প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ব্রাজিলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চলতি বছরের নভেম্বরে ব্রাজিলে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কমেছে। ভোক্তামূল্য পরিমাপকারী আইপিসিএ সূচক গত এক বছরে ছয় দশমিক ৯৯ শতাংশ বেড়েছে। আগের মাসে এ সূচক সাত দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়েছিল। ২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মতো সাত শতাংশের নিচে নামলো এ সূচক। ফলে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার কমানোর বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে যেতে পারবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স।

রয়টার্সের জরিপে নভেম্বরে ব্রাজিলের মূল্যস্ফীতি সাত দশমিক শূন্য আট শতাংশের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। গত মাসে আগের মাসের তুলনায় পণ্যের দাম বেড়েছে দশমিক ১৮ শতাংশ। এটাও রয়টার্সের পূর্বাভাসের চেয়ে কম।

আগামী বছর জানুয়ারিতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৫০ বেসিস পয়েন্টে সুদহার কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। গত আট দশকের মধ্যে সম্প্রতি দেশটির অর্থনীতিতে যে মন্দা চলছে, তা কাটিয়ে উঠতে মূল্যস্ফীতি ও সুদের নিম্নহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে আগের প্রান্তিকের চেয়ে ব্রাজিলের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) কমেছে দশমিক আট শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে জিডিপি কমেছে দুই দশমিক ৯ শতাংশ। এ নিয়ে দেশটিতে টানা সাত প্রান্তিকে জিডিপি কমলো। ব্রাজিলের স্টেট স্ট্যাটিসটিক ইনস্টিটিউট (আইবিজিই) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে, দেশটির অর্থনীতির সবগুলো খাতেই তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি কমেছে। ওই সময় আগের প্রান্তিকের তুলনায় কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে এক দশমিক চার শতাংশ, শিল্প খাতে কমেছে এক দশমিক তিন শতাংশ এবং টারশিয়ারি খাতে কমেছে দশমিক ছয় শতাংশ।

এছাড়া আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে কৃষি খাতে ছয় শতাংশ, শিল্প খাতে দুই দশমিক ৯ শতাংশ ও সেবা খাতে দুই দশমিক দুই শতাংশ প্রবৃদ্ধি কমেছে।

২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্রাজিলের অর্থনীতি গড়ে চার শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ব্রাজিলের অর্থনীতি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চার দশমিক চার শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। ওই সময় কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে পাঁচ দশমিক ছয় শতাংশ, শিল্প খাতে পাঁচ দমমিক চার শতাংশ ও সেবা খাতে কমেছে ১৩ দশমিক পাঁচ শতাংশ।

এছাড়া তৃতীয় প্রান্তিকে আগের প্রান্তিকের তুলনায় ব্রাজিলে বিনিয়োগ কমেছে তিন দশমিক এক শতাংশ এবং আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে কমেছে ১৩ দশমিক পাঁচ শতাংশ।

এমন পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি হ্রাসকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।