ব্যাসেল-৩ পরিপালনে ইসলামি ব্যাংকিং

ড. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা:

(গত সংখ্যার পর, দ্বিতীয় অংশ):

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ধনী ব্যক্তির (ঋণ আদায়ে) গড়িমসি করা জুলুম। (বোখারি শরিফ হাদিস নং-২৪০০)। আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত নবী (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ীরা (আখিরাতে) নবীগণ, সিদ্দীকগণ (সত্যবাদীগণ) ও শহীদগণের সঙ্গে থাকবে। (জামে আত-তিরমিজি হাদিস নং-১২০৯)।

ব্যাংকের প্রধান কাজ হলো, আমানতকৃত অর্থ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে ঋণ বা বিনিয়োগ করার মাধ্যমে মুনাফা অর্জন। যে কোনো দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে উৎপাদনশীল শিল্প-কারখানাগুলো, যারা আমদানি ও রপ্তানির মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে। সামাজিক কল্যাণ সাধন ও জাতীয় আয় বৃদ্ধির জন্য ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচ্ছন্ন ও নিখুঁত হওয়া জরুরি। সে লক্ষ্যে আমাদের দেশের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রম বৃদ্ধি করা সময়ের দাবি। ব্যবসায়ীদের মধ্যে সততা ও নৈতিকতার গুণ সৃষ্টি করা ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। প্রচলিত ব্যাংকিং ধারায় ওইসব কাজ করা জরুরি নয়। কারণ প্রচলিত ব্যাংকগুলো যে কোনো খাতে বিনিয়োগে আইনগত কোনো বাধা নেই। যার ফলে প্রচলিত ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত ঋণ বা বিনিয়োগে ঝুঁকির পরিমাণ বেশি থাকে। অন্যদিকে শরিয়াহ সম্মত ব্যাংকিং দ্ধারা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকির পরিমাণ তুলনামূলক কম। উপরোক্ত হাদিস দুটি পর্যালোচনা করলে এ কথা আমরা বলতে পারি, সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিনিয়োগ করলে জাতীয় আয় বৃদ্ধি পাবে; অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ হ্রাস পাবে। আমাদের দেশের অনেক ব্যবসায়ী সামর্থ্য থাকার পরও যথাসময়ে ঋণের বা বিনিয়োগের টাকা পরিশোধ করেন না। ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে, সেই সঙ্গে ক্রেডিট বা বিনিয়োগ ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ব্যাসেলএর মৌলিক কাঠামো এর প্রয়োগ: ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততার পরিপ্রেক্ষিতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা মোকাবিলার জন্য ১৯৭৪ সালে গঠিত ‘ব্যাংকিং কমিটি অব ব্যাংকিং সুপারভিশন (বিসিবিএস)’ নামে ব্যাসেল কমিটি ১৯৮৮ সালের জুলাই মাসে ব্যাসেল-১ মূলনীতি জারি করে, যা ভারত ১৯৯৯ সালে গ্রহণ করে। এই ব্যাসেল আদর্শ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রথমে ব্যাসেল-১ বাস্তবায়ন করা হয়। ১৯৮৮ সাল থেকে ২০০৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের তুলনায় ন্যূনতম মূলধন প্রয়োজনীয়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় ৮ শতাংশ। ২০০৩ সালের ১ জুলাই থেকে ২০০৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তা বাড়িয়ে ৯ শতাংশ করা হয়। ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ হার ১০ শতাংশ করা হয়। ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ১০ শতাংশ মূলধনের সঙ্গে আরও ২.৫০% মূলধন বাড়ানোর জন্য নীতিমালা করা হয়। অতিরিক্ত ২.৫০% মূলধনের বিশেষ নাম দেয়া হয়েছে তা হলো Capital Conservation Buffer. এটা নির্ধারিত হবে জরংশ Risk Weighted Asset বিপরীতে। সে ক্ষেত্রে ২.৫০%কে ৪ দিয়ে ভাগ করে প্রত্যেক বছর ০.৬২৫ শতাংশ হারে পর্যায়ক্রমে বাড়াতে হবে। যদি কোনো ব্যাংকের ক্যাপিটালের নিচে নেমে যায়, তবে ব্যাংক সে বছর কোনো প্রকার ডিভিডেন্ট প্রদান করতে পারবে না।

