প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

ব্রিটেনে কনজারভেটিভ পার্টির বড় জয়

শেয়ার বিজ ডেস্ক : ব্রিটেনে সাধারণ নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের দল কনজারভেটিভ পার্টি। অর্থাৎ তিনিই ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটে থাকছেন। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বরিস ভোটের এ ফলাফলকে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের জন্য ‘নতুন শক্তিশালী ম্যান্ডেট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। খবর: বিবিসি ও রয়টার্স। 

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো ৬৪৯টি আসনের চূড়ান্ত ফল জানিয়েছে; তার মধ্যে রক্ষণশীলরা একাই জিতেছে ৩৬৪টি। লেবার পার্টি ২০৩, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি ৪৮, লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা ১১ এবং আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি) জয়লাভ করেছে আটটি আসনে। চলতি বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচনে নাইজেল ফারাজের ব্রেক্সিট পার্টি চমক দেখালেও, বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে তারা কোনো আসনই জিততে পারেনি। বিবিসি বলছে, জনসনের নেতৃত্বে এবার কনজারভেটিভ পার্টি ১৯৮৭ সালের পর সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জিতেছে, লেবার করেছে ১৯৩৫ সালের পর সবচেয়ে খারাপ ফল।

ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির ভোট এবার গড়ে এক দশমিক দুই শতাংশ বেড়েছে, অন্যদিকে লেবার পার্টিও ভোট গড়ে সাত দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ জয়ের ফলে পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট চুক্তি পাস করিয়ে নিতে সক্ষম হবেন বরিস জনসন। পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট নিয়ে সৃষ্ট যে অচলাবস্থার মধ্যে জনসনের প্রধানমন্ত্রিত্ব শুরু হয়েছিল, এবার তার অবসান ঘটবে।

পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় এবং এমপিদের বিরোধিতার কারণে এ পর্যন্ত ব্রেক্সিট কার্যকর করতে পারেনি কনজারভেটিভরা। এ অচলাবস্থা কাটাতেই প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আগাম নির্বাচন ডেকেছিলেন।

এ পরিস্থিতিতে বরিস জনসনের নেতৃত্বে  ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়ার সিদ্ধান্ত উল্টে দেওয়ার মতো আরেকটি গণভোট-এই দুইয়ের মধ্যে একটি বেছে নিতে বৃহস্পতিবার পাঁচ বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো সাধারণ নির্বাচনে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছিল ব্রিটেনের নাগরিকরা।

বিবিসি লিখেছে, ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় আসছে আগামী সোমবার সামান্য রদবদল আসতে পারে সরকারে। আর তারপর আগামী শুক্রবার পার্লামেন্টে এমপিদের সামনে তোলা হবে ব্রেক্সিট বিল। পার্লামেন্টের অনুমোদন পেলে নির্ধারিত ৩১ জানুয়ারিতেই ইইউ থেকে ব্রিটেনের বিচ্ছেদ ঘটবে।

এমপিদের বিরোধিতায় ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করতে না পেরে এ বছরই প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হওয়া টোরি নেতা থেরেসা মে নির্বাচনে জয়ের খবরে বলেছেন, পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় তিনি খুব খুশি।

স্কটল্যান্ডে এবারের নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (এসএনপি) । ৫৯টি আসনের মধ্যে ৪৮টিই জিতে নিয়েছে নিকোলা স্টারজিওনের দল, যা গতবারের চেয়ে ১৩টি বেশি।  এবার ৪৫ দশমিক এক শতাংশ ভোট পড়েছে এসএনপির পক্ষে, যা আগেরবারের চেয়ে আট দশমিক দুই শতাংশ বেশি।

এসএনপি নেতা নিকোলা স্টারজিওন বলেছেন, ভোটের এ ফল স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার প্রশ্নে দ্বিতীয় গণভোট আয়োজনের পক্ষে একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।

ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টির জয়ের পর আগামী মাসের মধ্যে ব্রেক্সিট সম্পন্ন এবং ভোটারদের আস্থার প্রতিদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। সেইন্ট আইভসের একটি বাদে বাকি আসনের ফল চূড়ান্ত হওয়ার পর বিরোধীদের চেয়ে বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা রক্ষণশীল দলের এ শীর্ষ নেতা বলেছেন, জনরায়ের প্রত্যাশা মেটাতে তিনি একটি ‘জনগণের সরকার’ গঠন এবং ‘সার্বক্ষণিক কাজ’ করবেন।

লেবার পার্টির অনেক সমর্থক বৃহস্পতিবার কনজারভেটিভ পার্টিকে ভোট দিয়েছে দাবি করে জনসন সেসব ভোটারদেও প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হয়তো আগামীবারই আপনারা ফের লেবারেই ফিরে যেতে চাইবেন; যদি তাই হয়, তাও এবার আমার ওপর আস্থা রাখায় আমি কৃতজ্ঞ, আমি আপনাদের সমর্থনকে ব্যর্থ হতে দেবো না।  আমাকে ভোট দিয়ে আপনারা যে ঠিক কাজটিই করেছেন, তা নিশ্চিতে আমি সার্বক্ষণিক, দিন রাত কাজ করার লক্ষ্য ঠিক করেছি, যেন ভবিষ্যতেও আপনারা আমাকেই সমর্থন করেন।’

ব্রেক্সিট কেন্দ্রিক আরেকটি গণভোট আয়োজনের ‘যে ঘৃণ্য হুমকি’ সৃষ্টি হয়েছিল, এবারের নির্বাচন তাতে ইতি টানবে বলেও প্রত্যাশা তার। তিনি বলেন, আমরা নির্ধারিত সময় ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই ব্রেক্সিট সম্পন্ন করব, কোনো যদি, তবে, কিন্তু নেই।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..