প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

বোনাস ও রিটেইন আর্নিংস কর আগামী বছর থেকে কার্যকর

কোম্পানি কর্তৃপক্ষের স্বস্তি

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: চলতি (২০১৯-২০) অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারের গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এর আলোকে তালিকাভুক্ত কোম্পানির বোনাস লভ্যাংশ প্রদান এবং রিটেইন আর্নিংসের ওপর কর বসানো হয়। তবে কোন বছর থেকে এটা কার্যকর হবে তা নিয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ এবং বিনিয়োগকারীদের মাঝে ধোঁয়াসা তৈরি হয়। অনেকে মনে করছিলেন, চলতি বছর থেকে এ কার্যকর হবে।
সম্প্রতি এনবিআর থেকে জানানো হয়েছে, এ অর্থবছর থেকে নয় বরং আগামী অর্থবছর অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে এটা কার্যকর হবে। এতে স্বস্তিতে রয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। কারণ তারা আরও এক বছর সময় পাচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে তারা বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনা করতে পারবে।
আয়কর পরিপত্র-১ ২০১৯-২০ অনুযায়ী, বোনাস লভ্যাংশ ও রিটেইন আর্নিংসের ওপর করারোপের বিধান ২০২০-২১ কর বছর সংশ্লিষ্ট আয় বছর থেকে কার্যকর হবে। অর্থাৎ ৩০ জুন, ২০২০ অর্থবছর থেকে বিধানটি কার্যকর হবে। তাই সদ্যসমাপ্ত ৩০ জুন, ২০১৯ অর্থবছরের কোম্পানিগুলোর বোনাস লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রে এ বিধানটি কার্যকর হবে না। অর্থাৎ শেষ হওয়া (২০১৯-২০) অর্থবছরের জন্য কোনো কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের বোনাস লভ্যাংশ দিলে তার ওপর কর দিতে হবে না।
বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, ‘আমরা দোলাচলে ছিলাম। অনেকেই ভাবছিলেন চলতি বছর থেকে বিষয়টি কার্যকর হবে, যা প্রভাব পড়েছে কোম্পানির শেয়ারদরে। সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছেন যে সব কোম্পানির বোনাস লভ্যাংশ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেসব কোম্পানির বিনিয়োগকারীরা। বাজারে গুঞ্জন রয়েছে, কয়েকটি কোম্পানি এ বছর বড় ধরনের বোনাস লভ্যাংশ দেবে। কিন্তু বোনাস লভ্যাংশের ওপর কর এ বছর থেকে কার্যকর হচ্ছে এমন খবরে এসব শেয়ারদর অনেক কমে গেছে।’
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি প্রতিষ্ঠানের সচিব বলেন, ‘হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যে কারও জন্যই মুশকিল। চলতি বছর যদি আমাদের ওপর এ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হতো তাহলে সেটা আমাদের জন্য নেতিবাচক হতে পারত। এক বছর সময় পাচ্ছি এর মধ্যে আমরা পরের বছর কীভাবে লভ্যাংশ প্রদান করবে তার জন্য পরিকল্পনা করতে পারব।’
জানা যায়, অর্থ আইন, ২০১৯-এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের নতুন ধারা ১৬ এফ সংযোজন করা হয়েছে। এ ধারা অনুযায়ী পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত কোম্পানিকে বোনাস লভ্যাংশের কমপক্ষে সমপরিমাণ নগদ লভ্যাংশ প্রদান করতে হবে। যদি বোনাস লভ্যাংশ প্রদানের পরিমাণ নগদের চেয়ে বেশি হয় তাহলে যে পরিমাণ বোনাস লভ্যাংশ প্রদান করা হবে বা হয়েছে তার পুরোটার ওপর ১০ শতাংশ হারে করারোপ করা হবে। কোম্পানিকে সংশ্লিষ্ট কর বছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলের পূর্বে এ কর পরিশোধ করতে হবে। এবং এ বিধান ২০২০-২১ কর বছরসংশ্লিষ্ট আয় বছর থেকে কার্যকর হবে। অর্থাৎ চলতি বছরের লভ্যাংশ আগের নিয়মেই প্রদান করতে পারবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি।
পুঁজিবাজারে এমন কিছু কোম্পানি রয়েছে, যারা বছরের পর বছর শেয়ার হোল্ডারদের বোনাস লভ্যাংশ প্রদান করে আসছে। এতে প্রতি বছরই তাদের প্রতিষ্ঠানের শেয়ার সংখ্যা বাড়ছে। আর শেয়ার বাড়লে কমে যাচ্ছে দর। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। অন্যদিকে বোনাস শেয়ার প্রদান করে লাভবান হচ্ছেন কোম্পানির মালিক। কারণ লভ্যাংশ প্রদান করার জন্য তাদের কোনো অর্থ খরচ করতে হচ্ছে না। মূলত এ প্রবণতার লাগাম টানতেই চলতি বছরের বাজেটে বোনাস শেয়ার প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর হন কর্তৃপক্ষ।
একইভাবে অর্থ আইন, ২০১৯ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের নতুন ধারা ১৬জি সংযোজন করা হয়েছে। সংশোধিত এ ধারা অনুযায়ী পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত কোনো কোম্পানি কোনো অর্থবছরে কর পরবর্তী নিট মুনাফার সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ রিটেইনড আর্নিংস, ফান্ড, রিজার্ভ অথবা সারপ্লাস হিসেবে রাখতে পারবে। অর্থাৎ কোম্পানিকে কোনো অর্থবছরে কর পরবর্তী নিট মুনাফা এর কমপক্ষে ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ হিসেবে শেয়ারহোল্ডারদের প্রদান করতে হবে।
কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কর বছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলের পূর্বে শেয়ারহোল্ডারদের এ লভ্যাংশ প্রদান সম্পন্ন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট আয় বছর সমাপ্তির তারিখে কোম্পানির ব্যালেন্স শিটে উক্ত ৩০ শতাংশ হিসেবে দেখাতে হবে। যদি ৩০ শতাংশের কম লভ্যাংশ প্রদান করা হয় তাহলে রিটেইনড আর্নিংস, ফান্ড, রিজার্ভ অথবা সারপ্লাস খাতে স্থানান্তরিত সম্পূর্ণ অঙ্কের ওপর ১০ শতাংশ হারে করারোপ করা হবে। এ বিধান ২০২০-২১ কর বছরসংশ্লিষ্ট আয় বছর থেকে কার্যকর হবে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই এমন নিয়ম চালু করা হয়েছে।

সর্বশেষ..