প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে জানুন

পূর্ব প্রকাশিতের পর……………….

পাইকারি দোকানদারি: পাইকারি ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়ায় পাইকারি দোকানদার উৎপাদকের কাছ থেকে বেশি পরিমাণে পণ্য ক্রয় করেন আর খুচরা দোকানদারদের কাছে অল্প পরিমাণে বিক্রি করেন। পাইকারি বিক্রেতা উৎপাদক ও খুচরা বিক্রেতার মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করেন। তবে পাইকারি বিক্রেতা যখন অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের জন্য পণ্য মজুত করে রাখেন বা অতিরিক্ত বেশি দামে খুচরা দোকানির কাছে বিক্রি করেন, তখন তাকে মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়া বলা হয়।

খুচরা দোকানদারি: যখন পণ্য বা সেবাসামগ্রী চহিদা অনুসারে অল্প পরিমাণে সরাসরি ভোক্তা বা ব্যবহারকারীর কাছে বিক্রি করা হয়, তখন তাকে খুচরা দোকানদারি বলে। ব্যবসা-বাণিজ্যে খুচরা দোকানদারি হলো সর্বশেষ বা চূড়ান্ত পর্যায় এবং এ পর্যায়ে পণ্য বা সেবাসামগ্রী সরাসরি ভোক্তা বা গ্রহীতার বা ব্যবহারকারীর কাছে নগদ মূল্যে বা কিস্তিতে বা বাকিতে বিক্রি করা হয়। যে ব্যক্তি খুচরা দোকানদারির সঙ্গে জড়িত থাকেন তাকে খুচরা দোকানি বলে। খুচরা দোকানদারি ছোট ছোট দোকান, বড় দোকান বা ডিপার্টমেন্ট স্টোর, সমবায় দোকান, সুপার মল/বাজার, হকারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। উৎপাদক ও পাইকারি বিক্রেতা ও ভোক্তার মধ্যে যোগসাধন বা সেতুবন্ধ রূপে এসব খুচর দোকানিরা কাজ করেন।

আন্তর্জাতিক দোকানদারি: এটিকে বৈদেশিক বা বহিস্থ দোকানদারি বলা হয়। যখন দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে ক্রয়-বিক্রয় সাধিত হয় তখন তাকে বৈদেশিক দোকানদারি বলা হয়। বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের মাধ্যমে বৈদেশিক বাণিজ্যে আর্থিক লেনদেন সংঘটিত হয়। স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরের মাধ্যমে পণ্য লেনদেন সম্পন্ন হয়। কোনো একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৈদেশিক বাণিজ্য নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। যে কোনো দেশের জন্য পণ্য বা সেবা রফতানি করতে পারাটা অর্থনৈতিক বিচারে উন্নতির নিয়ামকরূপে গণ্য হয়। তবে পণ্য বা সেবাসামগ্রী রফতানি করতে হলে অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো ও অধিকাঠামো শিল্প স্থাপন, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণের অনুকূল পরিবেশ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমদানিনির্ভর দেশ সব সময়ই পিছিয়ে থাকে।

বৈদেশিক লেনদেন বা বাণিজ্যের শ্রেণিবিভাগ

বৈদেশিক বাণিজ্যকে তিন ভাগ করা যায়।

যথা: আমদানি বাণিজ্য, রফতানি বাণিজ্য ও উদ্যোক্তা বাণিজ্য।

আমদানি বাণিজ্য: যখন কোনো ব্যবসায়ী অন্য দেশ থেকে নিজ দেশে পণ্য বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন, তখন তাকে আমদানি বাণিজ্য বলে। যেমন:বাংলাদেশের কোনো ব্যবসায়ী যদি চীন বা ভারত থেকে পণ্য বিক্রির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আনেন, তবে এটা আমদানি হিসেবে গণ্য হবে।

রফতানি বাণিজ্য : যখন কোনো ব্যবসায়ী নিজ দেশের পণ্য অন্য দেশে বিক্রি করেন তখন তাকে রফতানি বাণিজ্য বলে। যেমন: বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ওষুধ, তৈরি পোশাক, হিমায়িত চিংড়ি মাছ, চা, চামড়া বিদেশে বিক্রি করেন, এটি রফতানি বাণিজ্যের মধ্যে পড়ে।

