কোম্পানি সংবাদ পুঁজিবাজার

ব্যবসা সম্প্রসারণে ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে স্কয়ার ফার্মা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যবসা সম্প্রসারণে নতুন করে আড়াইশ’ কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ। এছাড়া ২০২০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ বিএমআরই, মূলধনী যন্ত্রপাতি ও জমি বাবদ ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের অনুমোদন করেছে। আর ২০২০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫২ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। এর মধ্যে ৪৭ শতাংশ নগদ আর পাঁচ শতাংশ বোনাস।

আলোচিত এ হিসাববছরে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের বিক্রি হয়েছে পাঁচ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। যেখানে এর আগের বছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল পাঁচ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির বিক্রি বেড়েছে চার শতাংশ। আর এ সময়ে কোম্পানিটির কর পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে এক হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা। যেখানে এর আগের হিসাববছরে মুনাফা হয়েছিল এক হাজার ১৭২ কোটি টাকা। ২০২৯-২০ হিসাববছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৫ টাকা ৮২ পয়সা। যেখানে এর আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ১৪ টাকা ৯৮ পয়সা। ৩০ জুন ২০২০ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৯১ টাকা ৫৭ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে ১২ টাকা ৭৫ পয়সা। আগের বছরে ছিল ১৪ টাকা ৬৮ পয়সা। ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডা অনুমোদনের জন্য এ বছরের ১৫ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ নভেম্বর।

এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর শূন্য দশমিক ৭৮ শতাংশ বা এক টাকা ৬০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ২০৩ টাকা ৫০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ২০৩ টাকা ২০ পয়সা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ২০২ টাকা ৮০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২০৭ টাকায় হাতবদল হয়। দিনজুড়ে কোম্পানিটির ছয় লাখ ২২ হাজার ৫৬৬টি শেয়ার মোট এক হাজার ৮৫৪ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ১২ কোটি ৬৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ারদর ১৫৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ২৪৪ টাকায় ওঠানামা করে।

কোম্পানিটি ১৯৯৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে লেনদেন হচ্ছে। এক হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৮৪৪ কোটি ২৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ পাঁচ হাজার ৭৪৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

কোম্পানিটির মোট ৮৪ কোটি ৪২ লাখ ৩৯ হাজার ৫৯টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের কাছে ৩৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারী ১৭ দশমিক শূন্য দুই শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য-আয় অনুপাত ১২ দশমিক ৬৮ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ১২ দশমিক ৮৪।

এর আগে ২০১৯ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি ৪২ শতাংশ নগদ ও সাত শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৬ টাকা তিন পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৮৬ টাকা তিন পয়সা।

এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য কোম্পানিটি ৩৬ শতাংশ নগদ আর সাত শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। ২০১৮ সালে কোম্পানির ইপিএস হয়েছিল ১৫ টাকা ৭২ পয়সা আর এনএভি দাঁড়িয়েছিল ৭৮ টাকা ৪১ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে ১৫ টাকা ৫১ পয়সা ও ৭১ টাকা ৪৭ পয়সা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..