দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

ব্যাংকে ভয়াবহ ডিজিটাল দুর্যোগের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বব্যাপী যখন ক্যাশবিহীন লেনদেন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, ঠিক তখনই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বিগল বয়েজের মতো বিভিন্ন ডিজিটাল প্রতারক। ঝুঁকি বাড়ছে আর্থিক লেনদেনে। এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সুপ্রতিষ্ঠিত ডিজিটাল আইনের কোনো বিকল্প নেই। তা না হলে ভয়াবহ ডিজিটাল দুর্যোগ অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশের বেসরকারি ইনফরমেশন সিকিউরিটি কোম্পানি ব্যাকডোর প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর হাসান জোহা।

গতকাল ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত সমস্যা প্রযুক্তি দিয়েই সমাধান করতে হবে। এটা চিরতরে নির্মূল করা অসম্ভব। তবে সিকিউরিটি বাড়িয়ে প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলো প্রতিরোধ করা যায়। এজন্য গ্রহণ করতে হবে যথাযথ ব্যবস্থা। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ ব্যাংকেই সাইবার নিরাপত্তা বিষয়টি উপেক্ষিত। কেননা ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিরাপদ নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে উদাসীন। অধিকাংশ ব্যাংকে অনলাইন লেনদেনের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। হ্যাকিংয়ের নিত্যনতুন কৌশল সম্পর্কে ব্যাংকগুলোর সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ আপডেট থাকে না। এছাড়া নেটওয়ার্কের দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করার জন্য নিয়মিত পরিকল্পনামাফিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় না। কয়েকটা ব্যাংক ছাড়া বাকি ব্যাংকগুলোয় সার্বক্ষণিক, বিশেষ করে রাতের বেলা মনিটরিং করা হয় না। ফলে সাইবার আক্রমণের প্রচেষ্টা হলেও জানতে পারা যায় না এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয় ব্যাংকগুলো। এছাড়া ব্যাংকগুলোয় আধুনিক যন্ত্রপাতি ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে।

এসব সমস্যা সমাধানে ব্যাংকগুলোর নেটওয়ার্ক দুর্বলতা চিহ্নিত করে সার্বক্ষণিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন তানভীর জোহা। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার (এসওসি)।নেটওয়ার্কের যে কোনো ধরনের হ্যাকিং বা লেনদেন-সম্পর্কিত অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা সম্পর্কে আগাম পূর্বাভাস দিতে সক্ষম এসওসি।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাকিংয়ের পর নেটওয়ার্ক সুরক্ষার ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল ও অবকাঠামো তৈরির জন্য সরকার একাধিকবার ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে। এসব নির্দেশনা প্রতিপালন না করায় সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক একাধিক সার্কুলার জারি করে বিষয়টি সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের মনে করিয়ে দেওয়া হয়। এমন পরিস্থিতে এটিএম বুথ থেকে টাকা চুরির ঘটনাও ঘটেছে। আগেও হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..