মার্কেটওয়াচ

ব্যাংক খাতে অরাজকতাই বাজার পতনের মূলে

প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে শেয়ার বিজের নিয়মিত আয়োজন ‘এনটিভি মার্কেট ওয়াচ’ পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো:

সম্প্রতি ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারীর বিষয়টি নিয়ে পুঁজিবাজারে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। অনেকের ধারণা, এর কারণে পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে এ কারণে বাজার নি¤œমুখী হওয়ার যৌক্তিকতা নেই। যদি এর প্রভাব থাকতো তাহলে বাজার ইতিবাচক হতো। বাজার এমন অবস্থায় পড়ার কারণ হচ্ছে, ব্যাংক খাতে অরাজকতা। কারণ ব্যাংক খাত হচ্ছে পুঁজিবাজারের ডান হাত। ফলে ব্যাংক খাতে যে কেলেঙ্কারিগুলো হচ্ছে তার একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক পুঁজিবাজারের ওপর। এ খাতের ওপর দেশের জনগণের যে আস্থা ছিল সেটি বর্তমানে অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। মোটা অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে সময় নিতে হচ্ছে। কিছু ব্যাংক আবার মাঝারি অংকের অর্থও সরবরাহ করতে পারছে না। এসব কারণে বাজারে এক ধরনের সংশয় বা আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন ফিনিক্স সিকিউরিটিজ লিমিটেডের সাবেক এমডি এমএ কাদির চৌধুরী।

এমএ কাদির চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি স্ট্রাটেজিক পার্টনারের বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে দেশে। চীন নাকি ভারত, কে হতে যাচ্ছে স্ট্রাটেজিক পার্টনার সেটি নিয়ে এক ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব চলছে কম-বেশি সবার মধ্যে। অনেকের ধারণা, এটির কারণে পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তবে আমি মনে করি, এটির কারণে বাজার নি¤œমুখী হওয়ার যৌক্তিকতা নেই। যদি এর প্রভাব থাকত তাহলে সেটি ইতিবাচক প্রভাব হওয়ার কথা ছিল। কারণ তারা আমাদের বাজারে আসছে, তাই। প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে এমন অবস্থায় বাজার কেন পড়ছে? পুঁজিবাজারের পতনের পেছনে মূল কারণ মনে করি ব্যাংক খাতে অরাজাকতা। কারণ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ব্যাংক খাত হচ্ছে পুঁজিবাজারের ডান হাত। ফলে ব্যাংক খাতে যে কেলেঙ্কারিগুলো হচ্ছে তার একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক পুঁজিবাজারের ওপর। এ খাতের ওপর দেশের জনগণের যে আস্থা ছিল সেটি বর্তমানে অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। দেখা যাচ্ছে, মোটা অংকের অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে টাকা দিতে পারছে না ব্যাংকগুলো। তারা সময় চাচ্ছে। কিছু ব্যাংক আবার মাঝারি অঙ্কের ফান্ডও দিতে পারছে না। সব মিলিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের সংশয় বা আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া সুদের হার যদি ডাবল ডিজিট হয়ে যায় তাহলে পুঁজিবাজারের একটি বড় অঙ্কের অর্থ ব্যাংক খাতে চলে যাবে। কারণ পুঁজিবাজার একটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এবং এটি স্বীকার করতেই হবে। ফলে সুদের হার বাড়লে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ বাজারে থাকতে আগ্রহী হবে না এবং তারা ব্যাংকের দিকে ঝুঁকে পড়বে। তবে এখানে ঝুঁকি থাকলেও লাভ হয় অনেক বেশি এবং অনেকে ক্ষতিগ্রস্তও হয়। কিন্তু যারা পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে তারা ব্যাংকের লভ্যাংশের জন্য বাজার থেকে টাকা তুলে ব্যাংকে রাখেন না।

তিনি বলেন আমাদের সমস্যা হচ্ছে, বাজারটি অস্থিতিশীল এবং নীতি-নির্ধারকদের কারণেই এমনটি হচ্ছে। তাছাড়া বাজারে ভালো কোম্পানির অভাব রয়েছে। আর ভালো কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনার দায়িত্ব মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর। কিন্তু তাদের এ ব্যাপারে তেমন কোনো মাথাব্যথাই নেই। দেশে ৫৭টি মার্চেন্ট ব্যাংক আছে। তারা যদি বছরে একটি করে কোম্পানি আনে, তাহলেও বছরে অনেকগুলো কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বলা আছে যে ‘বাজার তার নিজস্ব গতিতে চলুক, কারো কোনো হস্তক্ষেপের দরকার নেই’। কিন্তু বিএসইসি, এসইসি বা ডিএসই কেউই এই নিয়ম মানছে না। তাছাড়া বাজার ভালো করার জন্য নীতি-নির্ধারক মহলে যারা আছেন তাদের যে কৌশলগত জ্ঞান বা কর্মপদ্ধতি প্রয়োগ করা দরকার সেটির অভাব আছে। এছাড়া বাজারে দক্ষ ব্যবস্থাপনারও অভাব আছে বলে মনে করি।

 

শ্রুতিলিখন: রাহাতুল ইসলাম

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..