ব্যাসেল-১ অনুযায়ী Credi: কে শুধু ব্যাংকের Risky Asset বিবেচেনায় নিয়ে তার বিপরীতে Minimum Capital Requirement নির্ধারণ করা হয়। যার প্রধান ফোকাস ছিল ঋণ বা ক্রেডিট ঝুঁকি হ্রাস করা এবং সে লক্ষ্যে ন্যূনতম মূলধন সংরক্ষণ করা।

ব্যাসেল-১-এর গুরুত্ব: ব্যাসেল-১ ছিল বিসিবিএসের প্রথম চুক্তি। প্রধানত একটি ব্যাংকের সম্পদ ঝুঁকির ভিত্তিতে শ্রেণিবিভাগ করে ক্রেডিট ঝুঁকির হার নির্ধারণ করা ছিল অন্যতম লক্ষ্য। বিসিবিএস প্রবিধানের আইনি শক্তি নেই। সদস্য রাষ্ট্রগুলো ব্যাসেল-১ পরিপালনে তাদের নিজ নিজ দেশে বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকে। ব্যাসেল-১ মূলত ন্যূনতম মূলধন প্রয়োজনীয়তার অনুপাত ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ৮% সংরক্ষণের জন্য ১৯৯২ সালের শেষের দিকে বাস্তবায়নের জন্য আহ্বান জানায়।

ব্যাসেল-১-এর সুবিধা: ব্যাসেল-১-এর মূলনীতি হলো ভোক্তা এবং প্রতিষ্ঠান উভয়ের জন্য ঝুঁকি হ্রাস করা। যেহেতু ব্যাসেল-২ ব্যাসেল-১কে ছাড়িয়ে যায়নি, তাই অনেকগুলো ব্যাংক ব্যাসেল-৩ সংযোজন দ্বারা পরিপূরক মূল ব্যাসেল-১ কাঠামোর অধীনে কাজ শুরু করে। ব্যাসেল-১ বেশিরভাগ ব্যাংকের ঝুঁকি প্রোফাইল কমিয়ে দেয়; ফলে ২০০৮ সালে সাব-প্রাইম বন্ধকি পতনের পর যে ব্যাংকগুলো যথার্থভাবে অবিশ্বস্ত ছিল তাদের বিনিয়োগ ফেরত নিয়ে যায়। ব্যাসেল-১ ব্যাংকের সেই অতি প্রয়োজনীয় মূলধন প্রবাহের পেছনে চালিকাশক্তি ছিল। ব্যাসেল-১-এর সম্ভবত সবচেয়ে বড় অবদান ছিল যে, এটি ব্যাংকিং প্রবিধান এবং সর্বোত্তম অনুশীলনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি বাড়ানো, যা ব্যাংক, ভোক্তা এবং তাদের নিজ নিজ অর্থনীতিকে রক্ষা করে এমন অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের পথ সুগম করে।

ব্যাসেল-১-এর জন্য প্রয়োজনীয়তা: ব্যাসেল-১ ক্রেডিট ঝুঁকিকে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে, যা শতকরা হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ: ০%, ১০%, ২০%, ৫০% ও ১০০%। একটি ব্যাংকের সম্পদ ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতার প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে শ্রেণিভুক্ত করা হয়। শ্রেণিগুলো হলো: ০% ঝুঁকি শ্রেণিতে রয়েছে নগদ, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সরকারি ঋণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নের জন্য কোনো সংস্থা অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) সরকারের ঋণ নিয়ে গঠিত। খাতভিত্তিক ঋণ গ্রহীতার ওপর নির্ভর করে পাবলিক সেক্টরের ঋণ ০%, ১০%, ২০% বা ৫০% বিভাগে রাখা যেতে পারে। ২০% ঝুঁকি শ্রেণিতে রয়েছেÑডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ঋণ, ওইসিডি ব্যাংকের ঋণ, ওইসিডি সিকিউরিটিজ ফার্মের ঋণ, নন-ওইসিডি ব্যাংকের ঋণ (এক বছরের নিচে পরিপক্বতা), নন-ওইসিডি পাবলিক সেক্টরের ঋণ এবং নগদ সংগ্রহে। ৫০% ঝুঁকি শ্রেণিতে রয়েছে আবাসিক বন্ধকি। ১০০% ঝুঁকি শ্রেণিতে রয়েছে বেসরকারি খাতের ঋণ/বিনিয়োগ, নন-ওইসিডি ব্যাংকের ঋণ (এক বছরের বেশি পরিপক্বতা), রিয়েল এস্টেট, উদ্ভিদ ও সরঞ্জাম এবং অন্যান্য ব্যাংকে জারি করা মূলধন (শেয়ার, বন্ড ইত্যাদি)।

