প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ব্যাংকের অফশোর ইউনিটে খেলাপি ৯৮২ কোটি টাকা

জয়নাল আবেদিন: কনভেনশনাল ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি বিদেশি ব্যাংকিং ইউনিটেও (অফশোর ব্যাংকিং) খেলাপি হয়ে পড়েছে অনেক ঋণ। এতে ক্ষুণœ হচ্ছে দেশের ভাবমূর্তি। তৈরি হচ্ছে টাকা পাচারের তীব্র আশঙ্কা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর শেষে বিদেশি মুদ্রায় বিতরণ করা এসব ঋণের মধ্যে ৯৮২ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে পড়েছে, বৈদেশিক মুদ্রায় যা বিতরণকৃত মোট ঋণের এক দশমিক ২২ শতাংশ।

অফশোর ব্যাংকিং হলো ব্যাংকের অভ্যন্তরে পৃথক এক ব্যাংকিং ব্যবস্থা। বিদেশি কোম্পানিকে ঋণদান ও বিদেশি উৎস থেকে আমানত সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে অফশোর ব্যাংকিংয়ে। এতে স্থানীয় মুদ্রার পরিবর্তে বৈদেশিক মুদ্রায় হিসাব হয়। ব্যাংকের কোনো নিয়ম-নীতিমালা অফশোর ব্যাংকিংয়ে প্রয়োগ করা হয় না। কেবল মুনাফা ও লোকসানের হিসাব যোগ হয় ব্যাংকের মূল হিসাবে। বর্তমানে দেশি-বিদেশি ৩৫টি ব্যাংক অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, অফশোর ব্যাংকিংয়ের আওতায় বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ১৮১ কোটি টাকা, আগের প্রান্তিকের (জুন) তুলনায় যা ছয় হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা বেশি। সুতরাং এ সময় অফশোর ইউনিটে ঋণ বিতরণ বাড়লেও ঋণখেলাপি কমেছে।

প্রচলিত আইনের বাইরে ব্যাংকিংয়ের সুযোগ থাকায় সবাই এখন অফশোর ব্যাংকিংয়ের দিকে ঝুঁকছেন। তবে এ সুবিধা মূলত রপ্তানিকারকদের জন্য। কম সুদ হওয়ায় ব্যবসায়ীরাও এ ধরনের ঋণের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এছাড়া সুদের হার কম হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এখন অফশোর ইউনিট থেকে ঋণ পেতে আগ্রহী। বাজারে সুদের হার ৯ শতাংশের আশেপাশে হলেও এ ইউনিট থেকে এক থেকে তিন শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়া যাচ্ছে।

অফশোর ব্যাংকিং করছে যেসব ব্যাংক: বিদেশি মালিকানাধীন এইচএসবিসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, সিটিব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলোন, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ও উরি ব্যাংক অফশোর ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। এ ছাড়া দেশীয় ব্যাংকের মধ্যে বেসরকারি খাতের এবি, আল-আরাফাহ্, ব্যাংক এশিয়া, ব্র্যাক, ঢাকা, ডাচ্-বাংলা, ইস্টার্ন, এক্সিম, আইএফআইসি, ইসলামী, যমুনা, মার্কেন্টাইল, মধুমতি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, ন্যাশনাল, এনসিসি, ওয়ান, প্রিমিয়ার, প্রাইম, পূবালী, শাহ্জালাল ইসলামী, সোস্যাল ইসলামী, সাউথইস্ট, স্ট্যান্ডার্ড, দি সিটি, ট্রাস্ট, ইউসিবিএল ও উত্তরা ব্যাংক এ সেবা দিচ্ছে। তা ছাড়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে একমাত্র অগ্রণী ব্যাংক অফশোর ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত।

২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো অফশোর ব্যাংকিং পরিচালনার নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট থেকে বিতরণ করা ঋণের অন্তত ৭৫ শতাংশ বাংলাদেশে অবস্থিত কোম্পানিতে বিনিয়োগ করার বাধ্যবাধকতা দেয়া হয়। এতে ব্যাংকগুলোর ঋণ দেয়ার সক্ষমতা কমে যায়। অফশোর কার্যক্রমের তহবিল আহরণের সুযোগ বৃদ্ধি, বৈদেশিক তহবিলের ব্যবহার নিশ্চিত করা, তহবিল ব্যবস্থাপনা যথাযথ রাখার মাধ্যমে অফশোর ব্যবসার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমের আরও সুষ্ঠু বিকাশের জন্য ২০২০ সালের ১৮ জুন আইনে কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নগদ জমা সংরক্ষণের হার (সিআরআর) সাড়ে চার শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র দুই শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে একটি ব্যাংকের মূলধনের ২০ শতাংশের পরিবর্তে এখন থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে। এ সংশোধনের ফলে অফশোর ব্যাংকিংয়ে সক্ষমতা বেড়েছে।