প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

ব্যাংকের বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন

পুঁজিবাজারে তারল্য বৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তারল্য বাড়াতে ব্যাংকের বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় কিছুটা পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব পোর্টফোলিওতে সরাসরি বিনিয়োগ অথবা সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে ঋণ দিতে পারবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের অফসাইট সুপারভিশন বিভাগ থেকে এক সার্কুলার জারি করে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের পাঠানো হয়।
এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক শর্ত দিয়েছে, তারল্য সুবিধা নিতে ইচ্ছুক ব্যাংকের একক (সলো) ও সমন্বিত (কনসোলিডেটেড) উভয় ভিত্তিতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ব্যাংক কোম্পানি আইন-১৯৯১ (২০১৮ পর্যন্ত সংশোধিত) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের এ-সংক্রান্ত সার্কুলারে বর্ণিত সর্বোচ্চ সীমার কম হতে হবে। অর্থাৎ সলো ভিত্তিতে বিবেচ্য মূলধন উপাদানের ২৫ শতাংশ এবং কনসোলিডেটেড ভিত্তিতে বিবেচ্য মূলধন উপাদানের ৫০ শতাংশের কম হতে হবে।
এছাড়া এ সুবিধার অধীনে প্রাপ্ত তারল্য শুধু ব্যাংকের নিজস্ব পোর্টফোলিওতে সরাসরি বিনিয়োগ অথবা সাবসিডিয়ারি কোম্পানির নিজস্ব পোর্টফোলিওতে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট সাবসিডিয়ারি কোম্পানিকে ঋণ হিসেবে দেওয়া যাবে।
প্রাপ্ত তারল্য ব্যাংকের নিজস্ব পোর্টফোলিওতে বা সাবসিডিয়ারি কোম্পানির নিজস্ব পোর্টফোলিওতে বিনিয়োগের জন্য নতুন করে আলাদা বিও অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।
ব্যাংকের অতিরিক্ত তারল্য থেকে ট্রেজারি বন্ড বা বিল রেপোর মাধ্যমে এই তারল্য সুবিধা নিতে হবে। ট্রেজারি বন্ড বা বিলের রেপো মূল্যের পাঁচ শতাংশ মার্জিন হিসেবে রেখে তারল্য সুবিধা প্রদেয় হবে। নগদে রেপোর অর্থ পরিশোধে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখে সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটিজের বাজারমূল্যে আদায়যোগ্য অর্থ অপেক্ষা কম হলে তা এর আগে গৃহীত মার্জিন হতে সমন্বয় হবে এবং সমন্বয়ের জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হলে ব্যাংক তা দিতে বাধ্য থাকবে।
প্রাথমিকভাবে রেপোর মেয়াদ ২৮ দিন হলেও তহবিল ব্যবহারের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে তা সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত ঘূর্ণায়মান রাখা যাবে। এরূপ রেপোর জন্য কোনো নিলামের প্রয়োজন হবে না। সুদহার হবে ছয় শতাংশ। এরূপ তারল্য সুবিধা গ্রহণের জন্য যাচিত অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন এবং এ উদ্দেশ্যে সদ্য খোলা বিও হিসাবের প্রমাণপত্রসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের অফসাইট সুপারভিশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বরাবর আবেদন করতে হবে। প্রদানযোগ্য তারল্য সুবিধার পরিমাণের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে এবং পুনর্বিবেচনার জন্য কোনো আবেদন নেওয়া হবে না।
মেয়াদোত্তীর্ণ রেপো নবায়নের প্রয়োজন হলে তহবিল ব্যবহারের প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিও অ্যাকাউন্টের হিসাবসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বরাবর পাঁচ কর্মদিবস আগে আবেদন করতে হবে। সার্কুলার জারির তিন মাসের মধ্যে আবেদন করতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বর্তমানে অধিকাংশ ব্যাংকের অগ্রিম ও আমানত অনুপাত নির্ধারিত মাত্রা থেকে কম এবং বিধিবদ্ধ তারল্যের বাধ্যবাধকতা (এসএলআর) মানার পর অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে। এসব ব্যাংকের জন্য আইনি সীমার মধ্য থেকে পুঁজিবাজারে মৌলভিত্তির ইন্সট্র–মেন্টে বিনিয়োগের যথেষ্ট সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ব্যাংকগুলোর এরূপ বিনিয়োগে অংশগ্রহণ (নিজস্ব পোর্টফোলিওতে সরাসরি বিনিয়োগ অথবা সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে ঋণ প্রদানকরত ওই কোম্পানির নিজস্ব পোর্টফোলিওর আকার বৃদ্ধির মাধ্যমে পরোক্ষ বিনিয়োগ) পুঁজিবাজারে তারল্য সরবরাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি একটি গতিশীল পুঁজিবাজার নিশ্চিতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মনে করছে সংস্থাটি।

সর্বশেষ..