সম্পাদকীয়

ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করুন

সুশাসন ও জবাবদিহি যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য অতিগুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ব্যাংক খাতে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে, সেটি হচ্ছে এ দুটির অভাবেই। ব্যাংক খাতে সুশাসন নেই, এটি অস্বীকার করবে না কেউ। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, কিংবা ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সুফল মিলছে না বলেই প্রতীয়মান। কয়েক বছর ধরে দেশের ব্যাংক খাতে সুশাসন ও জবাবদিহি আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংক খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া, ঋণ আদায়ে ব্যর্থতা প্রভৃতি দেখে এখন সাধারণ মানুষও ব্যাংক খাতের দুর্বলতা বোঝেন। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে সংঘটিত হল-মার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপ ও বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি এবং অ্যাননটেক্স, ক্রিসেন্ট গ্রুপ প্রভৃতি অব্যবস্থাপনা ব্যাংক খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থায় চিড় ধরিয়েছে।
মাঝেমধ্যে ব্যাংক মালিক ও ব্যাংকাররা এমন কিছু কাণ্ড ঘটান, যেক্ষেত্রে ব্যাংক খাতের অব্যবস্থপনা নতুন করে সামনে আসে। গতকালের শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘স্বার্থের দ্বন্দ্ব বাড়ছে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে: চাকরি খোয়ালেন পূবালী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক’ শীর্ষক প্রতিবেদন সেটিরই উদাহরণ। জানা যায়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে সুবিধা আদায় বিশেষ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আসা বিভিন্ন অডিট টিমকে ব্যাংকের পক্ষে ‘ম্যানেজ’ করার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার দায়ে ওই কর্মকর্তাকে চাকরি হারাতে হয়।
আমরা মনে করি, কেবল পরিচালকদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় কাউকে সরিয়ে দেওয়া কিংবা কাউকে নিয়োগ দেওয়া সুশাসনের পরিপন্থি। ব্যাংক খাত রক্ষায় এমন প্রবণতাকে শূন্য সহনশীলতায় নিরুৎসাহিত করতে হবে।
পরিচালনা পর্ষদ ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সার্বিক নির্দেশনা দেবে, নীতিগত বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে আর ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা নীতিমালা বাস্তবায়ন করবেন, এটাই নিয়ম; কিন্তু আমাদের দেশে তা হচ্ছে না। এখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নয়, ব্যাংক কর্মকর্তাদের চাকরি নির্ভর করে পরিচালনা পর্ষদের সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টির ওপর। ব্যাংক খাতের জন্য প্রণীত নীতিমালা ও আইনকানুন, কোম্পানি আইন, আন্তর্জাতিক নীতিমালা আন্তর্জাতিক মানের; কিন্তু এগুলো আন্তর্জাতিক মানে প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। ফলে পরিচালনা পর্ষদ হয়ে ওঠে স্বেচ্ছাচারী। সমস্যা যখন পরিচালনা পর্ষদ, তখন সুশাসন নিশ্চিত করে ব্যাংক খাতকে টিকিয়ে রাখার মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে সরকারকেই, কেননা পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী, নতুবা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করেন।
সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে সব ধরনের নীতি অনুসরণে ব্যাংকগুলোকে সব পর্যায়ে বাধ্য করতে হবে। আর পরিচালনা পর্ষদসংশ্লিষ্ট বিষয় মোকাবিলায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে চাপমুক্ত রাখতে হবে। স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলেই ব্যাংক খাতের সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..