সম্পাদকীয়

ব্যাংক পরিচালকদের অনিয়ম বন্ধে ব্যবস্থা নিন

অসাধু চক্রের ফাঁদে পড়ে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাত সমস্যার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে দীর্ঘদিন। কাক্সিক্ষত সেবা নিশ্চিত না হওয়ায় এবং অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ব্যাংকে আস্থার সংকট বেড়েছে অনেক। খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি, ঋণ অবলোপনও বাড়ছে। এ অবস্থায় ব্যাংকে শৃঙ্খলা ফেরাতে মনোযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও উল্টো নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। নতুন ব্যাংকগুলোর কয়েকটি সীমাহীন দুর্নীতি করে খবরের শিরোনাম হচ্ছে। সাবেক ফারমার্স ব্যাংকের একজন উদ্যোক্তা পরিচালক কয়েক হাজার কোটি টাকার ঋণে অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নতুন প্রজন্মের ব্যাংকগুলোয় এমন অনিয়ম রোধ করা না গেলে তা অর্থনীতির জন্য বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে বলেই ধারণা।

‘আমানতকারীর টাকায় সম্পদশালী বাবুল চিশতী’ শিরোনামে গতকালের শেয়ার বিজে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। খবরটিতে বলা হয়েছে, দি ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমান পদ্মা ব্যাংক) উদ্যোক্তা পরিচালক থাকাকালীন মাহবুবুল হক চিশতী ক্ষমতার অপব্যবহার

করে ভুয়া ও সাইনবোর্ডসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে ঋণ পাইয়ে দিয়েছেন কমিশনের বিনিময়ে। এমনকি নিজের ভাই ও আত্মীয়-স্বজনকে অভিনব পন্থায় ঋণ দিয়ে বের করে নিয়েছেন হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থে গড়ে তুলেছেন বিশাল সাম্রাজ্য। বলা চলে, সাধারণ মানুষের অর্থে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন তিনি। অপরদিকে সমগ্র ব্যাংক খাতেই বড় ঝুঁকি তৈরি করেছেন, যা উদ্বেগজনক।

পরিচালকের অনিয়ম বাস্তবায়ন করেছেন ব্যাংকের কর্মকর্তারা, যা গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যাংক খাত সমস্যার আবর্তে জড়িয়ে পড়ার পেছনে খেলাপি ঋণকে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তারপরও অনিয়ম করে বড় ঋণ দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে ব্যাংকের। অথচ ছোট আকারের ঋণে খেলাপি কম, পরিশোধের হারও সন্তোষজনক। এ ধরনের ঋণ বিতরণ না বাড়িয়ে ব্যাংকগুলোর বড় ঋণে আগ্রহ বেশি। ফলে ঋণখেলাপি বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর্থিক খাতে ঝুঁকিও বাড়ছে।

খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, ঋণ কেলেঙ্কারির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ায় চিশতীর বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৯টি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আর চিশতীসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলা করেছে দুদক, যার বিচারকাজ চলছে। অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে দুদকের এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়; একই সঙ্গে তাদের দায়িত্বও বটে। তবে অতীতে এমন অনেক ঘটনায় অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা যায়নি। ফারমার্স ব্যাংকের এ কেলেঙ্কারির ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি নতুন ব্যাংক অনুমোদন ও ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের আরও উদ্যোগী হওয়াসহ অধিক দায়িত্বশীল হতে হবে বলে আমরা আশা করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..