নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে সরকার দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের বাণী সম্বলিত বিশেষ ক্রোড়পত্র বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ করা হবে।
রাজধানীর রমনা বটমূলে ১৪ এপ্রিল সকালে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করবে ছায়ানট। অনুষ্ঠানটি জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হবে। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রতি বছরের মতো এবারও পহেলা বৈশাখে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’র আয়োজন করবে। এবারের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—“নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান”।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত সব অনুষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন, রেডিও, কমিউনিটি ও বাণিজ্যিক রেডিওতে সম্প্রচারের ব্যবস্থা থাকবে।
বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) যৌথভাবে ১৪ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী নববর্ষ মেলা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন ২০ এপ্রিল থেকে ১৪ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলার আয়োজন করবে।
নববর্ষ উপলক্ষে দেশের সব কারাগার, হাসপাতাল ও শিশু পরিবারে ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন এবং শিশুদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সব জাদুঘর ও প্রত্নস্থান সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। শিশু, কিশোর, ছাত্রছাত্রী, প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য বিনা টিকিটে প্রবেশের সুযোগ থাকবে।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বৈশাখী শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ মেলা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়েও শোভাযাত্রার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করবে। পাশাপাশি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট এবং একাডেমিগুলো পৃথকভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন করবে।
অভিজাত হোটেল ও ক্লাবগুলোতেও বিশেষ নববর্ষ আয়োজন ও ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও রমনা পার্ক সংলগ্ন এলাকায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র, টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রাখা হবে। একই সঙ্গে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের সব অনুষ্ঠান ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post