প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

ব্যাংক খাতের একক দর বৃদ্ধি সূচক ইতিবাচক করতে ব্যর্থ

রুবাইয়াত রিক্তা:পুঁজিবাজার গতকাল বড় দরপতনের কবলে পড়ে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৭০ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। বেড়েছে মাত্র ১৮ শতাংশ কোম্পানির দর। ব্যাংক ছাড়া সব খাতেই বড় পতন হয়। গতকাল লেনদেন ও দরবৃদ্ধিতে ব্যাংক খাত এগিয়ে থাকলেও এ খাতের একক প্রচেষ্টায় সূচক ইতিবাচক হতে পারেনি। অন্যান্য খাতের ব্যাপক পতনে বাজার নেতিবাচক অবস্থানে চলে যায়। অধিকাংশ কোম্পানি দরপতনে থাকলেও  জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ইউনাইটেড পাওয়ার দরবৃদ্ধি ও লেনদেনে নেতৃত্ব দেয়।

সাড়ে ১৮ শতাংশ লেনদেন হয়ে বিমা খাত শীর্ষে থাকলেও এ খাতে ছিল মুনাফা তোলার প্রবণতা। বিমা খাতে ৬৬ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। প্রায় ছয় শতাংশ বেড়ে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স ও সাড়ে চার শতাংশ বেড়ে প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের তালিকায় উঠে আসে। এর মধ্যে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। আগের দিনের চেয়ে আট শতাংশ বেড়ে ব্যাংক খাতে লেনদেন হয় ১৬ শতাংশ। এ খাতে ৮০ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের তালিকায় ৬০ শতাংশই ছিল ব্যাংক খাতের দখলে। প্রিমিয়ার ব্যাংকের প্রায় ১১ কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে ৩০ পয়সা। এছাড়া সোয়া ছয় শতাংশ বেড়ে ট্রাস্ট ব্যাংক, সাড়ে চার শতাংশ বেড়ে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, সোয়া চার শতাংশ বেড়ে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, চার শতাংশ বেড়ে পূবালী ব্যাংক, তিন শতাংশ বেড়ে ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংক দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের তালিকায় অবস্থান করে। প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় ১৪ শতাংশ। এ খাতে প্রায় ৯০ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। ন্যাশনাল টিউবসের ১২ কোটি টাকা লেনদেন হলেও ১৩ টাকা ৮০ পয়সা দরপতন হয়। মুন্নু স্টাফলার্সের সাত কোটি টাকা লেনদেন হয়। দরপতন হয় প্রায় ৮২ টাকা। ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয় ১৩ শতাংশ। এ খাতে ৭৮ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। ওয়াটা কেমিক্যালের প্রায় ৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দরপতন হয় ৫৫ টাকা ৪০ পয়সা। স্কয়ার ফার্মার সোয়া আট কোটি টাকা লেনদেন হয়, দরপতন হয় পাঁচ টাকা ৮০ পয়সা। এদিকে তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন অনুসারে, গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন লোকসান কাটিয়ে মুনাফায় আসায় কোম্পানিটি গতকাল দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে।   জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে লেনদেন হয় ১০ শতাংশ। এ খাতে মাত্র তিন কোম্পানির দর বেড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৩ কোটি টাকা লেনদেন হয় এবং ২১ টাকা ৯০ পয়সা দর বেড়ে লেনদেন ও দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে ইউনাইটেড পাওয়ার। এছাড়া সামিট পাওয়ারের পাঁচ কোটি ৬৪ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৪০ পয়সা।  আর কোনো খাতে উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়নি। বস্ত্র খাতে ৮৯ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। টেলিযোগাযোগ, পাট, সেবা ও আবাসন, ভ্রমণ ও অবকাশ খাত এবং  কাগজ ও  মুদ্রণ খাত শতভাগ নেতিবাচক ছিল।     

সর্বশেষ..