সম্পাদকীয়

ব্যাংকে আস্থা বাড়াতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় নজর দিন

কাক্সিক্ষত সেবা নিশ্চিত না হওয়ায় এবং ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ব্যাংক খাতে আস্থার সংকট বেড়েছে অনেক। ফলে খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি কিংবা ঋণ অবলোপনও বৃদ্ধি পাচ্ছে ক্রমেই। প্রভাবশালী মহল ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সঙ্গে কর্মকর্তাদের অদক্ষতা এতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন অনেকে। কিন্তু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকগুলো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে না পারায় সমস্যাগুলো আরও জটিল হচ্ছে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের। এজন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প নেই।
বিআইবিএম’র কর্মশালায় বিশেষজ্ঞদের মতামতের আলোকে গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিতে দক্ষ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জরুরি’ শিরোনামে একটি খবর ছাপা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দক্ষ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাই যথাযথ ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে পারে। দক্ষ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য ঝুঁকির সংস্কৃতি অনুধাবন, সব ধরনের নিয়ম-কানুন পরিপালন ও সুশাসন নিশ্চিত এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালার আলোকে প্রতিটি ব্যাংকে আলাদাভাবে নীতিমালা তৈরি করে তা বাস্তবায়ন করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা। দেশের ব্যাংক খাত একটি টালমাটাল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তাদের কথায় এটা স্পষ্ট। ফলে এ খাতে স্থিতিশীলতা আনতে বিশেষজ্ঞদের মতামত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা জরুরি।
ব্যাংকিং খাত সমস্যার আবর্তে জড়িয়ে পড়ার পেছনে খেলাপি ঋণকে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। প্রভাবশালী ও বড় ব্যবসায়ীদের নেওয়া বড় ঋণ বেশি খেলাপি হতে দেখা যায়। অথচ ছোট আকারের ঋণখেলাপি কম, পরিশোধের হারও সন্তোষজনক। কিন্তু এ ধরনের ঋণ বিতরণ না বাড়িয়ে ব্যাংকগুলোর বড় ঋণে আগ্রহ বেশি। ফলে ঋণখেলাপি বাড়ছে। ব্যাংকিং খাতে এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা তৈরির পেছনে কর্মকর্তাদেরও বড় দায় রয়েছে। বিআইবিএমের কর্মশালায়ও বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি তুলে ধরেছেন। সে ক্ষেত্রে তারা ব্যাংকগুলোকে দক্ষতার সঙ্গে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় জোর দিতে বলেছেন। ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে অনুধাবন করতে হবে।
বর্তমান অর্থমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংক খাত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় খেলাপি ঋণ না বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন। তবে এখনও এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রয়ে গেছে, যা উদ্বেগজনক। ব্যাংকিং খাতের এ সমস্যা আরও দীর্ঘায়িত হলে তা বিপর্যয় ডেকে নিয়ে আসতে পারে। সে বিবেচনায় বিশেষজ্ঞরা ঝুঁকি ব্যবস্থায় যেসব পরামর্শ দিয়েছেন, তা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে হবে। এজন্য অর্থঋণ আদালতকেও শক্তিশালী করা জরুরি। পাশাপাশি চিহ্নিত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ঝুঁকি চিহ্নিত করতে ব্যাংকারদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলেও আমরা মনে করি।

সর্বশেষ..