প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে চাই গণতান্ত্রিক পরিবেশে: ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈষম্যমুক্ত সমাজ গরে তুলতে বাজেট প্রণয়ন বাস্তবায়নে সকলের চাওয়া পাওয়া, মতামতের প্রতিফলনের বিকল্প নেই। বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট যোগানের সিংহভাগ আসে জনগণের দেয়া কর থেকে। তা সত্ত্বেও সেই শুরু থেকে বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া কেন্দ্রীভূত থেকে গেছে যেখানে জনমানুষের অংশগ্রহণ নেই, এমনকি নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে আলোচক সমালোচকরা মতামত দিলেও তার অন্তর্ভূক্তি হয় না। বাজেটের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সাথে সাথে বাজেট প্রণয়ণ এবং বাস্তবায়নে জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন আরো অগ্রসর হবে। রোববার (১৬ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন, পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশান নেটওয়ার্ক-প্রান এবং একশনএইড বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বাজেট অলিম্পিয়াড ২০২১ এর ভার্চুয়াল গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠানে বক্তারা এমন অভিমত জানান।

বাজেট অলিম্পিয়াড আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এমএম আকাশ এর সভাপতিত্বে সম্পাদক নুরুল আলম মাসুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবিধানিক ইনস্টিটিউট ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্স এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউণ্ডেশন (পিকেএসএফ) এর সভাপতি স্বনামধন্য বাংলাদেশী অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন চিন্তাবিদ ও পরিবেশকর্মী কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ।বিশেষ অতিথি ছিলেন অনুষ্ঠানে যুক্ত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার এন্ড পলিসির পরিচালক অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম, কেয়ার বাংলাদেশের পরিচালক আমানুর রহমান, গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের সহসম্পাদক সেকেন্দার মিনা সুমন, বাজেট অলিম্পিয়াড আয়োজক কমিটি সদস্য নুজহাত জাবিন ও লায়লা তাসমিয়া, ঢাকা স্কুল অফ ইকনোমিক্স এর অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর একেএম নজরুল ইসলাম ও বাজেট অলিম্পিয়াড আয়োজক কমিটির সম্পাদক এবং প্রানের প্রধান নির্বাহী নুরুল আলম মাসুদ। বাজেট অলিম্পিয়াড বিষয়ে সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রান কর্মসুচি সমন্বয়ক এবং বাজেট অলিম্পিয়াড সমন্বয়ক উম্মে সালমা। অনুষ্ঠানে বাজেট অলিম্পিয়াডের বিগত বছরগুলোর চ্যাম্পিয়নেরাও, অঞ্চল সমন্বয়ক, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডররা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ বলেন, বাজেট শিখন প্রক্রিয়াটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। বাজেট অলিম্পিয়াডের মধ্যে দিয়ে যারা বাজেট নিয়ে জানছেন কথা বলছেন, তারা দেশের খুব গুরুত্বপূর্ণ জনগোষ্ঠী-তরুণ। এই তরুণদের সংখ্যা ৫ কোটি ২৮ লাখ, যা আমাদের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ। এদের সঠিক দিক নির্দেশনা দেয়া গেলে এরা দেশকে পরিবর্তন করতে পারে। দেশকে ন্যায়ের পথে নিয়ে যেতে দেশের বাজেটে সকলের কার্যকর অংশগ্রহণ, সকলের মতামতের প্রতিফলন এবং এর মধ্যে দিয়ে নাগরিকের পূর্ণ মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এজন্যে প্রথমে বাজেট বুঝা এবং প্রশ্ন তোলা জরুরি। বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে অনেক লক্ষ্য উদ্দেশ্য ঠিক করা হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তার প্রতিফলন ঘটে না। বাজেট বিশ্লেষণে এই সামঞ্জস্য-অসামঞ্জস্যগুলো দেখতে হবে এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর ভিন্ন ভিন্ন চাহিদা মতামত অনুযায়ী বরাদ্দের মিল আছে কিনা তা নিয়ে ভাবতে হবে। তরুণ সমাজ যদি এসব নিয়ে কথা বলেন, একমত হন তাহলে এসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসতে পারে।

কাজী মারুফুল ইসলাম বলেন, গত বেশ কিছু বছর ধরে আমরা চেষ্টা করছি বাজেট ডিসকোর্সকে জনগণের কাছে, জনগণের জন্য সহজবোধ্য করে নিয়ে যাওয়ার। বাজেট অলিম্পিয়াড অন্যান্য অলিম্পিয়াডের চেয়ে আলাদা এক্ষেত্রে যে, শুধুমাত্র বিজয়ী হওয়া নয়, এই প্রকিয়ার সাথে যুক্ত থাকার মাধ্যমে সরকারের আয় ব্যয় কীভাবে সঞ্চালিত হয়, সরকার কি করে তার উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে, এসব বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের আগ্রহ তৈরি হবে। তরুণদের মাঝে বাজেট নিয়ে প্রশ্ন করার মানসিকতাটা তৈরি করা বেশ জরুরী। বাজেট অলিম্পিয়াড এক্ষেত্রে সফল এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাজেট নিয়ে কথা বলতে আগ্রহীদের একটি ক্রিটিকাল ম্যাস তৈরি হয়েছে। যাদের কথা বলার সক্ষমতা আছে, তাদেরকে আরো সক্ষম করে তুলতে এবং গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের ধারাকে সমুন্নত রাখতে বাজেট অলিম্পিয়াড এবং অংশগ্রহণকারীরা ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ বলেন, একজন বিখ্যাত মনীষির কথা Philosophers have interpreted the world the point is to change it।. আমরা ব্যাখ্যা করে যাব, কাজ করে যাব এবং পরিবর্তনেরও চেষ্টা করব। আমরা কেবল গণতান্ত্রিক বাজেট বলেই থেমে থাকিনি, এই আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে পেরেছি তরুণ জনগণদের মধ্যে। এর মধ্য দিয়ে একটি ইনফর্মড ডিসকোর্স লেখালেখি, আলোচনার মধ্যে দিয়ে আমরা ফোকাস করতে পারি। যদি কোনো একটা আইডিয়া অনেকের মধ্যে একসাথে কাজ করে, সেটা একটা পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। মানুষ যেন আলাপে আগ্রহী হয়, কথা শোনে, সেই কাজের ক্ষেত্র অনেকখানি তৈরি করতে পেরেছে বাজেট অলিম্পিয়াড।

দেশব্যাপী তরুণ বাজেট বিতার্কিক গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ২০১৭ সাল থেকে বাজেট অলিম্পিয়াড আয়োজন করে আসছে গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন- ডিবিএম। এই বছর দেশের শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০০০ শিক্ষার্থী বাজেট অলিম্পিয়াডের বিভিন্ন রাউন্ডে অংশগ্রহণ করেন; যাদের মধ্যথেকে ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতার মধ্যদিয়ে নির্বাচিত ১০০ জন চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।বাজেট অলিম্পিয়াড ২০২১ এ চ্যাম্পিয়ন হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রদ্যুত কুমার পাল। প্রথম ও দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছেন যথাক্রমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদয় জামান এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জান্নাতী ইয়াসমিন এছাড়াও অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক পর্বের বিজয়ী এবং চূড়ান্ত পর্বের শীর্ষ দশ বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়।