মার্কেটওয়াচ

ব্যাংক খাতে সুশাসনের অভাব প্রকট হচ্ছে

 

প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে শেয়ার বিজের নিয়মিত আয়োজন ‘এনটিভি মার্কেট ওয়াচ’ পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো:

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ব্যাংক খাত বর্তমানে নাজুক অবস্থায় আছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো অনেক সমস্যায় জর্জরিত। এর সঙ্গে বেসরকারি ব্যাংকগুলোরও সংযুক্তি রয়েছে। একটি ব্যাংক ডিপোজিটরদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। সার্বিক দিক বিবেচনায় ব্যাংক খাতে সুশাসনের অভাব দিন দিন প্রকট হচ্ছে। ব্যাংকের পরিচালকরা পারস্পরিক যোগসাজশে অন্য ব্যাংক থেকে ধার নিচ্ছে কিন্তু পরিশোধ করছে না। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলেচিত হয়। হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম এবং পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ মুসা।

ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংক খাতের সার্বিক পরিস্থিতিকে বেশ উদ্বেগজনকই বলা যায়। সরকারি ব্যাংকগুলো অনেক সমস্যায় জর্জরিত। এর সঙ্গে বেসরকারি ব্যাংকগুলোরও সংযুক্তি রয়েছে। একটি ব্যাংক ডিপোজিটরদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে ডিপোজিট ম্যাচিউরড হয়েছে কিন্তু রি-পেমেন্ট করতে পারছে না। সার্বিক দিক বিবেচনায় ব্যাংক খাতে সুশাসনের অভাব দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এক ব্যাংকের ডিরেক্টর অন্য ব্যাংক থেকে ধার নিচ্ছে কিন্তু পরিশোধ করছে না। এতে একধরনের যোগসাজশ রয়েছে। সার্বিকভাবে বলতে গেলে ব্যাংক খাত নাজুক অবস্থায় আছে। এ মুহূর্তে নতুন করে ব্যাংক অনুমোদন দেওয়ার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। কারণ আমাদের মতো ছোট একটি দেশে অর্থনীতি ক্রমবর্ধমান হলেও খুব বড় কিছু না। ইতোমধ্যে ৫৭টি ব্যাংক রয়েছে। এটাই অনেক বেশি। তার মধ্যে আবার নতুন করে তিনটি ব্যাংক অনুমোদন দেওয়ার কোনো যুক্তি নেই। নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আপত্তি রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে উপেক্ষা করে নতুন ব্যাংককে লাইসেন্স দেওয়া সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়।

তিনি আরও বলেন, ৮০-৯০ সালে দেশে গড় প্রবৃদ্ধি ছিল তিন দশমিক আট শতাংশ। এখন বাড়তে বাড়তে সরকারি হিসাবে তা সাত শতাংশ হয়েছে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, দারিদ্র্যসীমা স্বাধীনতার পর ৭০-৭৫ শতাংশ ছিল, এখন তা ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। এটা ক্রমাগত কমছে। ২০১৭-১৮ সাল কেমন যাবে এমন প্রশ্নের আলোকে তিনি বলেনÑঅর্থনীতির যে প্রধান খাত রয়েছে তার মধ্যে রফতানি, ব্যাংকিং, রেমিট্যান্স প্রভৃতি খাতে বেশ সমস্যা রয়েছে। আমি আশা করব সরকার বিচক্ষণতার সঙ্গে এসব সমাধানের চেষ্টা করবে।

ড. মোহাম্মদ মুসা বলেন, ব্যাংক খাত বর্তমানে নাজুক অবস্থায় আছে। তার মধ্যে আবার নতুন করে তিনটি ব্যাংক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাবে। যারা নতুন আসে তারা একটু অ্যাগ্রেসিভ হয়। তারা ঋণ দেওয়ার সময় কোনো বিচার-বিশ্লেষণ করে না। ডিপোজিট করার সময় তাদের লোন বেশি দিতে হয় এবং মুনাফার যে একটি গতি আছে সেটি কমে যায়। আপনি যদি বিচার-বিশ্লেষণ না করে ঋণ দেন সেক্ষেত্রে শ্রেণীভুক্তকরণ ঋণ বেড়ে যাবে। ওই ঝুঁকিটা আমাদের আছে। ইতোমধ্যে আমাদের ৫৭টি সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক রয়েছে। তার মধ্যে আবার তিনটি ব্যাংক কেন লাগবে? তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে আমাদের দেশে আসলে কতটুকু স্বাধীন? দেশে দুই ধরনের ব্যাংক রয়েছেÑব্যক্তিগত বাণিজ্যিক ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক। সংখ্যায় কম হলেও সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। আবার যদি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কোনো ব্যাংক আসে। যেমন, সম্প্রতি ছয় থেকে সাতটি ব্যাংক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এসেছে। এসব ব্যাংক নিয়ন্ত্রক সংস্থার কথা শুনতে চান না। সে কারণে সাতটি ব্যাংকের মধ্যে দুটির অবস্থা একেবারে নাজুক। আমি মনে করি, নতুন কোনো ব্যাংক অনুমোদন দেওয়ার যুক্তি নেই। তিনি আরও বলেন, ওটিসি মার্কেট হচ্ছে একটি অকার্যকর মার্কেট। যারা ওটিসি মার্কেটে বিনিয়োগ করতে চান তাদের বলব, যাদের কম পুঁজি তাদের ওটিসি মার্কেটে যাওয়া উচিত নয়। কারণ এখানে শেয়ার কেনার পর বিক্রি উপযোগী হওয়ার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

 

 

 

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..