বিশ্ব বাণিজ্য

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের সব ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিকে যাত্রীরা

বৈমানিক ধর্মঘট

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বেতন নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে গতকাল সোমবার থেকে বিশ্বব্যাপী ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটে নেমেছেন ব্রিটেনের উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের (বিএ) বৈমানিকরা। এ ধর্মঘটের কারণে প্রায় সব ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ দুই দিনে বিশ্বব্যাপী এক হাজার ৭০০ ফ্লাইট চলাচলের কথা ছিল। এর মধ্যে গতকাল সোমবারই ছিল ৮৫০টি ফ্লাইট, যার সব বাতিল করা হয়েছে। এতে হাজার হাজার যাত্রী বিপাকে পড়েছেন। খবর: রয়টার্স।
প্রথমবারের মতো কঠিন পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়ে গত মাসে কর্তৃপক্ষকে দেওয়া এক বার্তায় সেপ্টেম্বরে তিন দিনের ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছিল ব্রিটিশ এয়ারলাইন পাইলটস অ্যাসোসিয়েশন (বিএলপিএ)। এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ বলেছে, বিএলপিএর ধর্মঘটের কারণে আমাদের গ্রাহকদের হতাশা ও বিড়ম্বনা আমরা বুঝতে পারি। বেতন নিয়ে বিবাদ সমাধানে কয়েক মাস ধরে চেষ্টা করার পরও তার এমন পরিণতিতে আমরা অত্যন্ত দুঃখিত। বলা হয়, ‘দুর্তাগ্যবশত, কোন বৈমানিকরা ধর্মঘটে যাবেন, সে বিষয়ে বিএলপিএ বিস্তারিত না জানানোয় কারা কাজে আসবেন তা আমাদের পক্ষে অনুমান করার উপায় ছিল না। তাই শতভাগ ফ্লাইট বাতিল করা ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প ছিল না।’
গতকাল ও আজ মঙ্গলবারের ধর্মঘটের পর দ্বন্দ্বের সমঝোতা না হলে ২৭ সেপ্টেম্বর আরেক দফা ধর্মঘটের ঘোষণা রয়েছে বৈমানিকদের। তবে উভয়পক্ষই আলোচনায় আগ্রহী বলে জানিয়েছে। বিএলপিএর দাবি, মুনাফা থেকে বৈমানিকদের আরও বেশি ভাগ দেওয়া উচিত ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের। অন্যদিকে কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমান বেতন ন্যায্য হওয়ায় ধর্মঘট বেআইনি।
ধর্মঘটের কারণে হাজার হাজার গ্রাহককে বিকল্প ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে হয়। ধর্মঘটের আগে যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগের ধরন নিয়ে সমালোচনার মুখেও পড়েছে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ।
বিএলপিএর সাধারণ সম্পাদক ব্রায়ান স্ট্র–টন বলেন, ‘৯ মাস ধরে সমঝোতার চেষ্টার পরও দুঃখজনকভাবে আমাদের ধর্মঘটে নামতে হয়েছে, কারণ ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ আপসে রাজি নয়। তবে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি উপায় বের হবে বলে আমরা আশাবাদী।’
গত সপ্তাহে বিএলপিএর দেওয়া একটি সমঝোতা প্রস্তাবকে ‘শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে তৈরি প্রস্তাব’ আখ্যা দিয়ে তাতে সৎ উদ্দেশ্য ছিল না বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছে সংস্থাটি। বিএলপিএ বলছে, এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান না করে কর্তৃপক্ষ যদি এটা নিয়ে আলোচনায় রাজি হতো, তাহলেই তারা এ সপ্তাহের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিত।
উভয় পক্ষকে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের এক মুখপাত্র।
ফ্লাইট বাতিলের বিষয়টি ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ যথাযথভাবে অবহিত করেনি বলে যাত্রীদের অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে ব্রিটেনের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএ)। এক্ষেত্রে গ্রাহকদের অধিকারগুলো জানানোর দায়িত্বের কথাও সংস্থাটিকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ধর্মঘট চলাকালে বিমান পরিবহন সংস্থাকে অবশ্যই ফ্লাইটের অর্থ ফেরত বা সমমানের আয়োজনে যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা বা পরবর্তী তারিখে নতুন ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে হবে।

সর্বশেষ..