উদ্যোক্তা বাণিজ্য: যখন কোনো পণ্য আমদানি করে সম্পূর্ণ প্রস্তুত পণ্য তৈরি করে ওই পণ্য আমদানিকারক দেশে বা অন্য দেশে রফতানি করা হয়, তখন এটিকে উদ্যোক্তা বাণিজ্য বা পুনঃরফতানি বাণিজ্য বলে। যেমন: বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের উদ্যোক্তারা বিদেশ থেকে ওষুধের কাঁচামাল আমদানি করে ওষুধ প্রস্তুত করে। এ ওষুধ আবার ওই দেশে বা অন্য দেশে রফতানি করে, এটা উদ্যোক্তা বাণিজ্যের মধ্যে পড়ে।

দোকানদারির সহায়ক সামগ্রী

ব্যবসা-বাণিজ্য বা দোকানদারি করতে গেলে নানা ধরনের সহযোগী সামগ্রীর সহায়তা নিতে হয়। যেমন:পরিবহন, গুদামজাতকরণ, ব্যাংকিং, বিমা, মোড়কজাতকরণ, বিজ্ঞাপন ও প্রচার সরাসরি পণ্য বা সেবাসামগ্রী নয়। কিন্তু পণ্য ও সেবায় বিক্রি-বিতরণ, অর্থ লেনদেন, আর্থিক নিরাপত্তা বিধান এবং প্রচার ও প্রসারের জন্য এসব উপাদানের সময়মতো সহযোগিতা না পেলে ব্যবসা-বাণিজ্যে ক্ষতির সম্মুুখীন হতে হয়। নিচে এসব সহায়ক উপাদানের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হলোÑ

পরিবহন: ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থান, কাল ও পাত্র বিবেচনায় মালামাল পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজনীয় কাজ। পরিবহনব্যবস্থা এ কাজটি আমাদের সহজ করে দিয়েছে। পণ্যদ্রব্য ও মানুষকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে দেওয়াই পরিবহনের কাজ। উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাতকরণের স্থান থেকে ভোক্তার কাছে পণ্য বা সেবাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া পরিবহনের প্রধান উদ্দেশ্য। পণ্য, শ্রমিক, কর্মচারী ও মেশিনারি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছানো ছাড়াও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উত্তম পরিবহন ব্যবস্থা অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক কল্যাণ ও দেশের রাজনৈতিক

স্থিতিশীলতা সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যান্য শিল্পপণ্যের মতো ওষুধশিল্পও দেশের একটি সুনির্দিষ্ট এলাকায় অবস্থিত থাকে। আর এটা নির্ভর করে কাঁচামাল ও শ্রমিকের সহজলভ্যতা, সুবিধাজনক গণপরিবহন ব্যবস্থা, স্থিতিশীল আবহাওয়া ও পারিপর্শ্বিক পরিবেশের ওপর। কারখানাস্থলে উৎপাদিত হওয়ার পর ওষুধ ও ওষুধজাতীয় পণ্যসামগ্রীকে অবশ্যই অতি অল্প সময়ের মধ্যে সারা দেশের রোগীদের কাছে অর্থাৎ ওষুধের দোকানে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। কেননা প্রতিটি ওষুধের সুনির্দিষ্ট মেয়াদকাল আছে এবং সময় অতিবাহিত হলে ওষুধ নষ্ট হতে শুরু করে। ওষুধের বিক্রি, বিতরণ ও বিপণনসহ কঁাঁচামাল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহের জন্য সুবিধাজনক পরিবহনব্যবস্থা থাকা জরুরি। ওষুধসহ অন্য মালামাল এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করার জন্য নানা রকম পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে। যেমন: সড়ক ও জনপথ, রেলপথ, বিমানপথ, জলপথ এবং তেল-গ্যাস ও অন্য তরল পদার্থের জন্য পাইপলাইন প্রভৃতি। এসব পরিবহনব্যবস্থার মধ্যে রেলপথ পণ্য ও শ্রমিক পরিবহনের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা। কারণ ১. রেলপথে পণ্য ও জনগণের সুরক্ষিত অবস্থায় থাকে; ২. স্বল্প খরচে বেশি পণ্য দূর-দূরান্তে অল্প সময়ে পৌঁছানো সম্ভব, ৩. রেলব্যবস্থা সরকার নিয়ন্ত্রণ করে বলে ভাড়া সস্তা।

