খবর বিশ্ব সংবাদ

বৈশ্বিক পরিস্থিতি আরও অবনতি হচ্ছে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্বেগ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ইউরোপে করোনাভাইরাস মহামারি অবস্থার উন্নতির দিকে। তবে সার্বিকভাবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রস অ্যাডহানম  গেব্রেইয়েসুস। মহামারির ছয় মাস পার হলেও এখনই কড়াকড়ি শিথিলের সময় আসেনি বলে জানান তিনি। বিবিসি।  

গত সোমবার করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিংয়ে টেড্রস বলেন, গত ১০ দিনের ৯ দিনে বিশ্বজুড়ে ১ লাখের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তিনি জানান, গতকালকের শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ পাওয়া গেছে ১০টি দেশ থেকে। এ ১০ দেশের বেশিরভাগই আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার।

যেসব দেশে পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে অথবা উন্নতির দিকে তাদের আত্মতৃপ্তিতে ভোগা যাবে না বলে মনে করিয়ে দেন টেড্রস। তিনি বলেন, এসব দেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হচ্ছে আত্মতৃপ্তিতে ভোগা।

গত ডিসেম্বরে চীনের উহান থেকে উৎপত্তির পর বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে  কভিড-১৯ নামের নভেল করোনাভাইরাস। ইতোমধ্যে দুই শতাধিক  দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এ বৈশ্বিক মহামারি। ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে ভাইরাসে। প্রাণ হারিয়েছে চার লাখেরও বেশি।

শুরুতে করোনা মহামারির কেন্দ্রস্থল ছিল পূর্ব এশিয়া। পরে ইউরোপ  থেকে এখন তা ছড়িয়েছে আমেরিকায়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও দ্রুত বাড়ছে সংক্রমণ। সোমবার জেনেভায় এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচও প্রধান বলেন, ‘যদিও ইউরোপের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে, তবে বিশ্বের পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘মহামারির ছয় মাসেরও বেশি সময় গেছে। তবে কোনো দেশের জন্য এখনও প্যাডেল থেকে পা তুলে নেওয়ার সময় আসেনি।’

যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ফ্লয়েড হত্যার জেরে চলমান বিক্ষোভ থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি আছে কি না, সে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সব বিক্ষোভকারীকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতি মেনে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান টেড্রস।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি পরিস্থিতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড. মাইক রায়ান জানান, ‘গুয়াতেমালাসহ মধ্য আমেরিকার দেশগুলোয় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সেখানে মহামারি পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। আমার মনে হয়, এ সময়টা খুবই উদ্বেগজনক।’ পরিস্থিতি সামলাতে ওই এলাকার সরকারগুলোর দৃঢ় নেতৃত্বের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমর্থনেরও আহ্বান জানান তিনি।

ডব্লিউএইচও’র এপিডিমিওলজিস্ট মারিয়া ফন কেরকোভে বলেন, ‘এ মহামারির শেষ হতে আরও অনেক বাকি।’ সিঙ্গাপুরে এখন যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের অর্ধেকেরই কোনো উপসর্গ থাকছে না বলে জানিয়েছেন দেশটির ভাইরাস টাস্কফোর্সের একজন কর্মকর্তা। এ কারণে নগর-রাষ্ট্রটির সরকার লকডাউনের বিধিনিষেধ খুবই ধীরে শিথিল করছে।

আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে অনেক দেশ উপসর্গহীন বাহকদের শনাক্ত করছে। তবে এ ধরনের ‘অ্যাসিম্পটমেটিক ক্যারিয়ার’ যারা, তারা ভাইরাস আরও বেশি ছড়িয়ে দেওয়ার কারণ হচ্ছেÑএমনটি দেখা যায়নি বলে জানান কেরকোভে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..