প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

ব্যবস্থা নেবে বিএসইসি বিও হিসাবের নানা অনিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিও হিসাবের নানা অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ বিষয়ে অচিরেই সার্কুলার জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
গতকাল কমিশনের ৬৯০তম নিয়মিত সভায় বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএসইসির নজরে এসেছে, ইদানীংকালে একই জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, একই মোবাইল নম্বর এবং একই ব্যাংক হিসাব নম্বর কিছু ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিও হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বেআইনি ও কোনোক্রমেই কাম্য নয়।
সে কারণে কমিশন সব ডিপোজিটরি অংশগ্রহণকারীর জন্য একটি সার্কুলার ইস্যুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যা অচিরেই ইস্যু করা হবে। ওই সার্কুলারে বর্ণিত ধরনের ব্যত্যয় থাকলে তা আগামী ২১ জুলাইয়ের মধ্যে ডিপোজিটরি অংশগ্রহণকারীদের সংশোধন করতে হবে।
উল্লেখ্য, যে ব্যক্তির নামে বিও হিসাব, ঠিক তারই জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, মোবাইল ফোন নম্বর এবং ব্যাংক হিসাব নম্বর ব্যবহার করতে হবে, কোনোক্রমেই অন্য কোনো ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, মোবাইল ফোন নম্বর বা ব্যাংক হিসাব নম্বর ব্যবহার করা যাবে না।
সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) কমিশনকে এ সার্কুলার অনুযায়ী একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে দাখিল করতে হবে, যাতে এ ধরনের কোনো ব্যত্যয় থাকলে তা উল্লেখ করতে হবে এবং সে অনুযায়ী কমিশন পরবর্তীকালে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এছাড়া বর্ণিত সার্কুলারে বিও হিসাবধারীকে ই-মেইল (যদি থাকে) সন্নিবেশিত করার জন্যও ডিপোজিটরি অংশগ্রহণকারীদের অনুরোধ করা হবে, যাতে হিসাবধারীরা কোম্পানি অথবা মিউচুয়াল ফান্ডের সব বিবরণী তথা নোটিস ই-মেইলের মাধ্যমে খুব সহজেই পেয়ে যান।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে আলাপে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, যেসব বিও হিসাবে ভুল তথ্য, মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দেওয়া আছে, তার বেশিরভাগই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয় আইপিওর শেয়ারে আবেদন করার জন্য। মূলত আইপিও শিকারিরা এ ধরনের তথ্য ব্যবহার করেন। আইপিওতে লটারি বিজয়ী হওয়ার জন্য তারা বিভিন্ন নামে অ্যাকাউন্ট করেন। এ ক্ষেত্রে শুধু প্রার্থীর মোবাইল নম্বর, পরিচয়পত্র নম্বরই নয়, কখনও কখনও তারা অন্যের ছবিও ব্যবহার করে থাকেন। এতে যেসব সাধারণ বিনিয়োগকারী লটারি বিজয়ী হওয়ার জন্য আবেদন করেন, তারা বঞ্চিত হন। ফলে বিএসইসির উচিত হবে বিষয়টি কঠোর হস্তে দমন করা।
জানতে চাইলে ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, কেউ যদি বিও অ্যাকাউন্টে ইচ্ছে করে ভুল তথ্য উপস্থাপন করেন অথবা সুযোগ নেওয়ার জন্য অন্য কারও তথ্য ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খোলেন, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আশা করছি, বিএসইসি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবে।

সর্বশেষ..