প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বোনাসের নামে প্রতারণা নয়

 

গতকালের শেয়ার বিজে ‘বোনাসের নামে বিনিয়োগকারীদের ঠকাচ্ছে ৬৪ কোম্পানি’ শীর্ষক খবরটি স্বভাবতই বিনিয়োগকারীদের মনে উদ্বেগ না জাগিয়ে পারে না। বিভিন্ন খাতের একশ্রেণির কোম্পানির লভ্যাংশ প্রদানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। তার সারাংশ হলো, ভিত্তি মজবুত থাকা সত্ত্বেও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একশ্রেণির কোম্পানি নগদ লভ্যাংশের পরিবর্তে আগ্রহ দেখাচ্ছে বোনাস লভ্যাংশ প্রদানের প্রতি। এদিকে মুনাফার অর্থ পুনর্বিনিয়োগ না করে রিজার্ভ বাড়াচ্ছে অনেকে। শোনা যায়, একশ্রেণির কোম্পানি ঋণজর্জরিত থাকার পরও দিচ্ছে বোনাস লভ্যাংশ। আমাদের প্রতিবেদকদ্বয়ের হিসাবমতে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত ৬৪টি কোম্পানি বোনাস লভ্যাংশ দিয়ে যাচ্ছে নিয়মিত। ফলে কোনো ধরনের নিয়মনীতি না থাকায় কোম্পানির ইচ্ছানুযায়ী বোনাস লভ্যাংশ দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ঠকছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আমরা বোনাস শেয়ার ইস্যুকরণের বিরুদ্ধে নই। মনে করি, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত যেসব কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতায় ঘাটতি রয়েছে কিংবা যারা ব্যবসা করতে গিয়ে আকস্মিকভাবে কোনো লোকসানে পড়েছে, তারা বোনাস লভ্যাংশ দিতে পারে আপৎকালীন সময়ে। আবার বিনিয়োগকারীদের সব সময় বোনাস লভ্যাংশ দেওয়ার পক্ষপাতী হওয়া যাবে না। প্রথমত, বোনাস ডিভিডেন্ড দেওয়া হলে বিনিয়োগকারীরা বঞ্চিত হবেন ডিভিডেন্ড গেইন থেকে। দ্বিতীয়ত, এক বিশ্বখ্যাত অর্থ গবেষণা সংস্থা বলেছে, বোনাস লভ্যাংশ থেকে কোনো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের প্রকৃত মুনাফার হার তথা ইল্ড পাওয়া সম্ভব নয়। কথা হলো, কিছু কোম্পানি মুনাফার অংশ পুনর্বিনিয়োগ করছে না, আবার নগদ লভ্যাংশও দিচ্ছে না। তাহলে তাদের বোনাস ডিভিডেন্ড প্রদান কার স্বার্থে? যার স্বার্থেই হোক, এটি যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সুফল বয়ে আনছে না, সেটি জোর দিয়ে বলা যায়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হোক।

২০১০-১১ সালে বাজার বিপর্যয় এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি বিনিয়োগকারীরা। ওই অভিঘাতে আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন তারা। পরবর্তী সময়ে বিভিন্নভাবে পুঁজিবাজারে ক্ষতিপূরণ ও প্রণোদনা দেওয়া হলেও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বাইরে সেসবের কতটা সুফল সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পাচ্ছেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এর পরও যে বাজার এখন মোটামুটি স্থিতিশীল, সেখানে অনিবার্য ভূমিকা রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। ফলে তাদের স্বার্থ ক্ষুন্ন হয়, এমন কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিতে হবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি)। সেক্ষেত্রে কোম্পানি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী তথা বাজারের অন্যান্য উপাদানের স্বার্থ রক্ষার দরকার নেই, এ কথা যুক্তিশীল কেউ বলবেন না। বরং কোম্পানিগুলোয় আর্থিক সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক, তাদের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হোক এমন প্রত্যাশা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। যেখানে অনৈতিকভাবে বিনিয়োগকারীদের ঠকিয়ে মুনাফা করা হয়, সে ধরনের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। এক্ষেত্রে অনেকে দাবি তুলেছেন লভ্যাংশ প্রদানে নিয়মনীতি থাকার ব্যাপারে। বিষয়টির ভালোমন্দ দুই দিকই রয়েছে। এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিয়মনীতির মাধ্যমেও তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে কিংবা অনানুষ্ঠানিক উপদেশেও সমাধা করতে পারে কাজটি। খেয়াল করার মতো বিষয়, বোনাস লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানির সংখ্যা নেহাত কম নয়। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে বিএসইসি একটা সমাধান দিক এমন প্রত্যাশাই করি আমরা।