প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ব্যবসায়ীরা যেন বিদেশে টাকা পাচার করতে না পারেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: কাস্টমস কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, আপনারা ন্যায় নীতির ভিত্তিতে কাজ করবেন এবং শপথ নেবেন। যাতে কোনো ক্রমেই আমাদের ব্যবসায়ীরা যেন বিদেশে কোনো টাকা পাচার না করতে পারেন। অর্থপাচার রোধে ডিজিটালাইজেশনের একটি বিরাট ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি। গতকাল আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘ওভার-ইনভয়েস ও আন্ডার-ইনভয়েসের মাধ্যমে বিরাট অঙ্কের টাকা বাংলাদেশ থেকে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে চলে যায়। প্রতিনিয়ত আমাদের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে। যেমনÑব্যবসায়ী কিংবা সরকারি চাকরিজীবীরা দুর্নীতির মাধ্যমে, করফাঁকি দিয়ে, জালিয়াতির মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচার করে থাকে। এখানে আপনারা (কাস্টমস) অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। ডিজিটালাইজেশন এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সিস্টেমস ডিজিটাল হলে কর ফাঁকি দেয়ার সুযোগ কমে যায়। আমাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে ফাঁকির সুযোগ কমাতে হবে।’

তিনি বলেন, শিল্পকারখানা করতে হলে আমাদের অনেক বৈদেশিক মুদ্রা দরকার হবে। বাংলাদেশে শিল্পায়ন হলে অনেক মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি করতে হবে। সেটি করতে গেলে আমাদের ৪৭ বিলিয়নের যে রিজার্ভ, সেটি কিন্তু আর থাকবে না। এখন শিল্পায়ন সেভাবে হচ্ছে না। আমরা শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও কাঁচামাল আমদানি করছি। কিন্তু বড় বড় শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানি করতে যে বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হবে, সেটা আমাদের রক্ষা করতে হবে।

এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, বন্দরের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পণ্য খালাস কার্যক্রম সম্পন্ন করে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ে কাস্টমস বিভাগ কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এছাড়া ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ খাতে কাস্টমস ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন তিনি। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ হবে। এর সঙ্গে আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ আসবে। ৩১টি দেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে আমরা যেসব সুবিধা পাচ্ছি, তা হয়তো থাকবে না। এছাড়া আইপি সুবিধাও থাকবে না। এসব চ্যালেঞ্জ হয়তো আমাদের জন্য বড় সুযোগও বয়ে আনতে পারে। তখন হয়তো বড় বিনিয়োগের ব্যবস্থা হবে।

তিনি বলেন, ‘এনবিআর-ব্যবসায়ী সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যাতে বিনিয়োগও হয়, রাজস্বও বাড়ে। অর্থনীতির ৮২ শতাংশ বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল। সে জন্য কোনো আইন করার সময় বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়েই করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, না হয় এসব আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অসুবিধা হয়।’

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ বলেন, এনবিআর সম্পর্কে সাধারণ মানুষের আগে যে ধারণা ছিল, তা কেটে যাচ্ছে। এনবিআরের কর্মকাণ্ড মানুষের কাছে ধীরে ধীরে যাচ্ছে, তা ধীরে নয়, আরও দ্রুত নিতে হবে। এনবিআরের কার্যক্রম উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া দরকার। দেখা যাচ্ছে, অনেক ব্যবসায়ী রয়েছেন, যারা করের সঙ্গে যুক্ত নয়। কর দেয়া মানে দেশের সার্বিক অগ্রগতির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করা। নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ইউনিয়নের মেম্বার নির্বাচন করতে গেলেও রিটার্নের কাগজ দাখিল করতে হয়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শেহজাদ মুনীম। তিনি কাস্টমস ডিজিটাইজেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণের ক্ষেত্রে কাস্টমস একটি মুখ্য ভূমিকা পালন করছে।’ আঞ্চলিক পর্যায়ে বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ কাস্টমসের ‘গ্লোবাল নেটওয়ার্কড কাস্টমস (জিএনসি)’-এ অন্তর্ভুক্তকরণের ওপর জোর দেন তিনি। কাস্টমসের আধুনিকায়নের জন্য বেসরকারি খাত সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেÑএই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। উন্নয়নের মহাসড়কে এখন বাংলাদেশ। তবে মহাসড়কে এসে যদি আমরা গতি বাড়াতে না পারি, তাহলে মহাসড়কে আসার সুবিধা পুরোপুরি আমরা পাব না। গতি বাড়ানোর জন্য খুবই জরুরি হলো, তথ্য প্রযুক্তির সার্বিক ব্যবহার। এ জন্য সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের একটা আস্থার সম্পর্ক দরকার।

সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, কর-জিডিপির রেশিও নিয়ে অনেক কথা হয়। গত বছর আমরা একটা গবেষণা করেছি, সেখানে দেখেছি আমাদের ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও কিছুতেই ৯ শতাংশের বেশি হয় না। ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানও করছাড়ের আবেদন করে। সরকারি প্রতিষ্ঠান যখন করছাড়ের আবেদন করে তখন আমরা বিব্রত হই। সরকারের এক খাতের টাকা আরেক খাতে যাবে। এ অভ্যাস করতে হবে, কর দেয়ার কালচার বেগবান করতে হবে।