প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ব্যর্থ চীনের ‘শূন্য কভিড’ নীতি

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ব্যর্থ চীনের ‘শূন্য কভিড’ নীতি। ২০২০ সাল থেকে লড়াই শুরু করলেও কভিডকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না বেইজিং। এবার নতুন করে সংক্রমণের জেরে দেশটির আনহুই প্রদেশে কার্যত গৃহবন্দি অন্তত ১৭ লাখ মানুষ। খবর: ডয়েচে ভেলে।

গতকাল সোমবার আনহুইয়ে নতুন করে ৩০০ জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। তারপর সংক্রমণ ঠেকাতে ওই অঞ্চলের প্রায় ১৭ লাখ বাসিন্দাকে আইসোলেশনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জরুরি পরিষেবা ছাড়া ওই এলাকায় যানবাহনের চলাফেরা ও প্রবেশে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বলে রাখা ভালো অর্থনীতির দিক থেকে বিশ্বে চীনই একমাত্র বৃহৎ দেশ যারা ‘শূন্য কভিড’ নীতি মেনে চলেছে। এ নীতির মধ্য দিয়ে কভিডকে সমূলে ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর বেইজিং। শুধু তা-ই নয়, অন্যান্য দেশ যখন লকডাউন তুলে দিয়েছে বা অনেকটাই ছাড় দিয়েছে, তখন চীন এখনও কড়া নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটছে।

আনহুইয়ের প্রশাসন জানায়, গত সপ্তাহে সিশিয়ান ও লিংবি কাউন্টিতে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে নতুন করে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। শুধু কভিড টেস্টের জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে কভিড সংক্রমণের কারণে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল সাংহাই ও বেইজিংয়ে। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় চীনা অর্থনীতির দুই বৃহৎ কেন্দ্রে জারি বিধিনিষেধ আপাতত তুলে নেয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ফের আনহুইয়ে করোনা সংক্রমণ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বছর দুয়েক আগে কভিড মহামারির প্রকোপে যখন গোটা বিশ্ব ত্রস্ত ছিল, তখন সংক্রমণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছিল চীন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ক্রমে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। একের পর এক শহরে দ্রুত বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হন। এরপর ২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে সংস্থাটি।