মার্কেটওয়াচ

ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর বেশি দামে শেয়ার কেনা উচিত নয়

একটি বড় প্রতিষ্ঠানের যখন মালিকানা পরিবর্তন হয় তখন ওই কোম্পানির শেয়ারের একটি বড় ধরনের চাহিদা তৈরি হয়। ওই চাহিদার কারণে ন্যায্যমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে শেয়ার বিক্রি করা হয়। ফলে দর বেড়ে যাওয়ার পর কেনা বন্ধ করলে বাজারে ওই শেয়ারের আর আগের মতো চাহিদা থাকে না। ফলে ভলিউম কমে যায় এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে দামও পড়তে থাকে। তাই বিনিয়োগকারীদের উচিত বাজারে শেয়ারদর বাড়লে সেই শেয়ার না কেনা এবং কম দামে কেনার চেষ্টা করা। ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের বেশি দামে শেয়ার না কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জহিরুল ইসলাম ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ড. মোহম্মদ মুসা।

মোহম্মদ মুসা বলেন, প্রতিটি সংস্থার সদস্যদের সুরক্ষা দেওয়াই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের প্রাথমিক দায়িত্ব। তারা কোনো ন্যায্য অভিযোগ থাকলে সেগুলোর সমাধান করে। একইসঙ্গে যেহেতু তারা পুঁজিবাজারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তাই বাজারের দেখভাল করাও তাদের সেকেন্ডারি দায়িত্ব। তিনি বলেন, বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়,  যখন কোনো বড় প্রতিষ্ঠানের মালিকানা পরিবর্তন হয় এবং তা যদি শেয়ার মার্কেটের মাধ্যমে হয়, তখন একটি বড় ধরনের চাহিদা আসে। ওই চাহিদার কারণে তারা বর্তমানে ন্যায্যমূল্য যা হবে তার চেয়ে অনেক বেশি দামে শেয়ার কিনে থাকে। দর বেড়ে যাওয়ার পর কেনা বন্ধ করলে বাজারে ওই শেয়ারের আর আগের মতো চাহিদা থাকে না। ফলে ভলিউম কমে যায় এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে দামও পড়তে থাকে। তাই বিনিয়োগকারীদের উচিত বাজারে শেয়ারদর বাড়লে সেই শেয়ার না কেনা এবং কম দামে কেনার চেষ্টা করা। তাই আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা যেন বেশি দামে শেয়ার না কেনে। শেয়ারদর বাড়ছে, আরও বাড়বেÑএমন খবরে যারা শেয়ার কিনবেন তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তিনি আরও বলেন, ক্রেডিড রেটিং বেড়ে গেলেই শেয়ার কেনা উচিত নয়। আপাতদৃষ্টিতে একটি কোম্পানি খুব ভালো হলে সেই শেয়ারটিও খুব ভালো এ ধারণা সবসময় ঠিক নয়, কারণ শেয়ারটির হয়তো দর বাড়তে বাড়তে অতিমূল্যায়িত হয়ে গেছে। আর এ অবস্থায় শেয়ার কেনা বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ক্রেডিট রেটিং এজেন্সির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে কেনাবেচা করাটিও যুক্তিসংগত নয়।

জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি সংস্থারই একটি সংগঠন থাকে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রায় ২৫০টি ব্রোকারেজ হাউজ আছে। আমরাও একটি সংগঠন তৈরি করেছি ‘ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন’। এই সংস্থার কাজ হচ্ছে, এখানে যারা সদস্য আছে তাদের স্বার্থ রক্ষা করা। তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যে কোনো বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করাই সংগঠনের কাজ এবং ব্রোকারেজ হাউজগুলোর সুরক্ষা দেওয়াও তাদের দায়িত্ব। কিন্তু বাজার ভালো করার দায়িত্ব ব্রোকারস সংগঠনের কাজ নয়। আমাদের পুঁজিবাজারে ক্রেডিট রেটিং বিষয়টি বিনিয়োগকারীরা খুব একটা বোঝেন না। এখানে স্বচ্ছতা বা জবাবদিহিতার বিষয়টি আরও একটু কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থাদের এখানে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাজারে কোম্পানি আনার মূল কাজ কিন্তু স্টক এক্সচেঞ্জের নয়, কোম্পানি আনার দায়িত্ব মার্চেন্ট ব্যাংকারদের। এজন্য এসইসি অনেকগুলো মার্চেন্ট ব্যাংকের লাইসেন্স দিয়েছে। আমাদের বাজারে ৫৫ থেকে ৬০টি মার্চেন্ট ব্যাংক আছে। এর মধ্যে হাতেগোনা পাঁচ-ছয়টি প্রতিষ্ঠান নতুন ইস্যু আনার চেষ্টা করছে, বাকিরা কিন্তু কিছুই করছে না।

 

শ্রুতি লিখন: রাহাতুল ইসলাম

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..