সারা বাংলা

বৈরী আবহাওয়ায় বগুড়ায় বোরো ফলনে বিপর্যয়ের শঙ্কা

পারভীন লুনা, বগুড়া: বগুড়ার মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ। কোথাও আবার সবুজের সঙ্গে হলুদ রঙের ধানের শীষ বাতাসে দোল খাচ্ছে। এবার বোরোর ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষক। কিন্তু গত কয়েক দিনের বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।
সার-বীজ, কীটনাশক ছাড়াও সেচ সুবিধা সহজলভ্য হওয়ায় মৌসুমের শুরুতেই কৃষক তাদের জমিতে বোরো চারা রোপণ করেন। এবার খরা এবং অনাবৃষ্টি না থাকায় সময়মতো ধানের শীষ বের হয়। কৃষকরা জানান, অনাবৃষ্টির হলে ধানের শীষ বের হওয়ার সময় জমিতে মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। কিন্তু এবার পোকার আক্রমণ নেই। পাশাপাশি সময়মতো বৃষ্টি হওয়ার কারণে ধান গাছে চিটা হওয়ার আশঙ্কা নেই। এ কারণেই তারা এবার ভালো ফলন আশা করছেন। তবে গত কয়েক দিনে বিভিন্ন এলাকায় শীলা বৃষ্টি হলেও ধানের তেমন ক্ষতি হয়নি।
গাবতলী উপজেলার সারটিয়া গ্রামের কৃষক আবদুর রাজ্জাক জানান, শীত মৌসুমে জমিতে আলু চাষ করেও তিনি ভালো ফলন পেয়েছেন। আলু উত্তোলনের পর পরই সেই জমিতে ধান চাষ করেছেন। বৈশাখের মাঝামাঝি ধান পাকতে শুরু করবে। ওই সময় ঝড় এবং শীলাবৃষ্টি না হলে ধানের কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর গ্রামের কৃষক মামুন ৫৫ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো রোগবালাই এবং পোকার আক্রমণ দেখা যায়নি। ফলে তিনি বাম্পার ফলনের আশা করছেন। কৃষক মামুনের মতো এ অঞ্চলের কৃষকরা বিআর-২৮, বিআর-২৯, ছাড়াও উচ্চ ফলনশীল জাতের বিআর-৫৮ ধানের চাষ করেছেন। কৃষক আজমল, আবু জাফর জানান, এসব জাতের ধান প্রকার ভেদে বিঘা প্রতি ২৫-৪০ মণ পর্যন্ত ফলন হয়। তবে ধানের বাম্পার ফলন হলেও দাম নিয়ে রয়েছেন কিছুটা শঙ্কায়।
নন্দীগ্রাম উপজেলার রিধইল গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমান জানান, রবি মৌসুমে আলুর ভালো ফলন হওয়ার পর তিনি ১৫ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছেন। এবারও তিনি প্রত্যাশিত ফলন আশা করছেন। সার-বীজ, কীটনাশক থেকে শুরু করে কৃষি সরঞ্জামের সংকট না থাকায় ফলন এখন পর্যন্ত ভালো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রত্যাশিত ফলন হবে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, চলতি মৌসুমে বগুড়ার ১২ উপজেলায় এক লাখ ৮০ হাজার ৭৮১ হেক্টর জমিতে ইরিবোর চাষের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু মানুষের মধ্যে চাষাবাদে আগ্রহ বাড়ায় লক্ষ্যমাত্রার চাইতে অনেক বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছে। মানুষের আগ্রহ বাড়ার কারণে মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকিও বেড়েছে আগের তুলনায় অনেক। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার বাম্পার ফলনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

 

সর্বশেষ..