিতে শীর্ষস্থান দখল করে আছে দীর্ঘদিন ধরে, ভারতও এগিয়ে যাচ্ছে। এ পথে রয়েছে এশিয়া অঞ্চলেরই আরও কিছু দেশ। সব মিলিয়ে গার্মেন্ট খাতে যেভাবে প্রতিযোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তাতে এ খাতকে কোনোভাবেই ঝুঁকিমুক্ত বলা সম্ভব নয়। দেশে এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরাও দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, সতর্ক করে দিচ্ছেন। এখন প্রশ্ন হলো গার্মেন্ট খাতে এত নির্ভর করে চুপচাপ বসে থাকার সুযোগ কি আসলেই আছে?
এই প্রশ্নের জবাব একটু ভিন্নভাবে দেওয়া যেতে পারে। প্রথম কথা হলো, গার্মেন্ট খাত আমাদের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য এ খাতকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। গার্মেন্ট খাতের উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে এর যে সমস্যাগুলো আছে, সেগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে। বিশেষত শ্রমিকের দক্ষতা ও মজুরি, আস্থাহীনতা, কর্মপরিবেশ, ক্রেতাদের শর্ত, বিনিয়োগ, বিক্রয় পদ্ধতি, গ্যাস-বিদ্যুৎসহ নানা বিষয়ে নিজেদের সমস্যার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব সমস্যা সমাধান করতে পারলে গার্মেন্ট খাতের অগ্রগতি ধরে রাখা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকেও মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
দ্বিতীয় কথা হলো, রফতানি খাতের জন্য সম্ভাবনাময় পণ্যগুলোর দিকেও আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে। একসময় চা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ রফতানি পণ্য হিসেবে থাকলেও এখন আমদানি করতে হয়। চামড়া খাতের অগ্রযাত্রা গত কয়েক বছরে থমকে গেছে। ক্রমেই কমছে দারুণ সম্ভাবনায় এ খাতের রফতানি। এছাড়া জাহাজশিল্প, পাটপণ্য, চিংড়িসহ নানা ধরনের পণ্য রফতানিতে অগ্রগতি হয়েছিল অনেক; কিন্তু সবই হঠাৎ করে যেন উল্টো পথে হাঁটা শুরু করেছে। দারুণ সম্ভাবনা তৈরি করেও খাতগুলো কেন দাঁড়াতে পারছে না, তার কারণ অনুসন্ধান করে সমাধান করতে হবে। পর্যটন খাতেও আমাদের দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, ষাটগম্বুজ মসজিদ, তিন পার্বত্য জেলা, মহাস্থানগড়সহ দারুণ সব পর্যটন স্পট রয়েছে আমাদের। বিশ্বে এগুলোকে জনপ্রিয় করে তুলতে পারলে পর্যটন খাত হতে পারে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় উৎস।
শেষ কথা হলো, একক পণ্যের ওপর নির্ভর করে কোনো দেশের অর্থনীতি চালিয়ে নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ অনেক দেশ সে ঝুঁকির কথা বুঝতে পেরেই অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার কাজে মনোযোগ দিয়েছে। তবে ভেনেজুয়েলা এতে ব্যর্থ হওয়ায় তার কঠিন ফল ভোগ করছে। ইরানও একই ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। অবশ্য আগের তুলনায় এখন ইরানের অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য এসেছে অনেক। এসব ঘটনাপ্রবাহ থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদেরও গার্মেন্টের মতো একক খাতে নির্ভর করে বসে থাকার সুযোগ নেই। ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে আমাদের বিকল্প চিন্তা করতে হবে। সেইসঙ্গে গার্মেন্ট খাতের অগ্রগতি ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

গণমাধ্যমকর্মী

touhiddu.r[email protected]

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..