গুদামজাতকরণ: সুবিধামতো সময়ে ব্যবহারের নিমিত্তে যখন পণ্যদ্রব্য সংগ্রহ, মজুত ও সংরক্ষণ করে রাখা হয় তাকে গুদামজাতকরণ বা আড়তদারি বলে। এ মজুতকরণ প্রক্রিয়া যখন বেশ বড়সড় আকারে ও বিশেষায়িত পদ্ধতিতে করা হয় তখন তাকে ওয়্যার হাউজিং বলে। আর পণ্য মজুতের মূল লক্ষ্য হলো পণ্যকে উপযুক্ত পরিবেশে সংরক্ষণ। যখন যে পরিমাণে প্রয়োজন তা বিনা বাধায় বাজারজাত করা যায়।

গুদামজাত করার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব: ১. আজকাল পণ্যদ্রব্য উৎপাদন একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া এবং উৎপাদিত সব পণ্য একবারে বাজারজাত করা যায় না, আবার সব পণ্য একবারে বিক্রিও হয় না। তাই অবিক্রীত পণ্য ও ভবিষ্যতে বিক্রি করা পণ্য গুদামজাত করে রাখা দরকার; ২. নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত কাঁচামাল মজুত রাখা দরকার; ৩. কিছু ওষুধ ঋতুভেদে বেশি ব্যবহৃত হয় কিন্তু উৎপাদন সারা বছর ধরেই হয়। ওইসব ওষুধ নির্দিষ্ট ঋতুতে পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ করতে মজুত রাখা দরকার; ৪. একবারে বেশি পণ্য কিনে রাখার জন্যও মজুতকরণ প্রয়োজন; ৫. চাহিদা বাড়বে/বাড়তে পারে বিবেচনায় কিছু পণ্য মজুতের দরকার হয়; ৬. ভবিষ্যতে মূল্য বাড়বে ও বেশি মুনাফা পাওয়া যাবে, এ বিবেচনায় কিছু পণ্য হিমাগারে সংরক্ষণক রা হয়। যেমন: শাকসবজি, আলু, ফলমূল প্রভৃতি; ৭. ভোক্তাকে নিয়মিত সরবরাহ করার জন্য খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাকেও মাঝে মাঝে মজুত করতে হয়।

মজুতকরণের মাধ্যমে সময়মতো গ্রাহক/ভোক্তার চাহিদা মোতাবেক যে কোনো পণ্য বাজারে নিয়মিত সরবরাহ বজায় রাখা যায়। এতে মূল্যও স্থিতিশীল থাকে।

ব্যাংকিং: ব্যবসায়-বাণিজ্য মানেই টাকার আদান-প্রদান বা লেনদেন। উৎপাদন, বিপণন থেকে শুরু করে কাঁচামাল, কলকব্জা ক্রয়, পরিবহন, গুদামজাতকরণ, বিমা, স্টাফদের বেতন-ভাতা ও নিত্যদিনের খরচ মেটানোর জন্য টাকা-পয়সা জরুরি। আর্থিক লেনদেনের জন্য সবচেয়ে উত্তম প্রতিষ্ঠান হলো ব্যাংক। দৈনন্দিন লেনদেন ছাড়াও ব্যাংক থেকে কিছু বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। যেমন: ওভার ড্রাফট, ক্যাশ ক্রেডিট, বিভিন্ন বিলের ওপর ডিসকাউন্ট বা বাট্টা প্রভৃতি।

বিমা: যে কোনো ব্যবসা-বাণিজ্যেই ঝুঁকি থাকে। যেমন: আগুন লাগা, দুর্ঘটনা, চুরি/ডাকাতির কবলে পড়া, ঝড়/তুফান, বন্যা, ভূমিকম্প, আর্থিক মন্দা, কর্মচারী বা অংশীদারের অসাধুতা, জাহাজডুবি, হরতাল, অবরোধ, শ্রমিক অসন্তোষ প্রভৃতি।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে যে ব্যবসায়িক ক্ষতি হয় তা সবচেয়ে ঝুঁকি এবং উপযুক্ত বিমা পলিসি গ্রহণ করলে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকির মঝে আছে পোকার আক্রমণ, অতিবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, বজপাত, অগ্নিকাণ্ড, বন্যা, খরা, ভূমিকম্প।

