বিশ্ব বাণিজ্য

ব্রিটেনে সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চলতি বছরের অক্টোবরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ব্রিটেনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে দশমিক সাত শতাংশ। ২০১২ সালের মার্চের পর এটিই দেশটির সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি। এ সময়ে সেবা খাতে দেশটির প্রবৃদ্ধি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। খবর: বিবিসি।

তথ্যমতে, অক্টোবরে শেষ হওয়া প্রান্তিকে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল ছিল। যদিও এ প্রান্তিকে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায়  সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে দশমিক দুই শতাংশ। এ সময় ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে দশমিক সাত শতাংশ সংকুচিত এবং নির্র্মাণ খাতে প্রবদ্ধি কমেছে দশমিক তিন শতাংশ। আগামী ১২ ডিসেম্বর আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রধান দলগুলো যখন প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিচ্ছে, ঠিক এ সময়ে দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চিত্র উঠে আসল।

২০১৮ সালে ব্রিটেনের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে এক দশমিক চার শতাংশ। এর আগের বছর একই সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল এক দশমিক আট শতাংশ। ২০১২ সালের পর গত বছরই ছিল প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে শ্লথগতি। কারখানা উৎপাদন এবং গাড়ি উৎপাদন হ্রাস প্রবৃদ্ধির শ্লথগতির কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম।

ওএনএসের জিডিপি প্রধান রব কেন্ট স্মিথ বলেন, সর্বশেষ প্রান্তিকে গাড়ি এবং ইস্পাত উৎপাদসহ ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে প্রবৃদ্ধি কম হওয়ায় সার্বিকভাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতি ছিল। এছাড়া নির্মাণ খাতও ছিল শ্লথগতিতে। তবে সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য ও আইটি খাতেও গত প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ইতিবাচক।

ব্রেক্সিট পরবর্তী চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ব্রিটেনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। অনেক প্রতিষ্ঠানের রফতানি কমে গেছে। এছাড়া নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে অনেক প্রতিষ্ঠান। ২০১৮ সালে ৪২টি প্রতিষ্ঠান ব্রিটেন থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নেদারল্যান্ডসে চলে গেছে। আরও ২৫০টি প্রতিষ্ঠান দেশটিতে তাদের কার্যক্রম স্থানান্তরের জন্য আলোচনা চালাচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নেদারল্যান্ডসের কর্তৃপক্ষ। ব্রেক্সিট পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়তে হতে পারে এ ভয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যবসা লন্ডন থেকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো ব্যবসা সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ পাসপোর্টের অধিকার না থাকায় ইউরোপের অনেক ব্যবসায়ী আর সহজে ব্রিটেনে আসতে চাইবে না বা পারবে না। আর ব্যাংকগুলোর চলে যাওয়া মানেই তাদের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সমেত চলে যাওয়া।

অ্যাকাউন্টেন্সি ফার্ম ডেলয়েট এক জরিপে বলেছে, তারা বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা (সিএফও) এর মতামতা নিয়েছেন। এতে মাত্র ১৩ শতাংশ ব্রেক্সিট পরবর্তী ব্যবসা নিয়ে আশাবাদি। গত জুলাইয়ে এ হার ছিল ২৪ শতাংশ। অর্থাৎ ক্রমেই ব্যবসায়ীরা নিরাশ হচ্ছেন। এছাড়া ৭৯ শতাংশ সিএফও মনে করেন ইইউ ত্যাগ করার কারণে ব্যবসায় দীর্ঘ মেয়াদে প্রভাব পড়বে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..