প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

পাট ছাড়া সব খাতেই লালবাতি জ্বলেছে

ব্যাপক দরপতনে

রুবাইয়াত রিক্তা: অস্থির পুঁজিবাজারের প্রতি কোনো আস্থা না থাকায় গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন ৩০০ কোটি টাকার নিচে নেমে গেছে। সূচক ও শেয়ারের দরও ক্রমাগত নিচে নামছে। ডিএসইএক্স সূচক ৪৮ পয়েন্ট কমে চার হাজার ৭০০ পয়েন্টের ঘরে। তারল্য সংকটে বাজারের এই ক্রান্তিকালে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও হাত গুটিয়ে বসে আছে। এতে করে গতকাল বাজারে ৭৭ শতাংশ কোম্পানি দর হারিয়েছে। নামমাত্র ১২ শতাংশ বা ৪১টি কোম্পানির দর বেড়েছে। ব্যাপক দরপতনে সব খাতেই লালবাতি জ্বলেছে। শুধু পাট খাতে কোনো কোম্পানি দরপতনে ছিল না। সিরামিক, কাগজ ও মুদ্রণ, টেলিযোগাযোগ খাত শতভাগ নেতিবাচক ছিল।

ডিএসইর মোট লেনদেনের ৪০ শতাংশ ছিল প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন খাতে। বাকি খাতগুলোয় নামমাত্র লেনদেন হয়েছে। মোট লেনদেনের ২২ শতাংশ হয় প্রকৌশল খাতে। এ খাতে ৮৪ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। ২৫ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়ে ন্যাশনাল টিউবস লেনদেনের শীর্ষে উঠে এলেও আট টাকা ২০ পয়সা দরপতন হয়। মুন্নু স্টাফলার্সের সাড়ে ৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দরপতন হয় প্রায় ৯৫ টাকা। এছাড়া তিন শতাংশের বেশি বেড়ে বিডি ল্যাম্পস ও ওয়েস্টার্ন মেরিন দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে উঠে আসে। ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয় ১৮ শতাংশ। এ খাতে ৭২ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। ওয়াটা কেমিক্যালের সাড়ে ১৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়, দরপতন হয় ১৮ টাকা ৬০ পয়সা। সিলকো ফার্মার আট কোটি ৭১ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দরপতন হয় এক টাকা ৩০ পয়সা। লেনদেনের শীর্ষ দশের মধ্যে থাকা একমাত্র স্কয়ার ফার্মার সাড়ে আট কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে চার টাকা ৯০ পয়সা। কোম্পানিটি দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের তালিকায় অবস্থান করে। বীকন ফার্মার সাত কোটি টাকা লেনদেন হয়, দরপতন হয় ৪০ পয়সা। এছাড়া ফার্মা এইডের দর চার শতাংশ, এমবি ফার্মার দর দেড় শতাংশ বেড়ে কোম্পানি দুটি দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে উঠে আসে।

বস্ত্র খাতে ৮১ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। আট শতাংশ বেড়ে এমএল ডায়িং ও প্রায় ছয় শতাংশ বেড়ে রহিম টেক্সটাইল দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে উঠে আসে। ব্যাংক খাতে ৫৩ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। দরবৃদ্ধির শীর্ষ আটে উঠে আসে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। এছাড়া সিএপিএম আইবিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে উঠে আসে। টেলিযোগাযোগ খাতের বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস্রে সোয়া ১২ কোটি টাকা লেনদেন হলেও এক টাকা দরপতন হয়। এ খাতের অন্য কোম্পানি গ্রামীণফোনের দর কমেছে সাত টাকা; যা সূচকের বড় পতনে ভূমিকা রেখেছে। বাকি খাতগুলোও ব্যাপক দরপতনে ছিল।  

সর্বশেষ..