প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বৈরী আবহাওয়ায় বন্ধ ছিল জাহাজের লাইটারিং  

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: গত দুই মাসে ঘূর্ণিঝড়, বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালন কার্যক্রম অনির্ধারিতভাবে পুরো ১০ দিন বন্ধ ছিল। গতকালও এর পুনরাবৃত্তি ঘটে। বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় বন্ধ ছিল জাহাজের লাইটারিং কার্যক্রমে।

এদিকে ঈদুল ফিতরের দিন বিকালে বিদেশি জাহাজের ধাক্কায় বন্দরের সবচেয়ে আধুনিক জেটি চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনালের (সিসিটি) অচল হয়ে যায় দুটি গ্যান্ট্রি ক্রেন। এতে আশঙ্কাজনক হারে ব্যাহত হয় কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম। ফলে বন্দরে প্রতিদিনই বাড়ছে জাহাজ ও কনটেইনারজট। এতে ভোগান্তিতে ব্যবসায়ীরা।

বন্দর ব্যবহারকারীদের মতে, কয়েক মাস ধরে চলমান জটের কারণে আগের চেয়ে বেশি সময় বন্দরে অবস্থান করতে হচ্ছে কনটেইনারবাহী জাহাজকে। গত সোমবার চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যবাহী কনটেইনারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৭ হাজার ৭৫০টিতে। বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বর্তমানে ২২টি কনটেইনারবাহী এবং ১১টি বাল্ক কার্গোবাহী জাহাজ জেটিতে আসার অপেক্ষায় রয়েছে। বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে ১১টি কনটেইনারবাহী এবং ছয়টি বাল্ক কার্গোবাহী জাহাজ রয়েছে। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন বন্দর থেকে চট্টগ্রামমুখী পণ্য পরিবহনের (কনটেইনার) ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে জাহাজ কোম্পানিগুলো। এতে দেশের আমদানিকারক ও শিল্পোদ্যোক্তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আবার পণ্য হাতে পেতে আগের চেয়ে বাড়তি সময় লাগছে।

অন্যদিকে বন্দরের বহির্নোঙরে তীব্র জাহাজজটের কারণে পণ্য খালাসের জন্য কখন বন্দরের জেটি খালি পাওয়া যাবেÑএ নিয়ে চিন্তায় থাকতে হয় ব্যবসায়ীদের। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে (১৩ মে থেকে) প্রতিদিন গড়ে ১৫টি কনটেইনারবাহী জাহাজকে বন্দরের বহির্নোঙরে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। জেটিতে ভিড়তে পণ্যবাহী জাহাজের সর্বোচ্চ ১২ দিন পর্যন্ত সময় লেগেছে। স্বাভাবিক অবস্থায় এক দিনের বেশি লাগার কথা নয়। চলতি বছরের মে মাসে বন্দরের বহির্নোঙর থেকে জেটিতে ভিড়তে প্রতিদিন গড়ে অপেক্ষায় থেকেছে ১০টি জাহাজ। জুন মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রতিদিন ১৬টিতে। জুলাই মাসের ১ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত প্রতিদিন প্রায় ১৭টি জাহাজ পণ্য নিয়ে বহির্নোঙরে অপেক্ষায় থেকেছে। অথচ গত বছর প্রতিদিন গড়ে প্রায় আটটি জাহাজ বহির্নোঙরে পণ্য নিয়ে অপেক্ষায় ছিল।

গত মঙ্গলবার বিকাল থেকে গতকাল সান্ধ্য ৭টা পর্যন্ত (প্রতিবেদন লেখা) বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে লাইটারিং পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এতে বিপাকে পড়তে হয় আমদানিকারক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে।

ভিয়েতনাম থেকে ২০ হাজার টন চাল নিয়ে এমভি ভিসাদ জাহাজের স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ইউনি শিপিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন বলেন, বৃষ্টির কারণে বহির্নোঙরে মঙ্গলবার বেলা ৩টা থেকে লাইটারিংয়ের কাজ বন্ধ রয়েছে। গতকাল (বুধবার) জেটিতে প্রবেশের কথা থাকলেও জাহাজটি ভিড়তে পারেনি। আবহাওয়া ভালো হলে লাইটারিংয়ের কাজ শেষে জাহাজটি জেটিতে ভেড়ানো হবে।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সচিব সলিম উল্লাহ শেয়ার বিজকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে আসা জাহাজগুলোর অপেক্ষাকাল আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। ফলে জুলাই মাসের শুরু থেকে বিদেশি জাহাজ মালিকরা নতুন করে ডেমারেজ চার্জ আরোপ করেছে, যা আমদানি পণ্যের ওপর দুভাবে বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করছে।

শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল হক বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের অবকাঠামোগত সংকটের কারণে জাহাজজট ও কনটেইনার জট দেখা দিচ্ছে। বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন প্রকল্প ও উদ্যোগ নেওয়া হলেও সময়মতো বাস্তবায়ন না হওয়ায় এ সমস্যা প্রকট হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিচালক) জাফর আলমের সঙ্গে ফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হলে, তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে মন্তব্য পাওয়া যায়।

উল্লেখ, সমুদ্রপথে কনটেইনার পরিবহনের ৯৮ শতাংশ এ বন্দর দিয়ে পরিবহন হয়। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বন্দর দিয়ে ২১ লাখ ৮৯ হাজার কনটেইনার পরিবহন হয়। বিদায়ী অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৪ লাখ ১৯ হাজারে।