সুশিক্ষা

ব্যাংকিং পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ

এমবিএমে ভর্তির জন্য আবেদন করতে হবে ১২ নভেম্বরের মধ্যে

আর্থিক খাত, বিশেষ করে ব্যাংক খাতের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পরামর্শ সেবাদানের একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)। বাংলাদেশে পেশাদারি ব্যাংকিং বিষয়ে শিক্ষার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান এটি। বলা হয়ে থাকে, ব্যাংকিংয়ে ক্যারিয়ার গড়ার একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান বিআইবিএম।

এ প্রতিষ্ঠানের মাস্টার্স ইন ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (এমবিএম) বর্তমান সময়ে ব্যাংকার হওয়ার উচ্চাকাক্সক্ষা পোষণকারী তরুণদের কাছে একটি জনপ্রিয় বিষয়। যে কোনো ব্যাকগ্রাউন্ডের একজন গ্র্যাজুয়েট ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় মাস্টার্স (এমবিএম) করে সহজে ব্যাংকে চাকরি পাচ্ছেন। শিক্ষা জীবনের যে কোনো একটিতে প্রথম শ্রেণি থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সিজিপিএ-৫ স্কেলে ৪ ও সিজিপিএ-৪ স্কেলে ৩.৫০কে প্রথম শ্রেণি হিসেবে ধরা হয়। এমবিএমের শিক্ষাপদ্ধতি বহুলাংশে প্রায়োগিক হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ব্যাংকিংয়ে দক্ষ হওয়ার সুযোগ তুলনামূলক বেশিই পেয়ে থাকেন। এছাড়া তারা ব্যাংক খাতের দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পান।

এমবিএমের সাবেক সব শিক্ষার্থী সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ছাড়াও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। শিক্ষার্থীরা পঞ্চম সেমিস্টার শেষ হলেই বিআইবিএমে জব ফেয়ারের মাধ্যমে ব্যাংকে প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে সরাসরি নিয়োগের সুযোগ পান। বর্তমানে ২২টি ব্যাচের এক হাজারের বেশি সাবেক শিক্ষার্থী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। মূলত বিআইবিএমের দুবছর মেয়াদি এমবিএম কোর্সটি করা থাকলে ব্যাংক খাতে চাকরি পাওয়ার পথটি সুগম হয়। মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ব্যাংকের পক্ষ থেকে বৃত্তি দেওয়া হয়।

ঢাকা স্কুল অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (ডিএসবিএম) আওতায় পরিচালিত হয় এমবিএম কোর্স। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসবিএমের পরিচালক মোহাম্মদ মহীউদ্দিন ছিদ্দিকী বলেন, গবেষণা ও প্রশিক্ষণসহ নানাভাবে বিআইবিএম ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত। এমবিএমের কোর্স কারিকুলামে তা প্রয়োগ করা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা ব্যাংকিংয়ের বাস্তব জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দক্ষ হয়ে ওঠেন, যা পরবর্তী চাকরি জীবনে সাফল্য বয়ে আনে।

বিআইবিএমে এমবিএমে নতুন ব্যাচ ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যে কোনো বিষয়ে স্নাতক উত্তীর্ণরা এমবিএমে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। তার মোট স্কুলিং টাইম হতে হবে কমপক্ষে ১৬ বছর। ভর্তির আবেদনের জন্য শিক্ষাজীবনে কমপক্ষে একটি প্রথম বিভাগ থাকতে হবে, কোনো তৃতীয় বিভাগ থাকলে হবে না। স্নাতকদের প্রথম বিভাগ ধরা হবে সিজিপিএ ৩.৫০ থেকে আর এসএসসি ও এইচএসসির ক্ষেত্রে ৪.০০-এর ওপরে প্রথম বিভাগ। ৩.০০ থেকে ৪.০০ পর্যন্ত দ্বিতীয় বিভাগ ধরা হবে। প্রতিবছর অক্টোবর থেকে নভেম্বর ভর্তিসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এছাড়া একই যোগ্যতায় এমবিএম (ইভিনিং) কোর্সে প্রতিবছর এপ্রিলে একটি ব্যাচ ভর্তি করা হয়।

শুরুতে ব্যাংক খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা ছিল বিআইবিএমের লক্ষ্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ লক্ষ্যের বিস্তৃতি ঘটেছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উঠতি নতুন ও উদ্যমী শিক্ষার্থীদেরও শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এজন্য চালু হয়েছে একাডেমিক প্রোগ্রাম মাস্টার্স ইন ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (এমবিএম)। তাই যারা ব্যাংকিংকে পেশা হিসেবে নিতে চান, তাদের জন্য উপকারী হতে পারে এ কোর্সটি।

এমবিএম প্রোগ্রামের জন্য একজন শিক্ষার্থীকে দুবছরে ২০টি বিষয়ে ৬৬ ক্রেডিট সম্পন্ন করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে ফান্ডামেন্টাল কোর্স, স্পেশালাইজড কোর্স, ক্যাপসটন কোর্স ও ইলেকটিভ কোর্স। এছাড়া কোর্স ওয়র্ক, প্রজেক্ট পেপার ও মৌখিক পরীক্ষা রয়েছে। চার মাসমেয়াদি ছয় টার্মে কোর্সগুলো সম্পন্ন করতে হয়।

সবাইকেই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এজন্য আবেদনকারীকে ১৫০ মিনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। পরীক্ষার মধ্যে ৯০ মিনিট বরাদ্দ থাকে এমসিকিউ বা নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য। ৬০ মিনিটের মধ্যে লিখিত প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। নৈর্ব্যক্তিক অংশের প্রশ্ন করা হয় ইংলিশ প্রফিসিয়েন্সি ও ম্যাথমেটিকস অ্যান্ড অ্যানালিটিক্যাল অ্যাবিলিটির নানা অংশ থেকে। আর লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীর ফ্রি হ্যান্ড ইংরেজি লেখার ওপর দক্ষতা যাচাই নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। সাধারণত লিখিত পরীক্ষায় প্রথম ২০০ প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে ফলের ভিত্তিতে নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত ৫০ থেকে ৮০ শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পান।

# সুশিক্ষা ডেস্ক

সর্বশেষ..