Print Date & Time : 27 September 2020 Sunday 9:38 pm

ব্যাংক ছাড়া ইতিবাচক ধারায় বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ারদর

প্রকাশ: June 15, 2019 সময়- 11:52 pm

শেখ আবু তালেব: ঈদুল ফিতরের পর প্রথম সপ্তাহে ইতিবাচক ধারায় লেনদেন শেষ করেছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে খাতওয়ারি বিশ্লেষণে দেখা যায়, বড় মূলধনি কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত খাতের প্রায় সবগুলোর শেয়ারদর ইতিবাচক ধারায় লেনদেন শেষ করেছে। শুধু ব্যতিক্রম ছিল ব্যাংক খাতের শেয়ার।
ডিএসইর সাপ্তাহিক তথ্য বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে এমন তথ্য। গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে লেনদেনে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে পূর্বের সপ্তাহের তুলনায় ৩৩ দশমিক আট শতাংশ। মোট লেনদেনের ৮৫ শতাংশের বেশি ছিল ‘এ’ ক্যাটেগরির কোম্পানির লেনদেন।
বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গড় লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে ২১ দশমিক ৯ শতাংশ ও লেনদেন সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে পূর্বের চেয়ে ২৫ দশমিক তিন শতাংশ। ডিএসইর পিই রেশিও দাঁড়ায় সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ২৫ পয়েন্টে।
জানা গেছে, ঈদ-পূর্ববর্তী সপ্তাহে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর ইতিবাচক প্রভাব পরবর্তী সপ্তাহেও ছিল। ফলে বিনিয়োগকারীরা লেনদেনে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। হাতে থাকা শেয়ার বিক্রির পাশাপাশি নতুন করে শেয়ার কেনায় লেনদেন বৃদ্ধি পায়। সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ইতিবাচক ধারায় ছিল।
এ সময়ে ডিএসইতে ব্লক মার্কেটে ১৪২ কোটি ৮০ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এ লেনদেনে ৩৮টি কোম্পানি অংশগ্রহণ করে। ব্লক মার্কেটের লেনদেনে শীর্ষে ছিল ব্র্যাক ব্যাংক। এরপরই লেনদেন করেছে গ্রামীণফোন ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেড।
জানা গেছে, ১৩ জুন শেষ হওয়া সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৫৫ কোম্পানি লেনদেনে অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে দর বৃদ্ধি পায় ২৬০টির বা ৭৩ দশমিক ২৪ শতাংশের, কমেেেছ ৭০টির বা ১৯ দশমিক ৭২ শতাংশের, অপরিবর্তিত ছিল ২৩টি এবং লেনদেন হয়নি দুটি কোম্পানির। এ সময়ে পূর্বের সপ্তাহের ধারাবাহিকতা দেখা গেছে গত সপ্তাহে।
এ সময়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স পূর্বের সপ্তাহের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে ৯৬ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বা এক দশমিক আট শতাংশ। একই সঙ্গে অন্য দুটি সূচকও বৃদ্ধি পেয়েছে। লেনদেন বৃদ্ধি পাওয়ায় পূর্বের সপ্তাহের চেয়ে দুই শতাংশের বেশি বাজার মূলধন বৃদ্ধি পেয়েছে।
খাতওয়ারি তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে ওষুধ খাত। এ খাতের লেনদেন ছিল মোট লেনদেনের ১৩ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সাধারণ বিমা ও প্রকৌশল খাত। খাত দুটি ১২ শতাংশ করে অবদান রাখে লেনদেনে। এরপরই ১১ শতাংশ ছিল বস্ত্র খাতের লেনদেন।
এছাড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের লেনদেন ছিল ১০ শতাংশ, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের চার শতাংশ, সিমেন্ট খাতের এক শতাংশ, সিরামিক খাতের এক শতাংশ, আইটি খাতের দুই শতাংশ, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের দুই শতাংশ, সেবা খাতের দুই শতাংশ, টেলিকম ও ট্যানারি খাত দুই শতাংশ অবদান রাখে।
একক কোম্পানি হিসেবে শেয়ারদর বৃদ্ধিতে গত সপ্তাহে শীর্ষে ছিল গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৩১ দশমিক ৩১ শতাংশ। শেয়ারটি সর্বশেষ ২৮ টাকা ৪০ পয়সা দরে লেনদেন হয়। ২৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ দর বৃদ্ধি নিয়ে গেইনারের দ্বিতীয় স্থানে ছিল পিপলস ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ ২৪ টাকা ২০ পয়সা দরে লেনদেন হয়। তৃতীয় অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। সপ্তাহে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর বেড়েছে ২০ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
এছাড়া দর বৃদ্ধিতে শীর্ষ দশের মধ্যে রয়েছে সাফকো স্পিনিং মিলস, সোনালী আঁশ, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড, নর্দান জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স ও বিডি ল্যাম্পস।
অপরদিকে শেয়ারদর পতনের শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক। এ সময়ে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর কমেছে ১৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। শেয়ারটি সর্বশেষ ১৫ টাকা ৫০ পয়সা দরে লেনদেন হয়। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড। সপ্তাহে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর কমেছে ১৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক। শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর কমেছে ১১ দশমিক ৩০ শতাংশ।
তালিকায় থাকা বাকি কোম্পানিগুলো হচ্ছে ইমাম বাটন, এনসিসি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, এমারাল্ড অয়েল ও আরামিট সিমেন্ট।