দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

ব্যাংক হিসাব থেকে মোবাইলে লেনদেন চালু হচ্ছে না

ফি নিয়ে হয়নি বনিবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: মোবাইলে অর্থ লেনদেন সেবার নাম হচ্ছে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), যা মোবাইল ব্যাংকিং নামে পরিচিত। অর্থ উত্তোলনের পাশাপাশি মোবাইল থেকে মোবাইল হিসাবে লেনদেন করা যায় এর মাধ্যমে। কিন্তু এক ব্যাংকের মোবাইল থেকে অন্য ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ও ব্যাংক হিসাব থেকে মোবাইল হিসাবে অর্থ লেনদেন (ইন্টার অপারেবল) চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু সেবা ফি নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় লেনদেনটি চালু হলো না গতকাল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে এমন তথ্য। অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কারিগরি ত্রুটির কারণে লেনদেনটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) মাধ্যমে এ লেনদেনটি সম্পন্ন হবে। পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী গতকাল এ সেবাটি প্রথমবারের মতো চালুু হওয়ার কথা ছিল। এজন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে চিঠিও দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

বর্তমানে এমএফএস সেবা দাতা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংকের বিকাশ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের রকেট, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ইউক্যাশ, ইসলামী ব্যাংকের এমক্যাশ, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ই-ওয়ালেট ও ডাক বিভাগের নগদ।

পরীক্ষামূলকভাবে গতকাল থেকে ইন্টার অপারেবল সেবাটি চালু হওয়ার কথা ছিল। এর ফলে এক মোবাইল হিসাব থেকে অন্য মোবাইল ও ব্যাংক হিসাব থেকে মোবাইলে অর্থ লেনদেন করা যেত। প্রথম পর্যায়ে এ কয়টি ব্যাংক ও মোবাইলে অর্থ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চালু হওয়ার কথা ছিল। অবশিষ্ট ব্যাংকগুলোকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়।

লেনদেন চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সেবা ফিও নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু ফি নিয়ে এমএফএস সেবা দাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বনিবনা হয়নি। কারণ হিসেবে জানা গেছে, প্রতিযোগিতায় নেমে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো পৃথক ফি নিচ্ছে। কিন্তু ইন্টার অপারেবলে সেবা ফি নির্দিষ্ট কোনো অঙ্কে নয় আনুপাতিক হারে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে অপারেটরদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।

ফি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ ছিল, এমএফএস প্রোভাইডারের হিসাব থেকে অন্য এমএফএস প্রোভাইডারের (পি-টু-পি) হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে প্রাপক এমএফএস প্রোভাইডার প্রেরক এমএফএস প্রোভাইডারকে সাকুল্যে লেনদেনকৃত অর্থের শূন্য দশমিক ৮০ শতাংশ ফি দেবে।

ব্যাংক হিসাব থেকে এমএফএস হিসাবে এবং এমএফএস হিসাব থেকে ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের উভয় ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট এমএফএস প্রোভাইডার সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে সাকুল্যে লেনদেনকৃত অর্থের শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ ফি দেবে। এছাড়া ইন্টার অপারেবল লেনদেনের জন্য অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও এমএফএস গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যমান লেনদেন ফি’র অতিরিক্ত কোনো চার্জ ধার্য করতে পারবে না। এ হিসাবটি করা হয় শতাংশ হিসেবে নির্দিষ্ট কোনো অঙ্কে নয়। ফলে অপারেটররা রাজি হয়নি। তা শেষ পর্যন্ত গড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকে। বিষয়টির মিমাংসা না হওয়ায় সকালে বাংলাদেশ ব্যাংদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে জানানো হয়, আপাতত সেবাটি চালু হচ্ছে না। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, ‘কারিগরি ত্রুটির কারণে আন্তঃলেনদেনটি চালু করা যায়নি।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..