মার্কেটওয়াচ

ব্যাংক নতুন ঋণ দিয়ে কৌশলে লাভ দেখাচ্ছে

প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে শেয়ার বিজের নিয়মিত আয়োজন ‘এনটিভি মার্কেট ওয়াচ’ পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো:

পুঁজিবাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত ব্যাংক। এ খাতে ৩০টি কোম্পানি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানিতে সুশাসন রয়েছে। তাদের আর্থিক প্রতিবেদন নির্ভর করার মতো। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা নির্ধারণ করেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান। তাদের হুকুমে লোকসান থেকে লাভে চলে আসে ব্যাংকগুলো। খেলাপি ঋণে প্রভিশন না দেখিয়ে এবং নতুন ঋণের লাভ দেখিয়ে তারা কোম্পানির কাগুজে উন্নতি দেখাচ্ছে। এতে পুঁজিবাজারের

বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচে এ বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ এবং শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের সিইও মো. এমরান হাসান।

সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ বলেন, খেলাপি ঋণ নিয়ে অনেক আলাপ-আলোচনা হচ্ছে, এমনকি অর্থমন্ত্রীও চেষ্টা করছেন। তারপরও খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশে এখন প্রায় ৬০টির মতো ব্যাংক আছে। কিন্তু এতগুলো ব্যাংককে জবাবদিহিতার আওতায় আনার সক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংকের নেই। তবে বাংলাদেশ ব্যাংককে শুধু দোষারোপ করলে হবে না। কারণ পর্যবেক্ষণ করার জন্য যথেষ্ট লোকবল, যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতাসহ যা দরকার তা বাংলাদেশ ব্যাংকের নেই। তারা কেবল পদ্ধতিগত যান্ত্রিকীকরণ করেছে মাত্র। আর খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডি যদি দুর্নীতিবাজ না হন তাহলে কোনো খেলাপি ঋণ হতে পারে না। কিন্তু কিছু পদ্ধতি আছে, যার ফলে কারও কিছু করার থাকছে না। যেমন কোনো একটি ব্যাংক গত প্রান্তিকে অনেক খারাপ অবস্থায় আছে। সেই ব্যাংকের চেয়ারম্যান সবাইকে গাধা মনে করছেন। তিনি বলছেন, ম্যাজিকের মাধ্যমে তিনি ওই ব্যাংকের প্রফিট দেখাবেন। কিন্তু গত প্রান্তিকে যে পিছিয়ে ছিল, এই কোয়ার্টারে সে মুনাফা দেখাবে কীভাবে? কীভাবে দেখাবে তা আমি জনগণকে জানাতে চাই। তা হচ্ছে, কোনো একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইতোমধ্যেই পাঁচ-দশ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ দিয়েছেন। আর সেটি স্বাভাবিকভাবেই ধরা পড়ে গেছে। এখন ওই চেয়ারম্যান যদি আরও ১০-১৫ হাজার কোটি টাকা মন্দ ঋণ দিয়ে দেন, সে টাকা কোনোদিন আর আসবে না। অর্থাৎ জাল মর্টগেজ বা মর্টগেজ ছাড়া যে টাকাটি দিয়ে দেওয়া হয় ওই টাকাটি তিন মাস পর থেকে প্রফিট দেখাবে, আর এভাবেই তারা প্রফিট দেখাবে। সেজন্যই খেলাপি ঋণ অব্যাহত আছে এবং আগের ক্ষতিকে লুকানোর জন্য নতুন করে আরও খেলাপি ঋণ তৈরি করা হচ্ছে। যেহেতু আপনাকে বিনিয়োগ করে প্রফিট দেখাতে হবে। আরও কিছু বিষয় আছে খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে। যেমন কৃষিজমিকে গুলশানের জায়গা দেখাচ্ছে, জাল দলিল দেখাচ্ছে ইত্যাদি।

মো. এমরান হাসান বলেন, আমরা লক্ষ করেছি ব্যাংকের খারাপ অবস্থা থাকা সত্তেও বিদেশি বিনিয়োগ আসছে। আর এর কারণ সব ব্যাংকই খারাপ করছে না। কিছু ব্যাংকের কার্যক্ষমতা অনেক ভালোও আছে। এখন যে ব্যাংকগুলো ধারাবাহিকভাকে ভালো প্রবৃদ্ধি দেখাচ্ছে, সেই ব্যাংকগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি। পাশাপাশি তারা দেখছেন ব্যাংকের পর্ষদে কারা আছেন এবং উদ্যোক্তা কারা। তবে উদ্যোক্তারা আবার যে কোনো সময় পরিবর্তনও হয়ে যান। আর উদ্যোক্তারা পরিবর্তন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারেও একটি ইতিবাচক বা নেতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়।

 

শ্রুতি লিখন: রাহাতুল ইসলাম

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..