প্রথম পাতা

ব্যাংকিং সেবার বাজার ধরতে চায় আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলো

বিআইবিএমের সেমিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংকের গ্রাহক নির্বাচন, পণ্যের প্রচার, নেটওয়ার্র্কিং সার্ভিলেন্স, সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা এনালাইসিস, স্যালারি শিট তৈরি ও প্রযুক্তির ব্যবহারে সতর্কতাসহ বিভিন্ন কাজ আউটসোর্সিং খাতে ছেড়ে দেওয়াযায়। আর এ খাতে সেবা দেওয়ার জন্য সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বাজার দেখছে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলো।

গতকাল রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টে (বিআইবিএম) অডিটোরিয়ামে ‘আউটসোর্সিং ইন ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস সেক্টর’ শীর্ষক কর্মশালায় এ কথা বলেন আলোচকরা। বিআইবিএম, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউট সোর্সিং (বাককো) এবং আইসিটি মন্ত্রণালয়ের এলআইসিটি প্রকল্প এ কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, ‘আউটসোর্সিং খাতে বাংলাদেশে ছয় লাখ তরুণ কাজ করছে। সংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশ আউটসোর্সিংয়ে তৃতীয়। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে প্রতি বছর এক বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ কাজ করছে বাংলাদেশের তরুণরা। কিন্তু দক্ষতার অভাবে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে উচ্চ আয়ের কাজ তেমন করতে পারছি না। এটি করতে পারলে খুব শিগগিরই পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বাজার ধরতে পারব আমরা। এজন্য নতুন নতুন ক্ষেত্র যুক্ত করতে চাই। ব্যাংক খাতেও আউটসোর্সিংয়ের অনেক ক্ষেত্র রয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে নগদ অর্থের লেনদেনের বাইরে কার্ড, অনলাইন ও মোবাইল ব্যাংকিং জনপ্রিয়তা বাড়ছে। যেভাবেই হোক আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় সবাইকে ব্যাংকিংয়ে আওতায় নিয়ে আসতে কাজ করছে সরকার। এক সময়ে ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে উঠবে বাংলাদেশে। তখন ব্যাংকের ভূমিকাই বেশি হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০৩০ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ৭০০ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকবে। ওই সময়ে ব্যাংক খাতের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি প্রয়োজন। এজন্য প্রত্যেক ব্যাংককে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যাংকিং পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

ডেটা রিকভারি সেন্টারের উদাহরণ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি করতে একটি ব্যাংকের অনেক বিনিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু এক জায়গায় করে দিলে সব ব্যাংক শেয়ার করতে পারবে। এতে ব্যাংকের খরচ কমবে। ব্যাংকের সঙ্গে কীভাবে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করতে পারে, সে জন্য অবকাঠামো এবং নীতি সহায়তা দেবে সরকার।

বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআইবিএমের অধ্যাপক ও পরিচালক ড. শাহ মো. আহসান হাবীব।

ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো আরও ভালো ব্যাংকিং সেবা গ্রাহকদের দিতে পারবে। এ খাতে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কিছু ঝুঁকি রয়েছে তা বিবেচনায় নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

বাককোর সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান শরীফ বলেন, বর্তমানে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশ মিলিয়ে প্রতি বছরে ৪০ কোটি ডলারের বাজার তৈরি করতে পেরেছে বাংলাদেশের আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলো। ২০২১ সালের মধ্যে আউট সোর্সিংয়ের বাজার ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ৪০ শতাংশ বা প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার বাজার ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া সম্ভব। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা ব্যাংকারদের সঙ্গে আলোচনায় বসছি।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বায়নের কারণে এমন অনেক কাজ ব্যাংকারদের করতে হচ্ছে, যা তাদের কাজ নয়। তারা শুধু মূল ব্যাংকিংয়ের কাজটি করবে। বাকি কাজগুলো আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিতে পারে। এতে ব্যাংকের পরিচালনা ব্যয় কমে আসবে। গ্রাহকসেবা আরও উন্নত হবে।

যদিও ব্যাংক খাতে আউটসোর্সিংয়ের বাজার কতটুকু আছে তা নিয়ে কোনো গবেষণা বা পরিসংখ্যান দিতে পারেননি তিনি।

দেশের ব্যাংক খাতে প্রযুক্তি পণ্যর ব্যবহার, সম্ভাবনা ও আর্থিক বাজার নিয়ে তথ্যবহুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান আলম। প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, এ পর্যন্ত ব্যাংকগুলো আইটি খাতে ৪৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এই বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পাবে। ফলে আউটসোর্সিংয়ের বাজারও তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছরে ব্যাংকিং খাতে অনলাইন (কার্ড, মোবাইল ও ইন্টারনেট) লেনদেন অতি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে; যা ব্যাংক খাতের মোট সম্পদের পাঁচ গুণ। ব্যাংক খাতে আউটসোর্সিংয়ের অনেক ক্ষেত্র আছে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এ বাজার ধরতে না পারলে বিদেশি প্রতিষ্ঠান দখলে নেবে।

আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন ব্যাংক ও আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। তারা বলেন, ব্যাংক খাতে আউটসোর্সিংয়ের অনেক ক্ষেত্র আছে। আউটসোর্সিংয়ের পক্ষে যুক্তি দিয়ে আলোচকরা বলেন, এতে ব্যাংকের ওপর বাড়তি চাপ ও খরচ কমবে। গ্রাহকসেবার মান বৃদ্ধি পাবে। ব্যাংকিংয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান হবে।

আউটসোর্সিংয়ের জন্য বেশকিছু ক্ষেত্রের সুপারিশ করেন ব্যাংকাররা। পাশাপাশি বিদ্যমান আউটসোর্সিং নীতিমালার সংস্কার চান তারা। এসব সুপারিশ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করার প্রতিশ্রুতি দেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..