সম্পাদকীয়

ব্যাংক খাতে আইএমএফের পরামর্শকে গুরুত্ব দিন

দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি কিংবা ঋণ অবলোপনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন মহল বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে দীর্ঘদিন। এমনকি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাও বিষয়টি নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। সর্বশেষ আইএমএফের প্রতিবেদনে দেশের ব্যাংক খাত নিয়ে যে মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। বিশেষত খেলাপি ঋণ ও পুনঃতফসিল নিয়ে সংস্থাটির প্রবল আপত্তি রয়েছে। ব্যাংক খাতে বিদ্যমান বিচ্ছৃঙ্খল পরিস্থিতি বজায় থাকলে তা বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা।
বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, ব্যাংক, রাজস্ব, রফতানি খাত নিয়ে ওই মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আইএমএফ। গতকালের বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ব্যাংক খাতের বিদ্যমান দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে ব্যাপক সংস্কারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আইএমএফের মতে, খেলাপি ঋণ, ঋণ পুনর্গঠন ও পুনঃতফসিল বাড়ছে। পুঁজিবাজার কার্যকর হলে ব্যাংক খাত থেকে অর্থায়নের চাপ কমে আসত বলেও মনে করে তারা। অবশ্য এ ধরনের মূল্যায়ন নতুন কিছু নয়। দেশের অর্থনীতিবিদরাও দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে আসছেন। তারপরও ব্যাংক খাত সমস্যার আবর্তে থাকা হতাশাজনক।
আইএমএফ যে মূল্যায়ন করেছে তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিশ্বের ১৮৯টি দেশ এ সংস্থার সদস্য। ফলে আইএমএফ যে মূল্যায়ন করবে, তা সদস্য দেশগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলবে। তাদের বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডই এসব প্রতিবেদন দ্বারা প্রভাবিত হয়। সেক্ষেত্রে এ ধরনের দুর্বল অবস্থান বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা দেবে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূচকেও পিছিয়ে পড়বে। শুধু ব্যাংক খাতই নয়, আইএমএফের প্রতিবেদনে দেশের দুর্নীতি, সুশাসন নিয়েও নেতিবাচক অবস্থান দেখানো হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ সূচকেও পিছিয়ে বাংলাদেশ। এসব তথ্য বৈদেশিক বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ নানা ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনেকের আশঙ্কা।
ব্যাংক খাতের দুরবস্থার পেছনে প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, কর্মকর্তাদের অদক্ষতা, অনিয়ম-দুর্নীতিকে বেশি দায়ী করা হয়। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকগুলো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সমস্যা আরও জটিল হচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই। ব্যাংক খাতকে দুর্বল পরিস্থিতি থেকে বের করতে বিধিবিধান ও তদারকি শক্তিশালী করা, সংস্কার, ঋণ পুনর্গঠনে আইন নীতিমালা কঠোর করা, ঋণের টাকা পুনরুদ্ধারে আইনি পদক্ষেপ শক্তিশালী করাসহ নানা পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। অথচ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিমালা আরও শিথিল করেছে। এমন অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে আইএমএফ’র পরামর্শ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি বলে আমরা মনে করি।

সর্বশেষ..