প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের নির্দেশেই বাজার ইতিবাচক

রুবাইয়াত রিক্তা: সপ্তাহের প্রথমদিনে গতকাল ইতিবাচক গতিতে লেনদেন হয়েছে। বেশিরভাগ শেয়ারদর ও সূচক বাড়লেও কমেছে লেনদেন। মূলত গতকাল গ্রামীণফোন ও স্কয়ার ফার্মার শেয়ারে ভর করে সূচক চাঙা হয়ে ওঠে। গ্রামীণফোনের কাছে সরকারের পাওনা টাকা আদায় আদালতের মাধ্যমে নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে করা হবে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর এমন আশ্বাসে সবশেষ দুই কার্যদিবস ধরে গ্রামীণফোনের দর তুমুল গতিতে বাড়ছে। দুদিনে দর বেড়েছে ৫২ টাকা। এদিকে গতকাল লেনদেনের প্রথমার্ধে সূচক নেতিবাচক থাকলেও শেষার্ধের আগে বাংলাদেশ ব্যাংক তারল্য সংকট কাটাতে ব্যাংকগুলোকে শর্তসাপেক্ষে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের নির্দেশ দিয়ে সার্কুলার জারি করে। এরপর বাজারের গতিপথ ঘুরে যায়। শেয়ার কেনার চাপ বাড়লে সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়। গতকাল ওষুধ ও রসায়ন, প্রকৌশল, টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি, খাদ্য খাতের শেয়ার কেনার প্রবণতা বেশি ছিল।
ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৮ শতাংশ বা সাড়ে ৫১ কোটি টাকা লেনদেন হয় ওষুধ ও রসায়ন খাতে। এ খাতে ৭২ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। জেএমআই সিরিঞ্জের সোয়া ১১ কোটি টাকা লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে ৪৪ টাকা ৪০ পয়সা। কোম্পানিটি দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে। স্কয়ার ফার্মার সাড়ে আট কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে ১১ টাকা ১০ পয়সা। ওয়াটা কেমিক্যালের প্রায় ছয় কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে ৪১ টাকা ১০ পয়সা। কোম্পানিটি দরবৃদ্ধিতে সপ্তম অবস্থানে উঠে আসে। এছাড়া আট শতাংশ বেড়ে বীকন ফার্মা ও সোয়া পাঁচ শতাংশ বেড়ে সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের তালিকায় উঠে আসে। প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় ১৭ শতাংশ। এ খাতে ৭৩ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। মুন্নু জুট স্টাফলার্সের প্রায় ১৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দরপতন হয় ৩০ পয়সা। ন্যাশনাল টিউবসের প্রায় ১১ কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে সাড়ে চার টাকা। প্রায় আট শতাংশ বেড়ে কে অ্যান্ড কিউ দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে উঠে আসে। আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১২ শতাংশ বেড়ে গতকাল টেলিযোগাযোগ খাতে ১৪ শতাংশ লেনদেন হয়। এ খাতের মোট লেনদেনের ৯৩ শতাংশই ছিল জিপির দখলে। বাকি সাত শতাংশ ছিল বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল্সের। ৩৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা লেনদেন হয়ে শীর্ষে উঠে আসে গ্রামীণফোন। কোম্পানিটির দর বেড়েছে ২৪ টাকা ১০ পয়সা বা সাড়ে সাত শতাংশ। দরবৃদ্ধিতে পঞ্চম অবস্থানে ছিল কোম্পানিটি। গতকাল সূচকের উত্থানে বড় ভূমিকা ছিল জিপির। বিমা খাতে ৯ শতাংশ লেনদেন হলেও বিক্রির চাপ বেশি ছিল। এছাড়া আর কোনো খাতে উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়নি। বস্ত্র খাতে ৫৬ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। স্টাইল ক্রাফটের পাঁচ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়, দর বেড়েছে ৩০ টাকা ৯০ পয়সা। স্টাইল ক্রাফট ও খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে উঠে আসে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৬৮ শতাংশ, খাদ্য খাতে ৭০ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। ছোট খাতগুলোর মধ্যে তথ্য ও প্রযুক্তি এবং বিবিধ খাত ভালো অবস্থানে ছিল।

সর্বশেষ..