মার্কেটওয়াচ

ব্যাংক থেকে পুঁজিবাজারে অর্থ আসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে না

আমাদের বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের কম। সুতরাং বলা যায়, এ খাতে বিনিয়োগের চাহিদা কমে গেছে অথবা ব্যাংকের এমন তারল্য নেই যে, ভালো বিনিয়োগকারীদের ক্রেডিট সুবিধা দেবে। কিন্তু ব্যাংকে সেই অর্থ রয়েছে। তার মানে, বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে। বিনিয়োগ যদি কমে যায়, তবে সেই অর্থ ব্যাংক থেকে পুঁজিবাজারে কেন আসবে? আবার পুঁজিবাজারে আসতে হলে দীর্ঘমেয়াদি একটি ধাপ কিংবা কার্যক্রমের মাধ্যমে আসতে হয়Ñসে বিষয়টি তো রয়েছেই। যদি বিনিয়োগ বাড়ত, উদ্যোক্তাদের দীর্ঘ মেয়াদে অর্থের প্রয়োজন হতো। আর সেই অর্থ ব্যাংক দিতে ব্যর্থ হলে তারা পুঁজিবাজারে আসত। বর্তমানে ব্যাংক খাতে নন-পারফরমিং লোনের কারণে তারল্য সংকট হয়েছে। ফলে ব্যাংক থেকে যে পুঁজিবাজারে অর্থ আসবে সে সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। 

মাহমুদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত ভিসি অধ্যাপক এম শাহজাহান মিনা এবং সাবেক সচিব ও বিএসইসির চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ সিদ্দিকী।

অধ্যাপক এম শাহজাহান মিনা বলেন, রেমিট্যান্সের সূচক ছাড়া অন্য সবগুলো সূচক নেতিবাচক, যা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য খারাপ সংবাদ। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারের অবস্থা খারাপ চলছে। আর আমরা জানি, একটি দেশের অর্থনীতিতে মূল ভূমিকায় থাকে শিল্পায়ন। শিল্পায়ন না হলে দেশের উন্নয়ন প্রত্যাশা করা যায় না। আর শিল্পায়নের জন্য আর্থিক অবস্থার উন্নতি দরকার কিন্তু আমাদের দেশে এই ফাইন্যান্সিয়াল সিস্টেমের অবস্থা নাজুক। হোক সেটা মানি মার্কেট কিংবা স্টক মার্কেট। পুঁজিবাজারে সুশাসনের অভাব দীর্ঘদিন থেকে লক্ষ করা যাচ্ছে। কিন্তু এদিকে তেমন সুনজর দেওয়া হয়নি। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের পক্ষ থেকে নানা ধরনের ভালো কথা বলা হলেও আমরা তেমন সুফল পাচ্ছি না। পুঁজিবাজারকে ভালো অবস্থানে না আনলে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হবে না। বলা হয়, বাজারে তারল্য সংকট রয়েছে কিন্তু কেন এই সংকটÑতা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে বাজারে সুশাসনের অভাব লক্ষণীয়। এখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল। যদিও এখন পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে। কিন্তু পদক্ষেপ নিলেই বাজারে ভালো অবস্থা আসবে, তেমন কোনো লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না।

ফারুক আহমদ সিদ্দিকী বলেন, বাজারে অর্থ সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণার পর যে কদিন কৃত্রিম ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেল, তা আদৌ ঠিক কি না জানা দরকার। আমাদের অর্থনীতির অনেকগুলো সূচকের নেতিবাচক চিহ্ন লক্ষ করা গেলেও বলা হচ্ছে গ্রোথ ইতিবাচক থাকবে। তবে একটি খারাপ সংবাদ হচ্ছে, আমাদের রাজস্ব আয় এবার অনেক কমে গেছে। এর সঙ্গে যেহেতু আমদানি-রফতানি কিংবা অর্থনীতির বিভিন্ন কার্যাবলি জড়িত, তাই রাজস্ব আয় বৃদ্ধি না পেলে তাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আমাদের প্রাইভেট সেক্টরের প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের কম, সুতরাং বলতে পারিÑ হয়তো এ খাতে বিনিয়োগের চাহিদা কমে গেছে অথবা ব্যাংকের এমন তারল্য নেই যে, ভালো বিনিয়োগকারীদের ক্রেডিট সুবিধা দেবে। কিন্তু ব্যাংকে সেই অর্থ রয়েছে। তার মানে বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে। বিনিয়োগ যদি কমে যায়, তবে সেই অর্থ ব্যাংক থেকে পুঁজিবাজারে আসবে কেন? আবার পুঁজিবাজারে আসতে হলে দীর্ঘমেয়াদি একটি ধাপ কিংবা কার্যক্রমের মাধ্যমে আসতে হয় সে বিষয়টি তো রয়েছেই। যদি বিনিয়োগ বাড়ত, উদ্যোক্তাদের দীর্ঘ মেয়াদে অর্থের প্রয়োজন হতো আর সেই অর্থ ব্যাংক দিতে ব্যর্থ হলে তারা পুঁজিবাজারে আসত। তবে হ্যাঁ, পুঁজিবাজারের পাশাপাশি ব্যাংক খাতেও সুশাসনের অভাব লক্ষণীয়। আর বর্তমানে ব্যাংক খাতে নন-পারফরমিং লোনের কারণে ব্যাংকের তারল্য সংকট হয়েছে। ফলে ব্যাংক থেকে যে পুঁজিবাজারে অর্থ আসবে, সে সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। এটিও বাজারে নেতিবাচক প্রভাবের এক কারণ। তাই সবক্ষেত্রেই সুশাসন দরকার। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি সরকার ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিষয়টি কঠোরভাবে দেখা উচিত। 

শ্রুতিলিখন: পিয়াস

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..