মত-বিশ্লেষণ

বৈশ্বিক সমস্যাগুলোর জন্য বৈশ্বিক সমাধান প্রয়োজন

নগদ অর্থ সহায়তা দেয়ার মতো সামাজিক সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা পরিবারগুলোকে শুধু স্বল্প মেয়াদে টিকে থাকতে সহায়তাই করে না, একইসঙ্গে আরও বিস্তৃত পরিসরে বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রসদ জোগায়Ñশিশুদের স্কুলে ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো, পুষ্টিকর খাবার কেনা এবং শিশুশ্রম কমাতে সহায়ক হয়। কভিড-১৯ মোকাবিলা ও পরিস্থিতি সামাল দেয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইউনিসেফ এখন বিস্তৃত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোয় সহায়তা দিতে ১১৫ দেশের সরকারের সঙ্গে কাজ করছে।

অতীতের সংকট থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা হলো, অর্থনৈতিক মন্দা ও সামাজিক খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য বেশ ভালো ধরনের বিনিয়োগের ঘটনা রয়েছে। সরকারগুলো যেহেতু জনগণকে কভিডের ধাক্কা থেকে সুরক্ষা দিতে কাজ করছে, তাই এক্ষেত্রে তাদের সব ধরনের সামাজিক খাতে বিনিয়োগ যাতে না কমে, সেদিকে অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে এবং সেবা প্রদান অব্যাহত রাখতে তারা যাতে তাদের সম্পদগুলো দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। কভিডকালে অনেক কিছু বদলে গেছে; আমরা বাইরে যেতে এবং ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাতে পারি না। তবে এর অর্থ এই নয় যে, জলবায়ু আন্দোলন থেমে গেছে। আমরা নীরব থাকতে পারি নাÑজলবায়ু সংকট এখনও অব্যাহত রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে আরেকটি বৈশ্বিক সংকট, যা অপেক্ষা করবে না। কভিড শিখিয়েছে, বৈশ্বিক সমস্যাগুলোর জন্য বৈশ্বিক সমাধান প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শিশুর চেয়ে বেশি কেউ ভোগে না। শিশুরা যে বাতাসে শ্বাস নেয়, যে পানি তারা পান করে এবং যে খাবার তারা খায়, সেগুলোয় পরিবর্তন এলে তাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে।

জলবায়ু পরিবর্তন জীবনকে হুমকিতে ফেলে, পানি ও খাদ্যসংকট এবং পানিবাহিত রোগ শিশুদের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করে। বর্তমানে মাত্র ২০ বছরের মধ্যে বিশ্বব্যাপী এক-চতুর্থাংশ মানুষ এমন এলাকায় বাস করবে, যেখানে পানির সংস্থান থাকবে সীমিত। প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে আমরা নতুন প্রজন্মের জন্য যে বিশ্ব রেখে যাব, তার জন্য আমরাই দায়বদ্ধ। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ব্যর্থতা কেবল বৈষম্যকে বাড়িয়ে তুলবে। ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনে সম্মিলিত ক্ষতি আট লাখ ডলারে পৌঁছবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা বিশ্বের জিডিপি তিন শতাংশ কমিয়ে দেবে এবং দরিদ্র অঞ্চলগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এখনই পদক্ষেপ না নিলে ৩০ বছরের মধ্যে জলবায়ু সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সশস্ত্র সংঘাতে অভিবাসন বৃদ্ধির ফলে শতকোটিরও বেশি মানুষ বাস্তুহারা হবে। এর প্রভাব উন্নয়নশীল ও উন্নত বিশ্বকেও ভোগাবে।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..