সম্পাদকীয়

ব্যাংক খাতে অসুস্থ প্রতিযোগিতা কাম্য নয়

বাজার অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতাপূর্ণ ব্যাংক ব্যবস্থা প্রত্যাশিত। কিন্তু ব্যাংকের সংখ্যা, অপারেশন এরিয়া, অ্যাকসেস টু ক্রেডিট, ব্যয়, আর্থিক সেবা, ইনোভেশনের মতো বিভিন্ন প্রতিযোগিতা জাতীয় আর্থসামাজিক কাঠামোকে চাঙা করলেও তা যে কোনো পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ। কার্যত এসব সূচকে প্রতিযোগিতা যখন অসুস্থ উপায় অবলম্বন করে তখনই ব্যাংকব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এসব ঝুঁকি নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু নীতিমালা রয়েছে। সেসব নীতিমালা সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকভেদে যেমন সুনির্দিষ্ট কিছু বৈষম্য সৃষ্টি করে, তেমনি কিছু ব্যাংক নীতিমালা অগ্রাহ্য করেই চলছে। এখানে সুশাসন ও সমতা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের কর্তাজনদের ওপর বর্তায়। তাছাড়া সুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টিতে পর্যাপ্ত গবেষণার বিকল্প নেই।
অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং গ্রাহকদের সুবিধা বিচারে ব্যাংকিং না হওয়ায় ১৬ লাখের বেশি হিসাব যেমন বন্ধ হয়েছে, তেমনি ঋণখেলাপিতেও প্রভাব ফেলেছে। সরকারি ব্যাংকের অনুরূপ বেসরকারি ব্যাংকের গ্রাহকরা আমানত সুবিধা পাচ্ছে না। এক্ষেত্রে আগ্রাসী ব্যাংকিং পরিহার করতে হবে। তাছাড়া নতুন ব্যাংক অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রেও কর্তৃপক্ষকে বিচারবোধ সম্পন্ন হতে হবে। ঊর্ধ্বতন রাষ্ট্রযন্ত্রের চাপে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অপারগতার কথাও উঠে আসে। নতুন ব্যাংক বাজারে এলে উচ্চহারে আমানত সংগ্রহ ও ঋণ বিতরণ হয়ে থাকে। মালিকপক্ষের চাপের মুখে কিছু গ্রাহক ঋণপ্রাপ্তিতে অসম সুবিধা পেয়ে থাকে। উপরন্তু নতুন উদ্যোক্তাদের যোগ্যতা বিচার না করেই কিছু ব্যাংকঋণ প্রদানে প্রতিযোগিতা শুরু করে। এগুলো ঋণ ঝুঁকির কারণ। শহরভিত্তিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে ঝুঁকি ও প্রতিযোগিতা উভয়ই বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা মেনে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকের শাখা প্রতিষ্ঠা করলে সুফল পাওয়া যাবে এবং প্রতিযোগিতায় ভারসাম্য সৃষ্টি হবে। এসএমই খাতে ঋণ বাড়াতে হবে এবং ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে ঢাকা চট্টগ্রামের বাইরে রাজশাহী-খুলনায়ও নজর দেওয়া জরুরি। বস্তুত বর্তমানে ব্যাংক খাতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হলেও উদ্ভাবন কম। কিন্তু সুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টিতে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন পণ্য যোগ করার বিকল্প নেই। ব্যাংকব্যবস্থায় এমআইএস শক্তিশালীকরণ ও এবং শ্রেণিকৃত ঋণ কমানোর জন্য ব্যাংকের আইসিসিকে শক্তিশালী করে তাতে বোর্ড ও জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপকদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। কার্যত ব্যাংকব্যবস্থায় অসুস্থ বা অসম যে কোনো রকম দুষ্ট প্রতিযোগিতা দেশের আর্থসামাজিক অবকাঠামো ভেঙে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হতে পারে। এমনকি বাজার সম্প্রসারণের প্রয়োজনে ব্যাংক খাতে সুস্থ প্রতিযোগিতা অত্যাবশ্যকীয়। অন্যথায় গ্রাহক সুবিধা ভেঙে পড়বে এবং হিসাব বন্ধের লাগাম থামানো যাবে না।
এখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণসহ সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের অসুস্থ প্রতিযোগিতা থামাতে রাষ্ট্রজনদের আশু উদ্যোগ প্রত্যাশিত।

সর্বশেষ..