ব্যাসেল-১ অনুসারে, ব্যাংককে অবশ্যই তার ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের কমপক্ষে ৮% সমান মূলধন (টিয়ার-১ এবং টিয়ার-২) বজায় রাখতে হবে। এটি নিশ্চিত করে যে, ব্যাংকগুলো বাধ্যবাধকতা পূরণের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ মূলধন ধরে রাখে। উদাহরণস্বরূপ যদি একটি ব্যাংকের ৪০০০ মিলিয়ন টাকার ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থাকে, তাহলে কমপক্ষে ৩২০ মিলিয়ন টাকার (৮% হিসাবে) ন্যূনতম মূলধন বজায় রাখা প্রয়োজন। টিয়ার-১ মূলধন ব্যাংকের সবচেয়ে তরল এবং প্রাথমিক তহবিল উৎস। টিয়ার-২ মূলধন হলো কম তরল সম্পন্ন মূলধন, ঋণ-ক্ষতি এবং পুনর্মূল্যায়ন মজুদ ও অপ্রকাশিত মজুদ।

ব্যাসেল পরিপালনে সাধারণত টিয়ার-১ মূলধন ও টিয়ার-২ মূলধন, যেসব উপাদান নিয়ে গঠিত হয় তার সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।

টিয়ার-১ মূলধন (কোর ক্যাপিটাল): টিয়ার-১ মূলধন ব্যাংকের রিজার্ভে থাকা মূল মূলধনকে বোঝায় এবং ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গঠিত তহবিল। টিয়ার-১ ক্যাপিটালের দুটি উপাদান রয়েছে: কমন ইক্যুইটি টিয়ার-১ এবং অতিরিক্ত মূলধন। কমন ইক্যুইটির মধ্যে রয়েছেÑসম্পূর্ণ পরিশোধিত মূলধন, বিধিবদ্ধ সঞ্চিতি, অ-পরিশোধেয় শেয়ার প্রিমিয়াম হিসাব, সাধারণ সঞ্চিতি, অবণ্টিত মুনাফা, মাইনোরিটি ইন্টারেস্ট ইন সাবসিডিয়ারিজ, অপুঞ্জীভূত অপরিশোধযোগ্য অগ্রাধিকার শেয়ার এবং লভ্যাংশ সমতাকরণ হিসাব। এখান থেকে বাদ যাবে সুনামের বহিঃমূল্য ও অস্পর্শনীয় সম্পত্তি ইত্যাদি (যদি থাকে)। টিয়ার-১ মূলধন দ্বারা যে কোনো ব্যাংকের অর্থনৈতিক অবস্থা পরিমাপ করা যায়। টিয়ার-১ মূলধন একটি ব্যাংকের ইকু্যুইটি মূলধন এবং প্রকাশিত মজুদ বোঝায়। এটি ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততা পরিমাপ করতে ব্যবহƒত হয়। টিয়ার-১ মূলধন অনুপাত একটি ব্যাংকের ইক্যুইটি মূলধনকে তার মোট ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের সঙ্গে তুলনা করে। এগুলো হলো ব্যাংকের সম্পদের সংকলন, যা ক্রেডিট ঝুঁকির ওপর নির্ভর করে। ব্যাসেল-১-এর অধীনে যে ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করে তাদের অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের কমপক্ষে ৪% টিয়ার-১  ন্যূনতম মূলধন বজায় রাখতে হবে।

