সম্পাদকীয়

ব্যাংক ঋণের সুদ এক অঙ্কে আনতে উদ্যোগ নিন

ঋণখেলাপির রুগ্ণ সংস্কৃতি থেকে দেশকে আরোগ্য করা অপরিহার্য। আবার কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যবসাবান্ধব অর্থনীতির বিকল্প নেই। তবে বিত্তবানদের খেলাপি-সংস্কৃতির পেছনে ঋণের সুদহার কতটা দায়ী সে বিষয়ে বিতর্ক থাকলেও দারিদ্র্য বিমোচনে সুদের হার যে অন্যতম প্রধান অন্তরায় সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। তাই বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সুদের হার এক অঙ্ক বা শতকরা ৯ ভাগে নামিয়ে আনার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান জন আকাক্সক্ষার সমস্বর বলে বিবেচিত হয়।
২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপ করে এ বিষয়ে উদ্যোগী হন। সে সময় তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনলে জনগণ ব্যাংকিংয়ে উদ্বুদ্ধ হতে পারে এমন পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সে সময় প্রধানমন্ত্রী ব্যাংকগুলোকে কিছু বাড়তি সুবিধাও দিয়েছিলেন। নগদ জমার বাধ্যবাধকতা সাড়ে ছয় শতাংশ থেকে সাড়ে পাঁচ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আমানতের ৫০ শতাংশ বাধ্যতামূলকভাবে বেসরকারি ব্যাংকে রাখার মতো সুবিধা বাগিয়ে আনার পরেও সবগুলো ব্যাংক কথা দিয়ে কথা রাখেনি। মাত্র ২১টি ব্যাংক সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়েছে। অন্যদের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের আলাপ এগিয়ে চলছে বলে অর্থমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন।
কার্যত, এই উচ্চহারে সুদের হার ব্যবসা পসারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিসহ দেশের অর্থনীতিকে বিপদগ্রস্ত করে তুলছে। ব্যবসা না বাড়লে দেশের কর্মসংস্থান বাড়বে না তথা প্রতিবছর কর্মক্ষম জনশক্তির অন্তর্ভুক্তিতে কর্মসংস্থান হার আরও কমে আসবে। কিন্তু এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে প্রযুক্তি, কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা দেওয়ার ভেতর দিয়ে তিন কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিবেশ তৈরি করা হবে। এই কর্মসংস্থান বলতে চাকরির চেয়ে উদ্যোক্তা সৃষ্টিকেই প্রধানমন্ত্রী জোর দাবি জানিয়েছে। সেক্ষেত্রে ব্যাংকঋণে সুদের চাপ জনশক্তির উদ্যোম ও সুযোগ নষ্ট করে দিতে পারে। তবে এক অঙ্কের সুদে ব্যাংকগুলো যথেষ্ট পরিমাণ আমানত পাচ্ছে না এবং হঠাৎ করেই এ আদেশ আসার কারণে ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় কিছু ঝামেলা তৈরি হয়েছিল বলে ব্যাংকগুলোর কিছু অভিযোগ আছে। এসব অজুহাত ও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক অর্থমন্ত্রী এক অঙ্কে সুদহার নামিয়ে আনা কঠিন বলে মন্তব্য করেছিলেন। অথচ বর্তমান অর্থমন্ত্রী শিগগিরই সমস্যা সমাধান হবে বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যেসব ব্যাংক এক অঙ্কে নামবে না তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতার হুমকি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাই অচিরেই ঋণ-সুদের হার সার্বিকভাবে কমে এসে শতকরা ৯ ভাগে স্থির হবে এবং দেশের ব্যবসা ও কর্মসংস্থান তথা অর্থনীতি সুগম হবে বলে আমরা আশা রাখছি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..