প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ব্যাংক সুদে ভর করে মুনাফায় পদ্মা মেঘনা ও যমুনা অয়েল

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: সাধারণত একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালন আয়ের মাধ্যমে নিট মুনাফার ৮০ শতাংশ নিশ্চিত হয়ে যায়। আর অন্যান্য আয় মুনাফায় ২০ শতাংশ অবদান রাখে। এক্ষেত্রে উল্টো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েল। এ প্রতিষ্ঠান তিনটির মুনাফার চেয়ে অপরিচালন বা ব্যাংক সুদের আয়ই বেশি। এর মধ্যে পদ্মা অয়েলের মুনাফায় ব্যাংক জমার সুদের অবদান ৯৩ শতাংশ। বাকি দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের নিট মুনাফার চেয়ে ব্যাংকসুদ বেশি (১০৩ শতাংশ) এবং যমুনা অয়েলের ১০৫ শতাংশ।

পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পদ্মা অয়েল পরিচালন মুনাফা করে ১৩৪ কোটি টাকা। আর কর-পরবর্তী নিট মুনাফা করে ২৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক জমার সুদ আয় ছিল ২৬৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ, নিট মুনাফার ৯৩ শতাংশ আয় আসে ব্যাংক জমার সুদ থেকে। আর সাত শতাংশ নিট মুনাফা হয় জ্বালানি পণ্য বিক্রি থেকে।

একইভাবে মেঘনা পেট্রোলিয়াম ২০১৮-১৯ অর্থবছরের পরিচালন মুনাফা করে ১৩০ কোটি টাকা। আর কর-পরবর্তী নিট মুনাফা করেছিল ৩৭৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক সুদ আয় ছিল ৩৯৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ, নিট মুনাফার চেয়ে ব্যাংক সুদ ১৯ কোটি টাকা বেশি। এক্ষেত্রে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের লোকসান ঠেকিয়েছে ব্যাংক সুদ। এছাড়া যমুনা অয়েল ২০১৮-১৯ অর্থবছরের পরিচালন মুনাফা করেছিল ৫২ কোটি টাকা। আর নিট মুনাফা করে ২৩৩ কোটি টাকা। একই সময় ব্যাংক জমার আয় ছিল ২৪১ কোটি টাকা। অর্থাৎ, সংস্থাটির মুনাফার শতভাগ সাপোর্ট আসে ব্যাংক সুদ থেকে।

একই প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের মোট ব্যাংক জমা ছিল তিন হাজার ৩৯ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল তিন হাজার ২১ কোটি টাকা। বিপিসির আরেক সহযোগী সংস্থা মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মোট ব্যাংক জমা ছিল দুই হাজার ২৬৮ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল দুই হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা। আর গত অর্থবছর শেষে যমুনা অয়েল কোম্পানির মোট ব্যাংক জমা ছিল ৮৩৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরে ছিল এক হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা।   

জ্বালানি তেল বিপণন সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেন, ব্যাংক জমার কারণে তিন সংস্থা প্রতি বছর ভালো লাভে থাকে। তবে উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান আইন-২০২০ পাস হলেও পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল ব্যাংকে জমাকৃত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে না। মূলত পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত কোম্পানি হওয়ায় উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে না।

সূত্রমতে, চলতি মাসের শুরুতে সরকারের মালিকানাধীন স্বায়ত্তশাসিত, সরকারি কর্তৃপক্ষ ও স্বশাসিত ৬১ সংস্থার ব্যাংকে থাকা উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমার বিধান করে জাতীয় সংসদে একটি বিল পাস হয়। মূলত সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় মেটাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ আইনের ফলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া আইনে উল্লেখ আছে। এক্ষেত্রে বিপিসির মালিকানাধীন পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এ আইনের আওতায় পড়েনি।

এ বিষয়ে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল্লাহ আল খালেদ শেয়ার বিজকে বলেন, উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান আইন-২০২০ পাস হলেও পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েলকে ব্যাংকে জমাকৃত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে না। আমরা পাবলিক লিস্টেড কোম্পানি হওয়ায় এ আইনের আওতায় পড়িনি। এ আইনের আওতায় বিপিসি ও সহযোগী কোম্পানিগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে প্রদানের আওতায় পড়েছে। আর ব্যাংক জমা তো আমাদের বিগত বছরের অর্জিত মুনাফারই অংশ।