ব্যাংক খাতেই বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সর্বোচ্চ

সূচকের বড় লাফ

মো. আসাদুজ্জামান নূর: বেশ কয়েকটি ইতিবাচক খবরে পুঁজিবাজারে ফিরেছেন বিনিয়োগকারীরা। এর প্রভাবে গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তিনশ’র কাছাকাছি কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে। দিন শেষে সূচক বেড়েছে দুই শতাংশের বেশি। গতকালের লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা যায়, দিনের শুরু থেকে ক্রেতারা সক্রিয় ছিলেন। ফলে সূচকের উত্থানের মধ্যে দিনভর লেনদেন সম্পন্ন হয়। যদিও টাকার অঙ্কে লেনদেন কিছুটা কমেছে।

ডিএসইর তথ্যমতে, গতকাল ডিএসইতে এক হাজার ১০২ কোটি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের দিনের চেয়ে যা ৪৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা কম। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ১৪৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

খাতভিত্তিক লেনদেন চিত্রে দেখা যায়, ধারাবাহিকভাবে লেনদেনে শীর্ষ অবস্থানে ছিল ব্যাংক খাত। একক খাত হিসেবে ৩৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ অবদান রাখে এটি। ব্যাংক ছাড়াও বিবিধ এবং ওষুধ রসায়ন খাতের শেয়ার কেনায় আগ্রহী ছিলেন বিনিয়োগকারীরা। এ দুই খাত ছাড়া আর কোনো খাতের লেনদেন ১০ শতাংশ ছাড়ায়নি।

গতকাল ব্যাংক খাতের ২৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বাড়ার বিপরীতে দুটি করে প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমতে ও অপরিবর্তিত থাকতে দেখা গেছে। আগের কার্যদিবসেও শীর্ষে থেকে এ খাতের অবদান ছিল ৩৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

এরপর বেশি লেনদেন হয়েছে বিবিধ খাতে, যার মাধ্যমে এ খাতের অবদান দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। দর বাড়ার দিনে এ খাতেরও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ে। ১০টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার বিপরীতে কমে মাত্র তিনটির। আগের দিন এ খাতের অবদান ছিল ১১ দশমিক ১৪ শতাংশ।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতে ২৪টি কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ে, দুটির কমে ও তিনটির অপরিবর্তিত থাকতে দেখা যায়। আগের কার্যদিবসে ১৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ অবদান রাখা এ খাতের লেনদেন কমে গতকাল অবদান ছিল ১০ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা বস্ত্র খাতের অবদান ছিল সাত দশমিক ৯১ শতাংশ। আগের কার্যদিবসে এটি ছিল ১০ দশমিক শূন্য দুই শতাংশ। গতকাল এ খাতের ৩৬টি কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ার বিপরীতে কমেছে ১৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল সাতটির।

পঞ্চম অবস্থানে থাকা জীবন বিমা খাতের ১২টির কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি পায় এবং মাত্র একটির দর হ্রাস পায়। আগের কার্যদিবসে দুই দশমিক ৫৫ শতাংশ অবদান রাখা এ খাতের অবদান গতকাল দাঁড়ায় পাঁচ শতাংশ। এছাড়া গতকাল বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের তালিকায় ছিল জ্বালানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আইটি প্রভৃতি।

ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা ক্রয়মূল্যে বিবেচনা ও বন্ডে বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানানোর পর পড়তে থাকা শেয়ারমূল্য গতকাল লাফ দেয়। তবে সূচকের ঊর্ধ্বগতিতেও লেনদেন সেভাবে গতি পায়নি। বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ এখনও বাজারকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে। আবার যারা বেশি দামে শেয়ার কিনে ধরে রেখেছেন, তাদের কেনা দামের কাছাকাছিও আসেনি শেয়ার। এ কারণে বিক্রয় চাপ কম ছিল। এ কারণে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কম হয়েছে।

গতকাল লেনদেন হওয়া সিকিউরিটিজের মধ্যে দর বেড়েছে ২৯৩টির, কমেছে ৪৫টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৩৫টির। এর প্রভাবে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৪৩ পয়েন্ট বা দুই দশমিক ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সূচকের অবস্থান দাঁড়ায় ছয় হাজার ৮৪৭ পয়েন্টে। অপর দুই সূচকও দুই শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। শরিয়াহ্ সূচক ডিএসইএস ৩২ পয়েন্টে বেড়ে এক হাজার ৪৩৭ পয়েন্টে এবং বিশেষ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস৩০ সূচক ৭৩ পয়েন্ট বেড়ে দুই হাজার ৫৮৯ পয়েন্টে অবস্থান করে।

সূচক বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকায় ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। টানা পাঁচ কর্মদিবস দর হারানো কোম্পানিটির শেয়ারদর এক দিনে বাড়ল ৯ দশমিক আট শতাংশ। এর প্রভাবে সূচকে যোগ হয়েছে ২১ দশমিক ২৩ পয়েন্ট।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯৮৩১  জন  

সর্বশেষ..