বিশ্ব বাণিজ্য

ব্রিটেনের অর্থনীতিতে বরিস জনসনের তিন চ্যালেঞ্জ

শেয়ার বিজ ডেস্ক : ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের দল কনজারভেটিভ পার্টি। এবার ক্ষমতায় এসে আগামী ৩১ জানুয়ারি ব্রেক্সিট কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর কনজারভেটিভ সরকার। তবে শুধু ব্রেক্সিটই নয়, বাজেটসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু অর্থনৈতিক ইস্যু নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তও নিতে হবে তার সরকারকে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি গত শুক্রবার এক প্রতিবেদনে বরিস জনসনের সামনে তিন চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরেছে। খবর: বিবিসি।

ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সম্পর্ক ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে। এখন বরিসের জন্য বড় প্রশ্ন: আগামী মাসে ব্রেক্সিটের পর এ সম্পর্ক কোন দিকে নিয়ে যাবেÑতা ঠিক করা।

ব্রেক্সিটের পক্ষে ব্রিটেনের জনগণের এ বিপুল সমর্থন দেখে বোঝা যাচ্ছে যে, ইইউ’র বাণিজ্যনীতির বাইরে গিয়ে নতুন বাণিজ্যনীতি করতে পারে নতুন সরকার। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার মতো বিনা শুল্কে বাণিজ্যচুক্তি অনুসরণ করবে কি না, তা দেখার বিষয়।  যদি তা-ই হয়, তবে ছোটখাটো বাণিজ্য সংঘাত হওয়া আশ্চর্য নয়। এর মানে হলো, সমগ্র আইরিশ সাগর দিয়ে ইউরোপজুড়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানির জন্য প্রতিটি চেকপোস্টে শুল্ক দিতে হবে ব্রিটেনকে। আর এ নতুন বাণিজ্যনীতি করতে গিয়ে বিটেনকে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ আনতে হবে। অর্থাৎ, শ্রমিকদের সুষ্ঠু অধিকার নিশ্চিত, পরিবেশের সুরক্ষা এবং কর ও শুল্ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

ইইউ’র সঙ্গে করা বাণিজ্যনীতির চেয়েও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যনীতির দিকে বেশি মনোযোগী ব্রিটেন। তাদের অর্থনৈতিক মডেল যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যায় না, তবুও এ মডেলকে অনুসরণ না করে বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ার মতো যথেষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা বরিস জনসনের রয়েছে।

আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য বাণিজ্য সম্পর্কগুলোকে তুলে ধরতে চাইবেন, আর এটাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বরিস জনসনের বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তোলার শ্রেষ্ঠ সময়।

ব্রিটিশ কনজারভেটিভ দলের বৈশিষ্ট্য কিছুটা পাল্টে গেছে। কারণ, এর অধিকাংশ ভোটার খনি এলাকা, উৎপাদনশীল এলাকাগুলোর, অর্থাৎ শিল্পায়ন হ্রাসের ফলে ক্ষতিগ্রস্তের শিকার। তাই নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে বিশাল জনগোষ্ঠীর সমর্থনকে সম্মান জানিয়ে তাদের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।

শুধু ব্রেক্সিটের জন্য বরিসকে ভোট দেননি ব্রিটেনের ভোটাররা। বরং স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো, অবকাঠামোগত উন্নয়ন আর বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবিও রয়েছে তাদের। এ দাবিগুলোও পূরণ করতে হবে বরিস প্রশাসনকে। আর এ জন্য  প্রয়োজনে তাকে কঠিন সিদ্ধান্তও নিতে হতে পারে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..