কর্মচারী ও অংশীদারের অসাধুতা, স্ট্রাইক, লকআউট (তালা মারা), চুরি প্রভৃতি ঝুঁকি পারস্করিক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে কমানো যায়। মূল্য কমে যাওয়া, চাহিদা ও সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তন, ধারে বিক্রি করাজনিত অর্থ আদায়ে অসফলতা প্রভৃতি ঝুঁকি বাজার প্রবণতা, সরকারের নীতিমালা ও দেনাদারের সুনাম বা দুর্নাম বিশ্লেষণের মাধ্যমে কমানো যায়।

পাওনা আদায় পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে পাওনাদারের কাছ থেকে পাওনা অর্থ আদায় করা যেতে পারে। প্রয়োজনীয় ও পর্যাপ্ত প্রিমিয়াম দিয়ে বিমা পলিসি গ্রহণ করলে এসব ঝুঁকির কারণে যে আর্থিক ক্ষতি হয় তা বিমা কোম্পানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাওয়া যায়। এভাবে বিমা কোম্পানিগুলো ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন রকম বিমা পলিসি আছে। যেমনÑনির্দিষ্ট পরিমাণ প্রিমিয়াম দিয়ে জীবনবিমা করলে জীবনের ঝুঁকি বা মৃত্যুজনিত ঝুঁকির ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়। অনুরূপ অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে অগ্নিবিমা ও জাহাজডুবির ক্ষেত্রে সমুদ্রবিমা করা যেতে পারে।

মোড়কীকরণ: মোড়কীকরণ একটি প্রকৃতির সুরক্ষা ব্যবস্থা। আমরা যেসব খাবার, যেমন : কলা, আম, কমলা, আখ প্রভৃতি খাই, তা মোড়ক সমতুল্য পুরু খোসা দিয়ে পরিবেষ্টিত থাকে বলেই ওইসব খাবারের খাদ্য ও পুষ্টিগুণ অক্ষুন্ন থাকে। অনুরূপভাবে ওষুধ উপযুক্ত মোড়কে আচ্ছাদিত থাকে বলেই উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে রোগীর সেবন পর্যন্ত তার রোগ নিরাময় করার ক্ষমতা অক্ষুন্ন থাকে। মোড়কের সংজ্ঞা হলো, মোড়কীকরণ হলো কলা ও বিজ্ঞান যার সমন্বয়ে কোনো পণ্যকে পরিবহন, মজুদকরণ, প্রদর্শন ও ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত করে প্রস্তুত করা হয়। কোনো ওষুধসামগ্রী অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে উৎপাদন করার পর যদি অবহেলার সঙ্গে মোড়কীকরণ করা হয় তবে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। বিভিন্ন মালামাল থেকে বিভিন্ন আকার-আয়তনের পাত্র বা ধারক তৈরি করা হয়। ফলে ওষুধ ও মোড়কীকরণ বস্তুর মধ্যে মিথস্ক্রিয়া হতে পারে। ফলে ওষুধ তার কার্যকারিতা হারাতে পারে। ফলে এদিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে।

বিজ্ঞাপন ও প্রচার: উৎপাদক-ব্যবসায়ী ও ভোক্তার মধ্যে পণ্যের সহজলভ্যতা ও প্রয়োগবিধি বা ব্যবহার সম্পর্কিত তথ্যাদি ও জ্ঞানের গ্যাপ বা শূন্যতা পূরণ করে বিজ্ঞাপন ও প্রচার। বিজ্ঞাপনের মূল লক্ষ্য হলো চাহিদার সৃষ্টি করা আর পণ্যের বিক্রি বাড়ানো। বিজ্ঞাপনের মাধ্যম হলো: টিভি, রেডিও, সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, দেয়াল পত্রিকা, বুকলেট, ফ্রি স্যাম্পল, বাণিজ্যমেলা, প্রদর্শনী ও বেলুন ও উম্মুক্ত জানালায় কাচের বাক্সে প্রদর্শনীর জন্য পণ্য সাজিয়ে রাখা প্রভৃতি।

অর্থনীতির উপাদান

অর্থনীতি কী: অর্থনীতি হলো একটি সামাজিক বিজ্ঞান, যা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের আর্থিক সমস্যা নিয়ে আলোকপাত করে। অন্য কথায় অর্থনীতি বলতে মানব চাহিদা মিটানো ও স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য সম্পদের যথোপযুক্ত বন্টন ও ব্যবহারকে বোঝায়।

