সম্পাদকীয়

ব্যাংক ভল্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

২০০৯ সালের পর থেকে ১০ বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাংকের ভল্ট থেকে প্রায় ২৩ কোটি টাকা বিভিন্ন উপায়ে চুরি হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতেই এ সংকট প্রকট। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার কৃষি ব্যাংক শাখার ভল্ট থেকে ১১ লক্ষাধিক টাকা চুরি হলো। গত মে মাসে একই ব্যাংকের দেবিদ্বার শাখা থেকে একই কৌশলে অর্থ লুট হয়। ভল্ট ডাকাতির ঘটনা নতুন নয়। এ জন্য ব্যাংকগুলোয় যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে বিভিন্ন মহলের আলাপ-আলোচনা ও উদ্যোগ নিতেও দেখা গেছে। কিন্তু তারপরও অনেক শাখায় ভল্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা একেবারেই নাজুক। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিটি ব্যাংকের যে ভল্ট গঠনের নীতিমালা দিয়েছে তাও ঠিকঠাক মানা হচ্ছে না। এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করি।

২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি ভল্টের নিরাপত্তা বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সার্কুলার জারি করে। তার ২০ দিন পরেই কিশোরগঞ্জের সোনালী ব্যাংকে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ভল্ট থেকে প্রায় ১৭ কোটি টাকা লুট করা হয়েছিল। কার্যত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ইচ্ছেমাফিক ভল্ট তৈরি করছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন করে এ বছরের শুরুতেই সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধানদের ডেকে তাগাদা দিয়েছিল। কুমিল্লার সদ্য লুট হওয়া চৌদ্দগ্রামের এই কৃষি ব্যাংক শাখায় কোনো সিসি ক্যামেরা ছিল না, অথচ তার কিছুদিন আগেই কুমিল্লার পুলিশ সুপার ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ নিজস্ব নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানান। কিন্তু সরকারি ব্যাংকগুলো কেন এসব নির্দেশনা অনুসরণ করছে না, সে বিষয় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, কিছু কিছু ব্যাংক ভবনমালিকের মাধ্যমে ভল্ট নির্মাণ করিয়ে নিচ্ছে। কেবল সরকারি ব্যাংক নয়, বেসরকারি ব্র্যাক ব্যাংকের ভল্ট ভেঙে খোদ রাজধানী থেকেই গ্রাহকের স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান সম্পদ লুট হয়েছে। এ ধরনের ব্যাংক ডাকাতি ছাড়াও প্রতারণার মাধ্যমেও ব্যাংকের টাকা লোপাট হওয়ার সংবাদ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ হয়। রূপালী, জনতা ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি, বিসমিল্লাহ গ্রুপের এক হাজার ২০০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি, হলমার্ক, বেসিক ব্যাংক ও ডেসটিনি কেলেঙ্কারির মতো ঘটনা ঘটেছে। তারল্য সংকটে জর্জরিত বর্তমানে ব্যাংক খাতের এসব নৈরাজ্য দূর করতে অবশ্যই শিগগির কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা মানতে ব্যাংকগুলোকে বাধ্য করতে হবে এবং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করতে হবে বলে আমরা মনে করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..