Print Date & Time : 23 June 2021 Wednesday 6:37 pm

বৈদ্যুতিক গাড়ির পরিবর্তে সবুজ জ্বালানিনির্ভর গাড়ি আনছে পোরশে

প্রকাশ: May 4, 2021 সময়- 01:14 am

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বৈদ্যুতিক গাড়ির পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব সবুজ জ্বালানিনির্ভর গাড়ি আনছে জার্মানির গাড়িনির্মাতা কোম্পানি পোরশে। এজন্য প্রাথমিকভাবে ২০ মিলিয়ন ইউরো (২৫ মিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ করবে পোরশে। যেখানে মার্কিন জায়ান্ট টেসলার মতো বড় বড় অটো কোম্পানি বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকছে, সেখানে জার্মান অটো মেকার কোম্পানি পোরশে এমন একটি জ্বালানির বিকাশ করবে, যা তার আইকনিক পেট্রোলচালিত গাড়িগুলোকে ডিকার্বনাইজেশন (শূন্য কার্বণ নিঃসরণ) যুগে পৌঁছে দেবে। খবর: নিক্কে এশিয়া।

পোরশে এমন এক প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছে, যেখানে ই-ফুয়েল এ ‘গ্রিন হাইড্রোজেন’ বিকাশ করবে, যা বায়ুমণ্ডল থেকে প্রাপ্ত কার্বন ডাই-অক্সাইডের সঙ্গে বিশেষ শক্তির মাধ্যমে উৎপন্ন হবে। এক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়া থেকে উৎপাদিত মিথেনল পেট্রোলে পরিণত হয়। পোরশের দাবি, প্রচলিত পেট্রোলের তুলনায় এই গ্যাস কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনকে ৯০ শতাংশ হ্রাস করবে।

এ বিষয়ে গতকাল পোরশের ডিরেক্টর ইন চার্জ (উন্নয়ন ও গবেষণা) মাইকেল স্টেইনার বলেন, তাদের কোম্পানির উদ্ভাবিত ই-ফুয়েল হলো এক ধরনের সিন্থেটিক বৈদ্যুতিক জ্বালানি, যেক্ষেত্রে গ্রাহকরা অপ্রয়োজনীয় কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন না করে প্রচলিত জ্বালানি ইঞ্জিন ব্যবহার করে উচ্চ-পারপরম্যান্সে গাড়ি চালাতে পারবেন।

এজন্য পোরশে এরই মধ্যে পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশটির পোলে সিমেন্স এনার্জি নামে একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে, যেখানে জার্মানির অন্য অংশীদারও রয়েছে। ওই প্লান্টটিতে প্রাথমিকভাবে পোরশে ২০ মিলিয়ন ইউরো (২৪ দশমিক এক মিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ করবে। এখান থেকে পরবর্তী বছর তথা ২০২২ সালের এক লাখ ৩০ হাজার লিটার ই-ফুয়েল উৎপাদিত হবে। আর ২০২৬ সাল নাগাদ বছরে ৫৫০ মিলিয়ন লিটার ই-ফুয়েল উৎপাদিত হবে, যা এক মিলিয়ন গাড়ি চালানোর জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি হবে।

পোরশে জানায়, তাদের অন্য গাড়ির সঙ্গে যারা ৯১১টি স্পোর্টি গাড়ি কিনেছেন, তাদেরও ওই ই-ফুয়েল দেয়া হবে; তবে তা ডিলারশিপের মাধ্যমে।

গত বছর পোরশে প্রায় ৩৪ হাজার গাড়ি বিক্রি করে। এগুলোর মধ্যে ৯১১টি স্পোর্ট গাড়ি রয়েছে, যা পোরেশের স্পোর্ট ইউটিলিটি বিভাগ দেখাশোনা করে। পোরেশে জানায়, তাদের ওই ৯১১টি স্পোর্ট গাড়িতে প্রায় ৫০ শতাংশ মুনাফা হয়েছে। কারণ ই-ফুয়েলের কারণে কার্বন নির্গমন কম হয়েছে।

পোরশের ডিরেক্টর ইন চার্জ (উন্নয়ন ও গবেষণা) মাইকেল স্টেইনার আরও বলেন, আমরা এ পদ্ধতি আবিষ্কারে বিশ্বে কত দ্রুত তা জানি না। প্রচলতি বা হাইব্রিড গাড়িকে পুরোপুরি বৈদ্যুতিক গাড়িতে পরিবর্তন আনতে কিন্তু আমাদের প্রধান অন্তরায় হচ্ছে জ্বালানির দাম। কারণ দিন দিন জ্বালানির দাম বাড়ছে।

পোরশে আশা করছে, ২০২২ সাল নাগাদ তাদের উৎপাদিত ই-ফুয়েলে লিটারপ্রতি ১০ ডলার খরচ পড়বে। তবে ২০২৬ অথবা ’২৭ সাল নাগাদ ব্যাপক উৎপাদন হলে এই খরচ কমে দুই ডলারে নেমে আসবে। মাইকেল স্টেইনার বলেন, বিকল্প জ্বালানির ক্ষেত্রে ই-ফুয়েলের রয়েছে একটি প্রতিযগিতামূলক বাজার, যা কর, পরিবহন ও গ্রাহকের চাহিদার ওপর নির্ভর করে। তবে আরেকটি প্রধান সমস্যা হলো জ্বালানির শক্তি হ্রাস। কারণ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় হাইড্রোজেন থেকে ফুয়েল কনভার্ট করলে এক-ষষ্টাংশ শক্তি কমে যায়। তিনি বলেন, যেহেতু এ প্রক্রিয়াটি পরিবেশবান্ধব তাই আমরা এগুচ্ছি। এজন্য পোরশে চিলির পাতাগোনিয়া অঞ্চলে প্লান্ট গড়ে তুলছে, কারণ এই অঞ্চলে সারা বছর  প্রবল বাতাস এবং সবুজ বিদ্যুৎ সরবরাহ হতে থাকে।

গত বছর পোরশে বিদ্যুৎচালিত গাড়ির পরিবর্তে গ্যাসোলিন-নির্ভর গাড়ি বাজারজাত করে, যেখানে ব্যাপক সাড়া পায় কোম্পানিটি। ২০২০ সালে কোম্পানিটি টেকন সেডন মডেলের ২০ হাজার গাড়ি বিক্রি করে।

এ কোম্পানিটি আগামী বছর মেকন ও কেইনি এসইউভি নামে পানামেরা সেডান বৈদ্যুতিক গাড়িও বাজারে আনতে চায়। এক্ষেত্রে ২০৩০ সাল নাগাদ ৮০ শতাংশ নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনের ইচ্ছা রয়েছে কোম্পানিটির। 

প্রসঙ্গত, অন্য পোরশের মতো অন্য অটোমেকার কোম্পানিগুলোও এখন বৈদ্যুতিক গাড়ির পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব সবুজ জ্বালানিনির্ভর গাড়ির দিকে ঝুঁকছে। গত ফেব্রুয়ারিতেই মাজডাস এ বিষয়ে একটি চুক্তি সই করেছে। আর জাপান অটোমোবাইল মেনুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন টয়োটার সঙ্গে পরিবেশবান্ধব গাড়ি আনতে কাজ করছে।