মানুষের চাহিদা অসীম কিন্তু সম্পদ সীমিত। সেজন্য সম্পদের বৃদ্ধি ও চাহিদা যথাসম্ভব মেটানোর জন্য প্রতিটি মানুষ কোনো না কোনো অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত হয়। যেমন: ব্যবসায়ী বেশি মুনাফা অর্জনের জন্য ব্যবসা করেন, ডাক্তার রোগীর কাছ থেকে সেবার বিনিময়ে ফি নেন, চাকরিজীবীরা মাস শেষে বেতন পান, শ্রমিকরা মজুরি পান প্রভৃতি। আবার কিছু কাজ আছে, যেগুলো সমাজের চোখে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অর্থনৈতিক কর্মপরিধির আলোকে সম্পদের বৃদ্ধি ঘটায় না। যেমন, গৃহিণীর গৃহকর্ম, বেকারের সারাদিন ঘুরে বেড়ানো বা তাসখেলা, অবৈতনিকভাবে সমাজকল্যাণ কাজে সময় ব্যয় করা প্রভৃতি। অর্থনীতির উপাদান দুটি  অর্থনৈতিক কার্যাবলি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।

অর্থনৈতিক কার্যাবলি: সীমিত সম্পদের উত্তম ব্যবহার দ্বারা বিভিন্ন চাহিদা মেটানোর জন্য নিম্ন লিখিত অর্থনৈতিক কার্যাবলি গ্রহণ করা হয়:

এক. কোনো শিল্পকারখানা বা হাসপাতালে ওষুধ বা ওষুধের কাঁচামাল কেনার প্রয়োজন হলে শুধু অতি দরকারি কাঁচামাল বা ওষুধ কিনতে হবে। যে পরিমাণ লোকবল না হলেই নয় শুধু সে পরিমাণ লোকবল নিয়োগ করতে হবে। কোনোভাবেই অতিরিক্ত লোক নিয়োগ দেওয়া যাবে না।

দুই. আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী ও লাভজনক পণ্য ও সেবাসামগ্রী উৎপাদন করতে হবে।

তিন. পণ্য ও সেবাসামগ্রী কেনাবেচার সময় লক্ষ রাখতে হবে, যাতে সবচেয়ে কমদামে কেনা যায় আর ভালো মুনাফা পেয়ে বিক্রি করা যায়।

অর্থনৈতিক ব্যবস্থাসমূহ

সমাজব্যবস্থা বা রাষ্ট্রব্যবস্থার যে উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থা, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আর্থিক ব্যবস্থা নির্ধারিত হয়। আর্থিক ব্যবস্থা প্রধানত চার ধরনেরÑধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী ব্যবস্থা, সমাজতান্ত্রিক বা সাম্যবাদী ব্যবস্থা, মিশ্র ব্যবস্থা ও ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী ব্যবস্থা। এটাকে মুক্ত বাজার অর্থনীতিও বলা যায়। এ ব্যবস্থায় উৎপাদক যে কোনো পণ্য উৎপাদন করতে পারেন, যে কোনো সম্পদ কিনতে পারেন আবার ভোক্তারাও তাদের চাহিদা মেটানোর জন্য যে কোনো পণ্য যে কোনো পরিমাণ কিনতে পারেন। আরও যে স্বাধীনতা ভোক্তারা পান, তা হলো তারা নিজেদের আয় উপার্জন নিজেদের খুশিমতো খরচ করতে পারেন। এই ব্যবস্থায় সাধারণত উৎপাদন ও বিতরণের পন্থাগুলো ব্যক্তিমালিকানায় থাকে এবং তারা তা পরিচালনা করে মুনাফা অর্জন করতে পারেন। এ ব্যবস্থায় সরকারের ভূমিকা রেফারির মতো উৎপাদক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করে উৎপাদকদের মধ্যকার অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করে কোনো উৎপাদকের একক আধিপত্য খর্ব করে সাশ্রয়ী মূল্যে মানুষ যেন পণ্য ও সেবা পেতে পারে, সে ব্যবস্থা করা। (চলবে)

 

অধ্যাপক, ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়