টিয়ার-২ মূলধন (সাপ্লিমেন্টারি ক্যাপিটাল): টিয়ার-২ ক্যাপিটাল শব্দটি ব্যাংকের প্রয়োজনীয় রিজার্ভের একটি উপাদানকে বোঝায়। টিয়ার-২ একটি ব্যাংকের মূলধনের দ্বিতীয় বা পরিপূরক টিয়ার হিসেবে মনোনীত। সাধারণ প্রভিশন (অশ্রেণিকৃত বিনিয়োগ এবং অব ব্যালান্সশিট আইটেম), সম্পদের পুনর্মূল্যায়িত সঞ্চিতি ৫০% পর্যন্ত, সিকিউরিটিজের পুর্নমূল্যায়িত সঞ্চিতি ৫০% পর্যন্ত, ইক্যুইটির পুনর্মূল্যায়িত সঞ্চিতি ১০% পর্যন্ত, অন্যান্য অগ্রাধিকার শেয়ার, পারপিচুয়াল সাব-অর্ডিনেট ডেট (গচই) কোর ক্যাপিটালের ৩০% এবং অন্যান্য (যদি থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত) নিয়ে টিয়ার-২ মূলধন গঠিত। টিয়ার-২ ক্যাপিটাল তুলনামূলকভাবে দুর্বল এবং কম গুণগত মান সম্পূর্ণ হওয়ায় এবং তা পরিমাপ করা কঠিন হওয়ায় টিয়ার-২ ক্যাপিটালকে Supplimentary CapitalI বলা হয়। ব্যাংকের মূলধনের প্রয়োজনীয়তাগুলো আন্তর্জাতিক ব্যাসেল চুক্তি অংশ হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এই সুপারিশের সেটটি ১৯৮০ দশকের দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাংক তত্ত্বাবধানের ব্যাসেল কমিটি দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল। প্রবিধান অনুসারে ব্যাংকগুলোকে তাদের দায়বদ্ধতা পূরণের জন্য হাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ অথবা তরল সম্পদ বজায় রাখতে হয়। ব্যাসেল-১-এর অধীনে যে ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করে তাদের অবশ্যই তাদের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের কমপক্ষে ৪% টিয়ার-২ ন্যূনতম মূলধন বজায় রাখতে হবে।

ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ (RWA):  ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ বলতে সাধারণত যে ঋণ বা বিনিয়োগ ব্যাংক বা কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে আদায় করতে হলে ঝুঁকি নিতে হয় তাকে বুঝায়। সমস্ত অনাদায়ী ঋণই হলো ঝুঁকিপ্রবণ সম্পদ। অতএব ব্যাংকের মোট সম্পদের মধ্যে যে সম্পদগুলো ঝুঁকি বহন করে তার সমষ্টিকে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ বলে।  

মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত (CAR):  মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত হলো এমন একটি অনুপাত, যার দ্বারা কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তার যে দায়সমূহ আছে, তা পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই, ঋণ ঝুঁকির প্রতি ব্যাংকের সাড়া এবং অপারেশনাল ঝুঁকির প্রতি ব্যাংকের সাড়া দেয়ার সক্ষমতা যাচাই করা যায়। মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত এর মান যে ব্যাংকের যত বেশি, সেই ব্যাংকের সম্ভাব্য ক্ষতি বা ঝুঁকি এড়ানোর সক্ষমতা তত বেশি বলে ধরে নেয়া হয়। ফলে ব্যাংকের দেউলিয়া হওয়ার সম্ভাবনা যেমন কম থাকে, তেমনি আমানতকারীদের আমানত হারানোর সম্ভাবনাও কম থাকে। রেগুলেটরি ক্যাপিটালকে (টিয়ার-১ ও ২) মোট ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ দিয়ে ভাগ করে ১০০ দিয়ে গুণ করলে মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত নির্ণয় করা হয়। (চলবে)

অফিসার

ইসলামি ব্যাংকিং ডিভিশন

ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড


সর্বশেষ..