প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বৈষম্য দূরীকরণে ইসলামি ব্যাংকিং নীতিমালা জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রচলিত ধারার ব্যাংকিংয়ের চেয়ে ইসলামি ব্যাংকিংয়ে মানুষের আস্থা বেশি। ইসলামি ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেই সামাজিক বৈষম্য দূর করা সম্ভব। এক্ষেত্রে ইসলামি ব্যাংকিং নীতিমালা জরুরি। গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) বোর্ডরুমে মিডিয়াকর্মীদের সঙ্গে ‘ইসলামি ব্যাংকিং শিল্পের অগ্রগতিতে মিডিয়ার ভ‚মিকা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

বক্তারা বলেন, বিশ্বে একটি ব্যাংকিং মডেল হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ইসলামি ব্যাংকিং। যদিও আমাদের দেশে ইসলামি ব্যাংকিং নিয়ে মানুষের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।  ইসলামি ব্যাংকিং নিয়ে একটি আইন তৈরি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

সভায় শরিয়াহ বোর্ডের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এম আযীযুল হক বলেন, প্রচলিত ধারার ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মধ্যবিত্ত শ্রেণির পুঁজি চলে যায় গুটিকয়েক উচ্চবিত্তের হাতে। মধ্যবিত্তের টাকায় এসব উচ্চবিত্তরা সম্পদ গড়েন। কিন্তু ইসলামি ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মধ্যবিত্তরাও সম্পদের অংশীদার হন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশির দশকে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘদিন নীতিমালা ছিল না। ২০০৯ সালে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি হয়, যা ইসলামি ব্যাংকিংয়ের জন্য মোটেও যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন তিনি। সেজন্য প্রয়োজন একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা।

সাংবাদিকরা সমাজের মুখপাত্র মন্তব্য করে তিনি বলেন, তারাই ইসলামি অর্থনীতি ও ব্যাংকিং সম্পর্কে সত্য কথাটা তুলে ধরবেন। তিনি আরও বলেন, আল্লাহ সুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে ইসলামি ব্যাংকিংয়ে কখনও কখনও ভুলত্রæটি হয়ে যায়। তা সংশোধনের জন্যই সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং বাংলাদেশে সত্যিকার ইসলামি অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি।

সভায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শরিয়াহ বোর্ডের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এম আযীযুল হক বলেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনায় পরিবর্তন এলেও ইসলামি ব্যাংকিংয়ের নীতিমালা অনুসরণ করে ব্যাংকটি পরিচালনা করলে কোনো সমস্যা নেই। ইসলামি ব্যাংকিং পদ্ধতি অনুসরণের কারণেই ইসলামী ব্যাংক জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

ইসলামিক ব্যাংকস কনসালটেটিভ ফোরাম (আইবিসিএফ) ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) ভাইস চেয়ারম্যান একেএম নুরুল ফজল বুলবুল বলেন, সুদ কেবল ইসলাম ধর্মেই নিষিদ্ধ নয় বরং অন্যান্য ধর্মেও নিষিদ্ধ। সামাজিক বৈষম্য দূর করা ইসলামি ব্যাংকিংয়ের মূল কাজ। ফলে এদেশে ইসলামি ব্যাংকিং আরও ছড়িয়ে দিতে হবে।

সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ডের সেক্রেটারি জেনারেল একিউএম ছফিউল্লাহ আরিফ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন।