বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

ব্যক্তি শ্রেণি ও করপোরেট কমানোর প্রস্তাব ডিসিসিআই’র

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণির ও করপোরেট করহার কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একই সঙ্গে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাটের হারও কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (করনীতি) মো. আলমগীর হোসেনের কাছে প্রস্তাব পেশ করেন ডিসিসিআইয়ের সভাপতি শামস মাহমুদ।

আসন্ন বাজেটকে কেন্দ্র করে এনবিআরে ১১টি প্রস্তাব দিয়েছে ডিসিসিআই। ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি এনকে এ মবিন ও এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ প্রগতিশীল হারে সব স্তর থেকে করপোরেট করহার আগামী ২০২০-২১, ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে পাঁচ শতাংশ, সাত শতাংশ ও ১০ শতাংশ হারে হ্রাস করা, করপোরেট ডিভিডেন্ডের আয়ের ওপর ২০ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ কর নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেন। যাতে করে হ্রাসকৃত করপোরেট কর পুনঃবিনিয়োগ করা হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ কর আহরণের নতুন উৎস সৃষ্টি হবে। ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার কর মুক্ত আয়ের সীমা আড়াই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা এবং ব্যক্তি শ্রেণির আয়কর সর্বনি¤œ হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে থেকে পাঁচ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করেন ডিসিসিআই সভাপতি, কারণ বর্তমান মূল্যস্ফীতির হার ও বর্ধনশীল জীবনযাপনের ব্যয় বিবেচনায় রেখে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো প্রয়োজন।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি কর পক্রিয়া সহজীকরণ ও করের আওতা বৃদ্ধির জন্য সম্পূর্ণ অটোমেটেড অনলাইন ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব করেন, ফলে দেশের কর প্রদান ব্যবস্থা সহজ হবে এবং ব্যবসার পরিবেশ সূচক উন্নয়নে এটি কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিলে রেয়াত নেওয়ার সুযোগ আছে। এর পরিবর্তে পাঁচ শতাংশ, সাড়ে সাত শতাংশ, ১০ শতাংশ অথবা যে কোনো হারে ভ্যাট দিলে কর রেয়াতের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেন। শিল্পায়নের ধারা বেগবান করতে রপ্তানিমুখী শিল্পপণ্য উৎপাদন বাড়াতে ও রপ্তানি বহুমুখীকরণ উৎসাহিত করতে শিল্পপণ্য উৎপাদনে সব ধরনের প্রকার কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশের ওপর অগ্রিম কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন। পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতের ডিজাইন এবং ডামি সেন্টার, স্যাম্পল, ইটিপি, জ্বালানি দক্ষতা এবং পরিবেশবান্ধব পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব দেন।

এছাড়া এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য বার্ষিক টার্নওভারের সীমা তিন কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে চার কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে ডিসিসিআই। পণ্যের মূল্য সংযোজন বা মুনাফা অনুপাতে চার শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়। বিদ্যুতের সঞ্চালন ও বিতরণের আওতা এবং মান বৃদ্ধি করতে সঞ্চালন ও বিতরণে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া এবং বিদ্যুৎ খাতের আমদানি বিকল্প ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পগুলোকে উৎসাহিত করতে বেসরকারি খাতকে সাবস্টেশন যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য অ্যাকসেসরিজ উৎপাদনে কর অবকাশ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে এ বছরের বাজেট প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়, যাতে সরকার, জনগণ এবং বেসরকারি খাত এ অবস্থা উত্তরণে সহায়ক নীতিমালা ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার সুফল পেতে পারে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..