প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

ব্যাংক ও বিমা খাতে আগ্রহ বেশি ছিল বিনিয়োগকারীর

শেখ আবু তালেব: পতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি দেশের পুঁজিবাজার। গতকালও বড় মূলধনি দুটি খাতের ওপর ভর করে সূচকের পতন কিছুটা কমেছে। ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ থাকায় বড় পতনের হাত থেকে রক্ষা পায় সূচক। এর বাইরে থাকা খাতগুলো এখনও পতনের বৃত্তে রয়েছে। বড় মূলধনি খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পতনের মুখে পড়ে প্রকৌশল খাত।

গতকাল দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শুরুতেই সূচকের পতন ঘটে। কয়েকবার ওঠার চেষ্টা করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। লেনদেন শুরুর মুহূর্তে সূচকের যতটুকু পতন হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি।

দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সূচক হারায় ১০ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ২২ শতাংশ। একইসঙ্গে পতন ঘটে অন্য দুই সূচকেরও।

জানা গেছে, সূচককে লেনদেন শুরুর পয়েন্টে আনতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার লেনদেনে কম আগ্রহ দেখান। অধিকাংশের আগ্রহ ছিল ব্যাংক ও বিমা খাতে। এতেই ভর করে এগিয়েছে সূচক।

ডিএসইতে গতকাল মোট ৩৫০টি সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে লেনদেনে শেষে দেখা যায়, শেয়ারদর বৃদ্ধি পায় ১৪৫টির বা ৪১ শতাংশের, দর কমে ১৬২টির বা ৪৬ শতাংশের এবং দর পরিবর্তন হয়নি ৪৩টির। লেনদেন হয় ৩১৩ কোটি ১৪ লাখ টাকার।

লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আর্থিক খাতগুলোর মধ্যে ব্যাংক, বিমা ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যে তুলনামূলকভাবে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি ছিল বিমা খাতে। খাতটির ৪৬টি কোম্পানির মধ্যে দর বৃদ্ধি পায় ৩৯টির, কমে সাতটির। মোট লেনদেনে অবদান রাখে ২২ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

বিমা খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চার দশমিক ৯৩ শতাংশ শেয়ারদর বৃদ্ধি হয় গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের। গতকাল সাড়ে ২২ টাকা দরের শেয়ারটি ২৪ টাকায়ও লেনদেন হয়। দিনশেষে শেয়ারটির দর স্থির হয় ২৩ টাকা ৪০ পয়সায়। কিন্তু সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয় সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার।

অপরদিকে ব্যাংক খাতের ৩০টি কোম্পানির মধ্যে শেরারদর বৃদ্ধি পায় ১৬টির, কমে ছয়টির ও অপরিবর্তিত ছিল আটটির। মোট লেনদেনে ব্যাংক খাত অবদান রাখে ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। খাতটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি তিন দশমিক ১৯ শতাংশ শেয়ারদর বৃদ্ধি পায় আইএফআইসি ব্যাংকের। যদিও শেয়ারটির দর অভিহিত মূল্যেও নিচে রয়েছে। গতকাল শেষ পর্যন্ত ৯ দশমিক সাত টাকায় লেনদেন হয়েছে প্রতিটি শেয়ার। লেনদেন সবচেয়ে বেশি হয়েছে প্রিমিয়ার ব্যাংকের।

এছাড়া ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতের মধ্যে শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে ১০টির, কমেছে সাতটির এবং দর পরিবর্তন হয়নি ২২টির। প্রকৌশল খাতের মধ্যে শেয়ারদর বৃদ্ধি পায় ১২টির, কমে ২৫টির এবং দর অপরিবর্তিত ছিল মাত্র দুটির। ডিএসইর মোট লেনদেনে অবদান রাখে ১৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

অপরদিকে বড় দরপতন হয় ওষুধ ও বস্ত্র খাতের কোম্পানির শেয়ারদরে। বস্ত্র খাতের ৩৮টি কোম্পানিরই শেয়ারদর পতন হয়। ওষুধ খাতের ৩২টির মধ্যে ২০টিরই শেয়ারদরে পতন ঘটে।

জানা গেছে, প্রায় ৬৯ শতাংশ বিনিয়োগকারীর আগ্রহ ছিল ৩০ থেকে ৫০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনি কোম্পানির শেয়ারে। গতকাল গেইনারের শীর্ষে ছিল গোল্ডেন হারভেস্ট এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। আগের দিনের করপোরেট ঘোষণায় এদিন শেয়ারটি গেইনারের শীর্ষে উঠে আসে।

সর্বশেষ..