প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তদারকি বাড়ান

‘ঋণের ২৪.৬১% খেলাপি: ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বেহাল’ শীর্ষক শিরোনামে গতকাল শেয়ার বিজের প্রধান প্রতিবেদন পাঠকের মনোযোগ কাড়বে বলেই ধারণা। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য, ৩০ সেপ্টেম্বর এ খাতে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৩২৭ কোটি ১০ লাখ টাকা।

খাত-সংশ্লিষ্টরা জানান, নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নামে-বেনামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে দুর্ভোগে পড়েছে ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এছাড়া কভিড মহামারির কারণে গত দুই বছর গ্রাহকরা ঋণ পরিশোধে নানা সুবিধা পেয়েছেন। চলতি বছরে নতুন করে তাদের আবারও সুবিধা দেয়া হয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান ভাবছে, ঋণ পরিশোধ না করলেও চলবে। তাই ব্যাংক খাতের মতো এ খাতের খেলাপি ঋণ দিন দিন বেড়েই চলছে। এখনই উচিত হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর হওয়া। কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর না হলে এ খাতের খেলাপি ঋণ দিন দিন বাড়তেই থাকবে।

খেলাপি ঋণ বাড়তেই পারে। কিন্তু আদায়ের হারও সন্তোষজনক নয়। সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা এখানেই। ঋণ অনিয়মসহ বিভিন্ন কারণে ব্যাংক খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমেছে। আগের চেয়ে বড় কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটছে। এখন নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়েও একই আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই মূলত ব্যাংক থেকে টাকা ধার করে চলে। বর্তমানে দেশে ৩৫টি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান থাকলেও পাঁচ-ছয়টি প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের আস্থা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এখন এ খাতের ২৪ দশমিক ৬১ শতাংশই খেলাপি। নিয়ন্ত্রক সংস্থার বাংলাদেশ ব্যাংকের এসব প্রতিষ্ঠান নিবিড়ভাবে পরিদর্শন ও পর্যালোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া।

দেশের অধিকাংশ ব্যাংক ‘ঋণ অনিয়মের’ যে বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে, ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানও তা থেকে মুক্ত নয়। ঋণ বিতরণে রাজনৈতিকসহ নানা ধরনের প্রভাব, ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম, সুশাসন-জবাবদিহি না থাকা প্রভৃতিতে আক্রান্ত ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো, যার মাশুল দিতে হচ্ছে গ্রাহকদের। নৈতিকতার অবক্ষয়, দুর্নীতি, ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতায় পি কে হালদারের মতো দুর্বৃত্তের অপতৎপরতার দায় এখনও বয়ে চলেছে ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত। আয়কর  গোয়েন্দা ও দুদকের তৎপরতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি পি কে হালদারের অর্থ আত্মসাৎ ও  পাচার আটকাতে পারেনি। এখন কীভাবে আস্থা রাখবে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গ্রহকরা। ঋণখেলাপিদের মধ্যে কেউ যে পি কে হালদারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন না, তা কে বলতে পারে! নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা পি কে সহযোগিতা করেছেন। তার দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পেছনেও ছিল  প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতা। ঋণখেলাপিদের মধ্যে কেউ পি কে হালদারের মতো অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ গ্রহণ ও ঋণখেলাপি হওয়ার প্রক্রিয়ায় জড়িত কি না, নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে তা শূন্য সহনশীলতায় খতিয়ে দেখতে হবে। উদাসীনতায় পি কে হালদারদের মতো নতুন কোনো দুর্বৃত্তের দৌরাত্ম্যে যাকে ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্দশাগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্ক হতে হবে।